বোতল ভর্তি বাতাস বিক্রির কথা শুনেছেন কখনও? বোতল ভর্তি জল বা ঠান্ডা পানীয় বিক্রির কথা তো সবাই শুনেছি৷ কিন্তু বোতল ভর্তি বাতাস বিক্রির কথা শুনেছেন কখনও? না শুনে থাকলে নিজের কান এবং চোখকে একবার ঝালিয়ে নিন এবং আবার জানুন এবার বোতল ভর্তি ফ্রেশ এয়ার বিক্রি হবে চিনে৷ চিনে বিপুল জনসংখ্যার জন্য পরিষ্কার বাতাসের অভাব সেখানে বরাবরই, আর সেই অভাব পূরণ করতেই চিনকে পরিষ্কার পাহাড়ি বাতাস সাপ্লাই করবে কানাডা৷ মাত্র ২৮ ডলার খরচ করলেই মিলবে এই পরিষ্কার হাওয়া, এমনটাই জানানো হয়েছে চিনের তরফে৷ প্রসঙ্গত, এই ডিসেম্বর মাসেই পরিবেশে দূষণের পরিমান ভয়ংকর ভাবে বেড়ে যাওয়ায় রেড অ্যালার্ট জারি করে চিন৷ স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়৷ এর পাশাপাশি যান চলাচল ও কনস্ট্রাকশনের কাজ বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয় সরকারের তরফে৷ এই ধরনের দূষণ এবং তার থেকে তৈরি হওয়া ঘন ধোঁয়াশা চিনের পরিবেশকে জানুয়ারি মাস থেকেই ভুগিয়ে আসলেও বছরের শেষ দিকে সমস্যা চরমে ওঠে৷ এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতেই চিন স্বচ্ছ হাওয়া কেনার দিকে নজর দেয়৷ আপাতত ৫০০ বোতল হাওয়া চিনে পৌঁছে গিয়েছে৷ আরও ৭০০ বোতল হাওয়া চিনের মানুষকে ক্ষনিকের রেহাই দিতে পৌঁছে যাবে খুব দ্রুত৷
রোবট ট্রাক! রোবটের প্রচলন দিন দিন বেড়েই চলছে। শপিং মল থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারখানায় রোবটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। চাহিদা কমছে মানুষের। আর এবার জানা গেল খনির কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে রোবট। অস্ট্রেলিয়ায় একটি খনি কোম্পানি এ কাজ করছে। বিশ্বে খনির কাজে খ্যাতিসম্পন্ন রিও টিন্টো চালকহীন একটি ট্রাক রাস্তায় নামিয়েছে যেটি লোহা বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। এই গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ১২০০ কিলোমিটার দূরে। ধারণা করা হয়, রোবটের মাধ্যমে এই প্রথম এত বড় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা হচ্ছে। রিও টিন্টোর অপারেশন ম্যানেজার জোশ বেনেট জানান, তারা এরকম ৬৯টি ট্রাক চালু করেছেন। ২৪ ঘণ্টাই সেগুলো কাজ করছে। এজন্য প্রতি ট্রাকে বছরে ৫০০ ঘণ্টা কাজ বেশি করা হচ্ছে। আর এতে মূলধনও সঞ্চয় হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে মানুষ কম প্রয়োজন হওয়ায় আর্থিক খরচটাও কমে গেছে। কেবল গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে যা খরচ হচ্ছে। আগামী বছর খনির খনন কাজেও রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা তাদের আছে বলে তিনি জানান।
ওয়াটার ব্রিজ; নাম শুনে মনে হবে জার্মানির ম্যাগডেবার্গ জলসেতুটি পানি দিয়ে তৈরি। আসলে কিন্তু তা নয়। সেতুটি তৈরি হয়েছে স্টিল আর কংক্রিট দিয়ে। এটি তৈরিতে ২৪ হাজার মেট্রিক টন স্টিল আর ৬৮ হাজার ঘনমিটার কংক্রিট লেগেছে। তবে সেতুটি মোটরগাড়ি, ট্রেন বা অন্য কোনো স্থলযান চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়নি। বরং এই সেতু দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ, স্টিমার, লঞ্চ এসব জলযান চলাচল করে। এটি ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে চালু করা হয়। পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির সীমান্তে এলবা নদীর ওপরে তৈরি করা হয়েছে সেতুটি। শহরের নাম ম্যাগডেবার্গ। শহরটি বার্লিনের খুব কাছে। অ্যামিউজিং প্ল্যানেট ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৯১৮ মিটার দীর্ঘ ও ৩৪ মিটার প্রশস্ত এই সেতুর পানির গভীরতা ৪.২৫ মিটার। তাই এর ওপর দিয়ে সহজেই এসব জলযান চলাচল করতে পারে। ১৯১৯ সালে প্রথম এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারপর সেতুটির গুরুত্ব বুঝতে পেরে জার্মান সরকার ১৯৩৮ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু করে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অনেক দিন কেউই আর সেতুটি নিয়ে কিছু ভাবেনি। পরবর্তী সময় দুই জার্মানি একত্র হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে ফের এর কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হতে সময় লাগে ছয় বছর। প্রায় পঞ্চাশ কোটি ইউরো দিয়ে তৈরি সেতুটি বার্লিনের দুটি বিখ্যাত খাল এলবা-হাভেল ও মিটারল্যান্ড নামের দুটি ক্যানালকে যুক্ত করেছে। বলা যায়, পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানিকে যুক্ত করেছে। বাণিজ্যিক এই জাহাজগুলো রাইন নদীতে, বার্লিন বন্দরে সহজে পৌঁছাতে পারে। এতে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ কম পাড়ি দিতে হয়। তবে বাণিজ্যিক গুরুত্বের পাশাপাশি পর্যটকদের নজর কেড়েছে আজব এই ওয়াটার ব্রিজ। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক এই সেতু দেখতে এখানে ভিড় জমায়।