চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে গেছে একশ হাউজিং কোম্পানি
চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে গেছে একশ হাউজিং কোম্পানি
২০১৬-০২-০৩ ০২:৫৭:২৬
প্রিন্টঅ-অ+


জিটিসি প্রপার্টিজ লিমিটেড। ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে শুরু করে আবাসন ব্যবসা। অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২০টি প্রকল্প নির্মাণে হাত দিয়ে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তার মধ্যে সাতটি প্রকল্পের কাজ শেষ করে। বাকি প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই বন্ধ করে দেওয়া হয় এর কার্যক্রম। পরে ভূমি মালিকদের না জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোরশেদ বিল্লাহ পালিয়ে যান বিদেশে। শুধু জিটিসি নয়— গত তিন বছরে চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় একশ হাউজিং ও ডেভেলপার কোম্পানির কার্যক্রম। এমন অবস্থায় আবাসন শিল্পকে রক্ষা করতে সরকারি প্রণোদনা এবং আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

রিহ্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘চট্টগ্রামের আবাসন খাতের অবস্থা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে খারাপ। এরই মধ্যে অনেক কোম্পানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরে চট্টগ্রামের আবাসন শিল্পে আরও বড় ধরনের ধস নামবে। তাই এ শিল্প রক্ষা করতে বিশেষ প্রণোদনা দাবি করছি।’

ইউএইচপি লিভিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘এ শিল্পকে রক্ষা করতে হলে অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এ সুযোগ পেলে অচিরেই এ শিল্প ফের আলোর মুখ দেখবে।’

বন্ধ হওয়া একটি হাউজিং কোম্পানির পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েক বছর আগেও ফ্ল্যাট ও কমার্শিয়াল স্পেস বিক্রি খুব ভালো ছিল। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ক্রমান্বয়ে লোকসান দিতে হচ্ছে। এখন অনেক রেডি প্রকল্পেও ফ্ল্যাট অবিক্রীত রয়েছে। অর্থের অভাবে অনেক প্রকল্পের কাজে হাত দিতে পারিনি। তাই অনেক ভূমি মালিক ও ক্রেতা মামলা করেছেন। বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। ব্যাংকও মামলা করেছে। আরও লোকসানের ভয়ে কোম্পানির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রিহ্যাব চট্টগ্রাম কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এক সময় চট্টগ্রামে তিন শতাধিক ডেভেলপার ও হাউজিং কোম্পানি ছিল। এর মধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠান রিহ্যাব সদস্য। কিন্তু গত তিন বছরে লোকসানে পড়ে চট্টগ্রামের শতাধিক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি রিহ্যাব সদস্যও রয়েছে।

এ ছাড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম আরও শতাধিক প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হাউজিং কোম্পানিগুলোর প্রত্যেকটিই কয়েকটি করে প্রকল্পের কাজে হাতও দিতে পারেনি। এর মধ্যে কোনো প্রকল্পে পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। আবার অনেক কোম্পানি কোনো কোনো প্রকল্পের অর্ধেক কাজ বাকি রেখেই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। চট্টগ্রাম নগরে এভাবে অসমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে। চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াল মেকার্স লিমিটেড, গ্রিন ডায়মন্ড প্রপার্টিজ, আইল্যান্ড প্রপার্টিজ, আইকন প্রপার্টিজ, আর্টিস্টিক হোল্ডিং লিমিটেড, স্কেন হোল্ডিং লিমিটেড, মাই হোল্ডিং লিমিটেড, সেন্ড স্টোন, সিকিউর হোল্ডিং লিমিটেড, এলিট ল্যান্ড, করাডো বিল্ডার্স, হোম এক্সপার্ট লিমিটেড, জেদ্দা প্রপার্টিজ, পিরামিট বিল্ডার্স, শামীম রিয়েল এস্টেট, কক্সবাজার প্রপার্টিজ, ক্রেমলেন প্রপার্টিজ, গৃহই প্রপার্টি ম্যানেজম্যান্ট, প্রিমিয়ার প্রপার্টিজসহ প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান।

রিহ্যাব চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সেক্রেটারি বার্নাড বাবুল বারই বলেন, প্রায়ই আবাসন কোম্পানিগুলোর বিষয়ে অভিযোগ আসে। তবে রিহ্যাব সদস্য না হওয়ায় আমরা সব অভিযোগ গ্রহণ করতে পারি না। রিহ্যাব সদস্যদের অভিযোগ গ্রহণ করে তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
(মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর