একালের আইনস্টাইন সাবরিনা!
একালের আইনস্টাইন সাবরিনা!
২০১৬-০১-১৮ ১৫:৩৭:১৩
প্রিন্টঅ-অ+


১৪ বছর বয়সেই সাবরিনা বানিয়ে ফেলেছিলেন একক ইঞ্জিনের উড়োজাহাজ।

আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো উষ্কখুষ্ক চুল নয়, বরং সাজ পোশাকে তার পরিপাটিই, বয়স ২২ বছর, নাম সাবরিনা গনজালেস পস্তেরস্কি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাকে মনে করে একালের আইনস্টাইন! অবশ্য এটুকু বয়সে পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সব সমীকরণের উত্তর দিতে যে মেয়ে সদা স্বচ্ছন্দ, তাকে নিয়ে এমন বিশ্বাস করাই যায়!

নিজের উদ্ভাবনীক্ষমতা আর কল্পনা দিয়ে ১৪ বছর বয়সেই সাবরিনা বানিয়ে ফেলেছিলেন একক ইঞ্জিনের উড়োজাহাজ। এর পর সোজা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) ক্যাম্পাস অফিসে হাজির হয়েছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য এমআইটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার আবিষ্কৃত একক ইঞ্জিনের এ উড়োজাহাজটির স্বীকৃতি লাভ করা।

২০০৮ সালের ওই ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে আরো আট বছর। এমআইটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে সাবরিনা বর্তমানে হার্ভার্ডের পিএইচডি শিক্ষার্থী। কিউবা বংশোদ্ভূত আমেরিকান সাবরিনাকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করছে অ্যামাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজেস ও অ্যারোস্পেস ডেভেলপার অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানি ব্লু অরিজিন। এ তরুণ পদার্থবিদকে নিজেদের কর্মী হিসেবে পেতে চায় নাসাও। এরই মধ্যে তারা সে আগ্রহের কথা প্রকাশও করেছে।

মহাজাগতিক রহস্যময় কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের পাশাপাশি স্থান ও সময়ের গাণিতিক মডেল বা স্পেসটাইম নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত আছেন সাবরিনা। এছাড়া মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কোয়ান্টাম মেকানিকসের সূত্রে ফেলে সংজ্ঞায়িত করার লক্ষ্যেও কাজ করছেন।

নিজের গবেষণার বিষয়, কর্মপ্রক্রিয়া সবকিছু নিয়ে নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট রয়েছে সাবরিনার, যেখানে এ তরুণ বিজ্ঞানী নিয়মিতই নিজের কাজের অগ্রগতির কথা জানান। মজার বিষয় হচ্ছে, এমআইটিতে সাবরিনা যখন ভর্তির আবেদন করেন, তখন মূল তালিকায় তার জায়গা হয়নি। অপেক্ষমাণদের তালিকায় রাখা হয়েছিল তাকে। যদিও ঘটনাটি ছিল এমআইটি অধ্যাপক অ্যালেন হ্যাগার্টি ও আর্ল মুরম্যানের সাবরিনার উড়োজাহাজ বানানোর ভিডিও দেখার আগের। পরবর্তী সময়ে সে বিষয়টি নিয়ে অধ্যাপকদ্বয় ইয়াহুকে বলেন, ‘সাবরিনার ওই ভিডিওটি দেখে আমাদের মুখ হাঁ হয়ে যায়। তার যোগ্যতা নির্দিষ্ট ধারার বাইরের।’

পরে অবশ্য এমআইটি থেকে পয়েন্ট ৫ স্কোর নিয়েই সাফল্যের সঙ্গে বের হয়ে এসেছিলেন সাবরিনা, তার এই স্কোরকে বিবেচনা করা হয় এ পর্যন্ত সেরা স্কোর হিসেবে। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন অ্যান্ডু স্ট্রমিংগার। পিএইচডি প্রোগ্রামে সাবরিনার উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন এ হার্ভার্ড অধ্যাপক। সাবরিনা প্রসঙ্গে ভূয়সী প্রশংসা ঝরে তার মুখ থেকেও।

তবে সাবরিনা যাতে নিশ্চিন্তে তার গবেষণা কার্যক্রমটি চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য হার্ত্জ ফাউন্ডেশন, দ্য স্মিথ ফাউন্ডেশন আর আমেরিকান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন তাকে প্রচুর পরিমাণে অর্থের জোগান দিয়ে যাচ্ছে। পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি সাবরিনার অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিমাপ করা যায় এ কথা দিয়ে— এ মেয়ের মতে, পদার্থবিদ্যা নিজেই যথেষ্ট রোমাঞ্চকর। এটা মোটেও নয়-পাঁচটা বিষয় নয়। তুমি যখন ক্লান্ত তখন ঘুমাও, তবে যতক্ষণ জেগে থাকো ততক্ষণ পদার্থবিদ্যা নিয়েই থাকো।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফিচার এর অারো খবর