সূর্যের কাছাকাছি দুই বাঙালি
সূর্যের কাছাকাছি দুই বাঙালি
২০১৬-০১-১৭ ১৪:৪১:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+


সৌরজগতের প্রতি বিজ্ঞানীদের কৌতুহলের শেষ নেই। চন্দ্র, মঙ্গল ঘুরে বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছে আরও দুরে যেতে। একেবারে সূর্যের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টাও করা হচ্ছে।

নাসা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ বা এসা) পর এবার সূর্যের পথে পাড়ি জমাবে ভারতীয় উপগ্রহ ‘আদিত্য এল ওয়ান।’ আর এই উপগ্রহ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে দুই বাঙালি। এক জন ভারতের কলকাতার অন্যজন বেঙ্গালুরের।

এরা হলেন, কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন স্পেস সায়েন্সেস ইন্ডিয়ার (সেসি) প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী দিব্যেন্দু নন্দী এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জ্যোতির্বিজ্ঞানী দীপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

পৃথিবী আর সূর্যের মাঝখানে অভিনব এক কক্ষপথের সন্ধান পেয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কক্ষপথটির নাম ‘ল্যাগরাঞ্জিয়ান পয়েন্ট’। নাসা আর ইএসএর পর আদিত্য এল ওয়ান হবে অন্যতম উপগ্রহ যারা এই কক্ষপথে ভ্রমণের চেষ্টা করছে। কক্ষপথটি পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দুরে। একবছর ধরে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই উপগ্রহটি সামনে থেকেই সূর্যের ওপর দৃষ্টি রেখে যাবে।

পৃথিবীর মতো করেই আদিত্য এল ওয়ান সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে। পৃথিবীর মতোই নিজস্ব নিয়মে এবং অঙ্কে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে এই উপগ্রহটি।

তবে পৃথিবীর মতো এই উপগ্রহের সূর্যের পেছনে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। নতুন এই কক্ষপথে উপগ্রহটির সূর্যের আড়াল হওয়ার সুযোগ নেই। তাই সামনে থেকেই হবে পর্যবেক্ষণ।

মঙ্গলায়ন বা মার্স অরবিটার মিশন (মম)-এর পর ‘সূর্যের দেশে’ যাওয়াটাই হতে চলেছে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাকাশ অভিযান।

এতে খরচ হবে প্রায় ৪’শ কোটি রুপি।

১৬ ডিসেম্বর লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে ভারতের এই সৌর অভিযানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ।

তিনি জানান, আগামী বছর চাঁদের মাটিতে নামবে ভারতের চন্দ্রায়ন-টু। আর ২০১৯-এর শেষাশেষি ‘সূর্যের দেশে’র উদ্দেশে রওনা হবে ভারতের সর্বাধুনিক উপগ্রহ ‘আদিত্য-এল ওয়ান’। যা সূর্যের অত কাছাকাছি পৌঁছে যেতে সময় নেবে সর্বোচ্চ এক মাস বা তার সামান্য কিছু বেশি।

আগামী বছরে চাঁদের মাটিতে নামতে পৃথিবী থেকে যতটা দূরে যাবে চন্দ্রায়ন-টু, তিন বছর পর তার চেয়ে চার গুণ বেশি দুরত্ব পাড়ি দিয়ে আদিত্য -এল ওয়ান পৌঁছে যাবে ‘সূর্যের দেশে’। যেখান থেকে গনগনে সূর্যের একেবারে বাইরের দু’টি আগুন উতরানো স্তর- ‘করোনা’ আর ‘ক্রোমোস্ফিয়ার’কে খুব ভাল ভাবে এবং অনেকটা কাছ থেকে দেখা যায়। এতে ‘আগুনের রেখা’গুলোকে চিনতে ও পড়তে পারা যাবে!

ভারতের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাকাশ অভিযানে ইসরোর সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আইআইএ), পুণের ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আয়ুকা), আমদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি (পিআরএল), মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (টিআইএফআর) এবং পুণে ও কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইএসইআর বা ‘আইসার’)।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর