বেতন বৈষম্য নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধান এপ্রিলের মধ্যেই
বেতন বৈষম্য নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধান এপ্রিলের মধ্যেই
২০১৬-০১-১৪ ০৩:২৮:০১
প্রিন্টঅ-অ+


আগামী এপ্রিলের মধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবীর বেতন বৈষম্যের নিরসন করা হবে। মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৭২ জন সচিবের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০ সচিব এ আলোচনায় অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সভায় নতুন পে স্কেল নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধান করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের কাছ থেকে প্রস্তাব আনতে সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ প্রক্রিয়ায় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের পদোন্নতি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধানও করা হবে। নতুন পদ সৃষ্টি না করেই পুরনো পদ সমন্বয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট সংকট দূর করার পাশাপাশি পদোন্নতির বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২৬টি ক্যাডারের কয়েকটি পদকে আপগ্রেড করা হবে। বাড়ানো হবে গ্রেড-১ এবং গ্রেড-২-এর পদ। পাশাপাশি ক্যাডার-নন ক্যাডারদের এন্ট্রি পদের বেতন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় সচিবরা স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মসহ অন্যান্য কাজ করতে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাও তুলে ধরেন। এ সময় শেখ হাসিনার উদ্যোগ নামে আটটি প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন, এডিপি বাস্তবায়ন, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনার চুক্তির অধীনে কর্মকাণ্ডগুলো সঠিক সময়ে সম্পাদন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার জন্য সচিবদের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয়ে কোনো নতুন আইন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট সচিব যেন তা তদারক করে দ্রুত যাচাই-বাছাই করেন, সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভায় এজেন্ডা উত্থাপনে সচিবদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সভায় রাজস্ব আদায় বাড়াতে সচিবদের আরও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেন অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ।

সভায় সচিবরা দাবি করেন, তাদের অধীনে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে (অন্য ক্যাডারের) গ্রেড-১ মর্যাদা (সচিবের মর্যাদা) দেওয়া হলেও মন্ত্রণালয়ের সচিবরা যেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এ সময়ে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ব্যাপারে তার নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রতিবেদন দেবে। সে আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হবে।

সদ্য ঘোষিত পে স্কেলে বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিতে সম্প্রতি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কর্মসূচি চলছে। শিক্ষক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক এবং ২৬টি বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তারা ছাড়াও ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন।

এ অবস্থায় মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কোর কমিটিকে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন_ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ। এরই মধ্যে তারা প্রকৃচিসহ ২৬ ক্যাডারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরই গতকাল বসে সচিব সভা।

সভায় মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রকৃচির সঙ্গে কোর কমিটির বৈঠকের বিষয়ে সভাকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, আগামী ১৪ সপ্তাহের মধ্যে পে স্কেল নিয়ে সৃষ্ট সংকট দূর করা হবে। তিনি সচিবদের উদ্দেশে বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ের অধীনের ক্যাডারদের পে স্কেল নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তারা সেসব ক্যাডারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আনবেন। পরে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, তার একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। পরে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয় বৈঠক করে এর সমাধানের উপায় বের করবে। তিনি জানান, কোর কমিটি আন্দোলনরত পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করবে।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানোর বিষয়ে সচিবদের আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সতর্ক করা হয়, মন্ত্রিসভার এজেন্ডা উত্থাপনের আগে সচিবরা যেন পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে আসেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো অনেক ফাইলে ভুলভ্রান্তি ধরা পড়ছে। এতে অনেক সময় বিব্রত হতে হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক জানান, তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ হাজার ৪০০ প্রকৌশলী পে স্কেল নিয়ে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের পদোন্নতির পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক ক্যাডার রয়েছেন। এখানে বৈজ্ঞানিকও রয়েছেন। নতুন পে স্কেলে তাদের পদোন্নতিতে সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে তারা দাবি করছেন। এ সময়ে মুখ্য সচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের কী কী সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করে যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলেন।

সভায় অর্থ সচিব বলেন, গত বছর প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এ সময় এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানও রাজস্ব আদায় কম হয়েছে বলে স্বীকার করেন। অর্থ সচিব সব সচিবকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধানদের গ্রেড-১ দেওয়ায় সচিবদের আলাদা মর্যাদা দেওয়ার দাবি করেন।

সেতু সচিব আনোয়ারুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে এডিপি বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত একটি বৈঠকে গিয়েছিলেন। সেখানে মন্ত্রী এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে সবাইকে আরও তৎপর হতে হবে।

জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ওএসডির সংখ্যা এখন কমেছে। কর্মকর্তাদের ওএসডি না করে পদায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় অনেক সচিবই তাদের বক্তব্যে নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরেন। তাদের কাছ থেকে কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি। তবে কোনো কোনো সচিব তাদের বক্তব্যে আগামী দিনের সরকারের করণীয় এবং কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, প্রশাসনযন্ত্রকে আরও গতিশীল করতে সব ক্ষেত্রে মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং মাঠ পর্যায়ে কাজের তদারকি বাড়ানোর জন্য সচিবদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: সমকাল

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর