‘আমলাদের তৈরি ফাঁদে পা দিয়েছে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ’
‘আমলাদের তৈরি ফাঁদে পা দিয়েছে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ’
২০১৬-০১-১১ ০২:২৭:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+


প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি ঘোষিত আজ (১১ জানুয়ারি) থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা নিয়ে সমন্বয় কমিটির একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি এবং ‘দুর্বল’ কর্মসূচি নিয়েও তাঁরা বিক্ষুব্ধ। বিক্ষুব্ধদের কেউ কেউ ইতোমধ্যেই ভিন্ন নামে আলাদা মোর্চা গঠন করেছেন। বিভিন্ন কর্মসূচিও দিচ্ছেন তাঁরা।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সমন্বয় কমিটির স্টিয়ারিং কমিটির এক সভায় ১১ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেয় প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি। কর্মবিরতি পালনের সময় উল্লেখ করা হয়েছে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত। ঘোষিত সময়সুচিতে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন বিক্ষুব্ধ কর্মী।

তিনি জানান, এমনিতেই সকল সরকারী অফিসে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি থাকে, এসময় কোনও কাজ হয় না। সেই হিসেবে ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি মূলত ১ ঘণ্টার।

তিনি বলেন, এর আগে ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিত্সকসহ ২৬টি ক্যাডার ও বিভিন্ন ফাংশনাল সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রতিদিন এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন; তখনও দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি এবং দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত লাঞ্চ বিরতি মিলিয়ে ২ ঘণ্টা কাজ বন্ধ থাকতো। অতএব, ২ ঘণ্টার কর্মবিরতির নামে আগের ১ ঘণ্টার কর্মবিরতির একই টাইমিং হাস্যকর।

আরেকজন কর্মী বিক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বলা হচ্ছে ১১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি ৭ দিনের কর্মবিরতি। কিন্তু এই সময়কালের মধ্যে ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার এবং ১৬ জানুয়ারি শনিবার সরকারী ছুটির দিন। কর্মবিরতি হবে মুলত ৫ দিন। কর্মসূচির নামে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে মশকরা করছেন।

এছাড়া, চার সচিবের সঙ্গে আন্দোলনরত প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন পে স্কেলের বৈষম্য দূর করতে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত এবং ১৪ সপ্তাহের মধ্যে পদোন্নতির সোপান তৈরি করে সমাধানের সুপারিশ করাকে ‘মূলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির বিক্ষুব্ধ একটি অংশ।

তাদের মতে, চলমান আন্দোলনকে স্থিমিত করতে আমলাদের তৈরি ফাঁদে পা দিয়েছে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্দোলনরত প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির বৈঠকে ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ অংশ না নেয়ায় প্রকৌশলীদের একটা অংশের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এছাড়া সমন্বয় কমিটির-র কোনও কোনও নেতার আন্দোলনকে দীর্ঘ মেয়াদি রুপ দেয়ার চেষ্টাকেও নেতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে ভিন্ন ভিন্ন নামে আলাদা মোর্চা গঠন করা অব্যাহত থাকবে এবং এর ফলে চলমান আন্দোলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা পর্যবেক্ষক মহলের।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর