ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলন
ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলন
২০১৬-০১-১১ ০২:২০:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+


আন্দোলন ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। প্রকৌশলীদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও কৃষিবিদ, প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডার ছাড়া বাকি সব ক্যাডার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা এমনকি বিজ্ঞানীরাও আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আজ (১১ জানুয়ারি) থেকে অবিরাম ধর্মঘটে যাচ্ছেন। ১১ থেকে ১৭ জানুয়ারি প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে এক সপ্তাহের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদসহ ২৬ ক্যাডার। তাদের সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ফাংশনাল বডি। দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ১৫ জানুয়ারি থেকে গণছুটিতে যাওয়ার কর্মসূচি দিয়েছেন।

সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল ও ক্যাডার-নন ক্যাডার বৈষম্য দূরীকরণের দাবিসহ নতুন পে স্কেলের বিভিন্ন বৈষম্য দূর করার দাবিতে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পদের অবনমন ও বৈষম্য দূর না হওয়ায় ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মোর্চা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের। গত ২ জানুয়ারি ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাধারণ সভা শেষে ১১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

আন্দোলনকারী একজন শিক্ষক বলেন, ‘এই আন্দোলন শিক্ষকদের বেতনের পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে নয়, মর্যাদার আন্দোলন। আমরা ছাত্রদের জিম্মি করতে চাই না বলেই পেট্রলবোমাকে উপেক্ষা করে ক্লাস চালু রেখেছি। শুক্রবার ছুটির দিনেও ক্লাস করতে হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যেতে হলে এর দায় শিক্ষকরা নেবেন না। যারা শিক্ষকদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে দায় তাদের ওপরই বর্তাবে।’

দাবি আদায়ে ১০ জানুয়ারি থেকে ‘গেইট গ্যাদারিং’ কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। আজ (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এবং ১২-১৪ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ‘গেইট গ্যাদারিং’ কর্মসূচি চলবে। কর্মসূচি চলাকাকীন সকালে সর্বস্তরের কর্মকর্তা কাজ বন্ধ রেখে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। এ সময় বাইরে থেকে কাউকে ব্যাংক চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এর মধ্যে সরকার দাবি মেনে না নিলে ১৫ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা গণছুটিতে যাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে তাঁদের মর্যাদাহানি করা হয়েছে। এর আগে সব বেতন স্কেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক, বিসিএস ক্যাডার ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা একই স্কেল বা গ্রেডভুক্ত থাকলেও নতুন বেতন কাঠামোয় সহকারী পরিচালক পদ এক ধাপ নামিয়ে নবম গ্রেড করা হয়েছে। আর বিসিএস ক্যাডার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অষ্টম গ্রেডে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বেতন স্কেলের গেজেটে বাংলাদেশ ব্যাংককে রাষ্ট্রীয় অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানটিকে গেজেটে আলাদাভাবে দেখাতে হবে। অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।

গেজেট প্রকাশের পর গত ২২ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পরিচালক পদ অষ্টম গ্রেডে উন্নীত, গেজেটে বাংলাদেশ ব্যাংককে আলাদাভাবে উল্লেখ এবং নির্বাহী পরিচালক পদ গ্রেড-১-এ উন্নীত করার দাবি তোলা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক থেকে নির্বাহী পরিচালক পর্যন্ত চার হাজার ৩০ জন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন।

সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল ও ক্যাডার-নন ক্যাডার বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে আজ (১১ জানুয়ারি) থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করবে প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক ও ২৬টি ক্যাডারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এসব পেশাজীবীদের মোর্চা প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির ডাকে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি হবে। পাশাপাশি কালো ব্যাজও ধারণ করবেন কর্মকর্তারা।

এর আগেও প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি একই দাবিতে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন করেছে।

১৯ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কালো ব্যাজ ধারণ, ২৩ ডিসেম্বর সারাদেশে মানববন্ধন, ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান ছাড়াও ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর প্রতিদিন এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিবিধ এর অারো খবর