পে স্কেলের বৈষম্য দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ
পে স্কেলের বৈষম্য দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ
সংগীতা ঘোষ
২০১৬-০১-০৮ ২২:২১:০৯
প্রিন্টঅ-অ+


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন পে স্কেলের বৈষম্য নিয়ে সংক্ষুব্ধদের মনোভাব আঁচ করতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চারজন সচিব নিজেরা বৈঠকে বসে সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন।

ইতোমধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চার সচিবের সঙ্গে আন্দোলনরত প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন পে স্কেলের বৈষম্য দূর করতে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই টাস্কফোর্স ১৪ সপ্তাহের মধ্যে পদোন্নতির সোপান তৈরি করে সমাধানের সুপারিশ করবে। এর আলোকে ব্যবস্থা নেবে সরকার। এ ছাড়া কোন কোন সেক্টরে ক্যাডার-ননক্যাডার বৈষম্য সৃষ্টি হবে তার তালিকা তৈরি করবে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি। তালিকা তৈরির পর সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, অর্থসচিব মাহবুবুর রহমান, জনপ্রশাসনসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন নাসিম, প্রকৃচি স্টিয়ারিং কমিটির সচিব মোবারক আলী, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. এম ইকবাল আর্সলান, স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য স ম গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির একাধিক নেতা বলেন, সচিবেরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড চালুর বিষয়টি নাকচ করে পদোন্নতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা জানিয়েছেন। এ জন্য অধিদপ্তরগুলো পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এক সপ্তাহের মধ্যে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। মন্ত্রণালয় পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবে। জনপ্রশাসন পরের চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পদোন্নতির জট ছাড়ানোর চেষ্টা করবে। এ ছাড়া ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের গ্রেড সমস্যা নিরসনে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আন্দোলনরত প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক,শিক্ষকসহ অন্যান্য ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, আমলাতন্ত্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজনের কারণে তাঁরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তবে এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হবে বলে তাঁরা আশাবাদী হয়ে উঠছেন।
জনপ্রশাসনসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, সমন্বয় কমিটির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায়, শিগগিরই তাঁদের সমস্যাগুলো সমাধান হবে।
বৈঠক শেষে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতা বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘আমরা সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠক খুবই ফলপ্রসূ। আশা করি, শিগগিরই সব কিছুর সমাধান হবে।’
উল্লেখ্য যে, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়া এবং চাকরির শুরুর পদে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের চেয়ে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল এক ধাপ ওপরে রাখায় প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া প্রায় সব পর্যায়ে অসন্তোষ, অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে প্রকৌশলীসহ অন্য পেশাজীবীদের দ্বন্দ্বও প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে। বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসকসহ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৬ ক্যাডার (প্রশাসন ব্যতিরেকে) এবং বিভিন্ন ফাংশনাল সার্ভিসের কর্মকর্তারা। বৈষম্য দূর করার দাবিতে চলমান আন্দোলন ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। প্রকৌশলীদের পাশাপাশি চিকিৎসক, কৃষিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডার ছাড়া বাকি সব ক্যাডার, ব্যাংক কর্মকর্তা এমনকি বিজ্ঞানীরাও আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১১ জানুয়ারি থেকে অবিরাম ধর্মঘটে যাচ্ছেন। একই দিন থেকে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদসহ ২৬ ক্যাডার দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ফাংশনাল বডি।
চার সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি তাদের ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করবে কী না জানতে চাইলে প্রকৃচি নেতা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘১১ তারিখ থেকে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি। এ কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর