সারাদেশে তীব্র ভূমিকম্প
সারাদেশে তীব্র ভূমিকম্প
২০১৬-০১-০৪ ০২:৪৪:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+


তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে সারাদেশে। আজ ভোর ৫টা ৭ মিনিটে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, বরিশালের বিভিন্ন স্থানে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এতে মানুষজন বাড়ি-ঘড় ছেড়ে নিরাপদে বাইরে খোলা জায়গায় অবস্থান নেয়।

রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.৮। আবার কোনও সূত্রে এ মাত্রা ৬.৯ দেখা গেছে। উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের ইমফাল শহরে। ঢাকা থেকে ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ৩৫১ কিলোমিটার দূরে। কেন্দ্রস্থলটি সিলেটের করিমগঞ্জের খুব কাছে। ফলে সবেচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে সিলেটে। সিলেটে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪। চট্টগ্রামে ৩।

ভূমিকম্পটি তার কেন্দ্রস্থল থেকে ৭৬১ কিলোমিচার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রায় ২০-২৫ সেকেন্ড ধরে চলে এই কম্পন।

রাজধানী: ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার ভোজন দাস জানান, কোথাও কোনও ভবন ধস বা ফাটলের খবর এখনও আমরা পাইনি। কোনও হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১২ জন ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেকেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছেন। এছাড়া হুরোহুরি করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই।

ঢামেক পুলিশ বক্সের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, এখন পর্যন্ত গুরুতর আহত কেউ ঢামেক হাসপাতালে আসেনি। যারা চিকিৎসা নিয়েছেন তারা সবাই অল্প আহত। অপরদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হল থেকে শিক্ষার্থীরা লাফিয়ে নিচে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তাদের মধ্যেও কেউ গুরুতর আহত নেই।

সিলেট: সিলেট আবহাওয়া অফিসের প্রধান সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক তথ্যে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৭। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকায়।

সকাল পৌনে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিলেটের কোথাও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাবেদ হোসেন মো. তারেক জানান, তারাও এ সংক্রান্ত কোনও খবর পাননি।

এদিকে, ভূ-কম্পনে সিলেট নগরীর অনেক উচু ভবন কেঁপে উঠে। অনেক বাসা-বাড়ির পুরুষ-মহিলা ও শিশুরা আতঙ্কে বাইরে অবস্থান নেন। ভূমিকম্পের অনেক পরও তাদেরকে বাসা-বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। নগরীর ১১ তলাবিশিষ্ট আর্ক হোমসের তত্ত্বাবধায়ক শেখ হাফিজুর রহমান জানান, ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎও চলে যায়। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর পরই বাসার লোকজন বাইরে চলে আসেন বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম: তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার পরপরই শহরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ করে দেয় পিডিবি।

নারায়ণগঞ্জ: ভোরে ভূমিকম্পে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসে। তবে সকাল পৌনে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা সময়ে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। বেশ কয়েকটি এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, এত বড় ও ঝাকুনির ভূমিকম্প এর আগে তারা অনুভব করেননি। অন্যবারের তুলনায় এদিনের ভূমিকম্প অনেক বেশি মাত্রায় অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পরেই শহরের সব এলাকার লোকজন রাস্তায় নেমে আসে। বেশির ভাগ মানুষ প্রচণ্ড ঝাকুনিতে ঘুম ভেঙে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মণ্ডলপাড়া স্টেশনের ডিউটি অফিসার আকবর হোসেন জানান, তাদের কাছে সকাল পৌনে ৬টা পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর আসেনি।

ভূমিকম্পের পর সুনামগঞ্জে লোকজনের রাস্তায় অবস্থান
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কিত লোকজন বাসা-বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। উচু বিল্ডিংয়ে থাকা লোকজন দ্রুত নিচে নেমে এসে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা পাভেল আহমদ জানান, তীব্র ভূমিকম্পের কারণে তারাসহ এলাকার উচু ভবনের লোকজন রাস্তায় এসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. আবুল কালাম জানান, ভোরে হঠাৎ করে পুরো ভবনজুড়ে প্রচণ্ড ঝাকুনি শুরু হয় পরে তিনিসহ এলাকাবাসী উচু ভবন ছেড়ে রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জেলার এখন পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাননি বলে জানান।

পঞ্চগড়: পঞ্চগড় জেলার সর্বত্র দু দফা ভুমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে মনে করছে এলকাবাসী। আজ ভোর ৫টা ৬ মিনিটে অনুভূত হয় এই কম্পন। তবে ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার গৃহিনী নাজমা আখতার জানান, নামাজ পড়ার জন্য উঠছিলাম এমন সময় শোকেজের গ্লাস শব্দ করে কাঁপছিল। এক পর্যায়ে গোটা ঘর কেঁপে উঠলো।

শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার মমতাজ পারভীন জানান, দুদফা ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভোরবেলা আচমকা ভূকম্পন টের পেয়ে অনেকেই বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠেন। দৌড়াদৌড়ি করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক ভূকম্পনে ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাননি বলে জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ভূমিকম্পে অনেকে ঘুমন্ত অবস্থায় দোলনা মতো দোল খেয়ে জেগে উঠে। এসময় লোকজন ভয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসে। ঘরে থাকা জিনিসপত্রগুলো ঝন ঝন শব্দে আরও আতঙ্কিত করে তোলে। অনেকে চিৎকার করে ভূমিকম্প ভূমিকম্প বলে একের-অপরকে জানান দেন। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করলেও জেলাতে এমন কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর