আজ দেশের ২৩৪ পৌরসভায় একযোগে নির্বাচন
আজ দেশের ২৩৪ পৌরসভায় একযোগে নির্বাচন
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১২-২৯ ২২:৩৬:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+


আজ ২৩৪ পৌরসভায় একযোগে শুরু হবে ভোট। প্রায় সাত বছর পর দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি মুখোমুখি হবে ভোটের ময়দানে। তাই নির্বাচনী এলাকায় চলছে নির্বাচনী গরম হাওয়া।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাঠে টহল শুরু করেছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সঙ্গে রয়েছে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

এদিকে সোমবার রাত ১২টার পর শেষ হয়েছে সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা। আগামীকাল বুধবার সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২৩৪ পৌরসভায় টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এই নির্বাচনে মেয়র পদে ৯৪৩ জনসহ মোট ১২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৫টি কেন্দ্রে ৬১ হাজার ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে সোমবার সকাল থেকেই মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, ভোটের দিন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২০জন ও সাধারণ কেন্দ্রে ১৯জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকছে। এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেতৃত্বে ও অপরাধ দেখভালে মাঠে থাকছে সর্বমোট ১ হাজার ২০৪ জন নির্বার্হী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

এ নির্বাচনে ৩ হাজার ৫৫৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে। এসব কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ২১ হাজার ৫৭১টি। এ হিসাবে প্রতি কেন্দ্রে ১ জন করে ৩ হাজার ৫৫৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতি বুথে ১ জন করে ২১ হাজার ৭১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতি বুথে ২ জন করে ৪২ হাজার ১৪২ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মোট ভোট গ্রহণ করবেন ৬৬ হাজার ৭৬৮ জন কর্মকর্তা। এতে পুরুষ ভোটার ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪ জন এবং নারী ভোটার ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬০ জন। ইতোমধ্যে মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত পদের ব্যালট পেপার, সিল, ফরম প্যাকেট ও অন্যান্য নির্বাচন সামগ্রী নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছেছে। এসব পৌরসভায় তিন হাজার ৫৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ১৮৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসি।

নির্বাচনের কারণে ২৩৪টি পৌরসভায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

নির্বাচনী এলাকায় ভোটের আগের রাত অর্থাৎ মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু করে মোট ৪৮ ঘণ্টা যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে ২৯ ডিসেম্বর রাত ১২টা (দিবাগত মধ্যরাত) থেকে ৩০ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

ইতোমধ্যে এ নির্দেশনা জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় গত ২৭ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে ৩১ডিসেম্বর ভোর ছয়টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

২৩৪ পৌরসভা নির্বাচনে ২০টি দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মেয়র পদে ৯৪৫ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে রয়েছে ১১ হাজারের বেশি।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার ভোটে মুখোমুখি নৌকা-ধানের শীষ নিয়ে ২২২ জন প্রার্থী রয়েছেন। ২০টি দল অংশ নিচ্ছে। এর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ২৮৮ জন। অবশ্য ২৩৪ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ২২৮ জন ও বিএনপির ২২৫ জন ও জাতীয় পার্টির ৭৪ জন রয়েছে।

মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ দুই প্রধান দল কয়েকটি পৌরসভায় মুখোমুখি না থাকলেও শরিকদের সঙ্গে লড়বে। এতে অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া এলডিপি একজন, জেপি ৬ জন, সিপিবি ৪ জন, ন্যাপ একজন, ওয়ার্কার্স পার্টি ৮ জন, বিকল্পধারা ১ জন, জাসদ ২১ জন, বাসদ একজন, তরিকত ফেডারেশন ১ জন, এনপিপি ১৭ জন, পিডিপি একজন, ইসলামী ঐক্যজোট ১ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩ জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ১ জন, খেলাফত মজলিস-এর একজন প্রার্থী রয়েছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৪১: মেয়র পদে সাত জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪০ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ নভেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর বুধবার দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর