২৬ মার্চ চালু হচ্ছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একাংশ
২৬ মার্চ চালু হচ্ছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একাংশ
২০১৫-১২-২৫ ১১:৩৩:০১
প্রিন্টঅ-অ+


আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে চালু হচ্ছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একাংশ। ঐতিহাসিক দিবসটিকে আরও বেশি গুরুত্ববহ করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা থেকে রমনা থানা এবং বাংলামোটর মোড় পর্যন্ত অংশ চলতি ডিসেম্বরে চালু করার কথা থাকলেও ঠিকাদার কোম্পানি কাজ শেষ করতে না পারায় আগামী মার্চে এ অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে এর আগে কাজ শেষ হলে ২৬ মার্চের আগেও খুলে দেওয়া হতে পারে ফ্লাইওভারের এ অংশ।

পুরো প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারলে আরেক দফা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে আরেক দফা সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে বলে জানা গেছে।

ফ্লাইওভারের মগবাজার থেকে মৌচাকমুখী লেনটি জুন বা জুলাই মাসে খুলে দেওয়া হবে। আর বাকি অংশ রাজারবাগ শান্তিনগর আগামী বছর ১৬ ডিসেম্বরে চালু করে বিজয় দিবসকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে চায় মহাজোট সরকার।

এ প্রসঙ্গে মগবজার-মোচৗক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম বলেন, আশা করা হচ্ছে প্রকল্পের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য আগামী মার্চে খুলে দেওয়া হবে। বাকি কাজ আগামী বছর ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের আরেক দফা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। সেতু বিভাগ মৌখিক অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় এ দাবি আমলে নেয়নি। নির্ধারিত সময় আগামী বছর ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। কারণ সময় বৃদ্ধি করলে নির্মাণ ব্যয় আরও বাড়বে। সর্বশেষ সংশোধিত ব্যয় অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি টাকা। প্রথমদিকে ডিপিপি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৪৬ কোটি টাকা। পরবর্তীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭২ কোটি টাকায়। আর তৃতীয়বার সংশোধনী এনে ধরা হয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় কিছু বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে। যে কারণে সময় ও ব্যয় বেড়েছে। তেজগাঁও-পান্থপথ লিংক রোড অংশে প্রকল্পের কাজ অনেকটা বেড়েছে। এ ছাড়া এফডিসি গেটের পরিবর্তে ফ্লাইওভারটি সোনারগাঁও হোটেলের কাছাকাছি পর্যন্তও বাড়বে। এ ছাড়া নকশা, পরামর্শক ও অতিরিক্ত পাইলিংয়ের জন্য খরচ ও সময় বেশি লাগছে। সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, মৌচাক, শান্তিনগর, মালিবাগ রোড এবং মগবাজারসহ মালিবাগের দুটি রেলক্রসিংয়ের যানজট নিরসনই এর প্রধান উদ্দেশ্য। নতুনভাবে এটি সোনারগাঁও হোটেলে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে।

প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে, দিন-রাত কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তবে প্রকল্প এলাকায় যত্রতত্র, ইটবালি, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রকল্প এলাকার সব রুটেই রাস্তা ছোট হয়ে যাওয়ায় এবং অব্যবস্থাপনার কারণে যান ও মানুষ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীসহ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর