কে এই হামলাকারী
কে এই হামলাকারী
২০১৮-০৩-০৪ ১২:৫৪:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার কিছু সময় আগেই মঞ্চে এক যুবককে তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পরনে কালো টি-শার্ট ও প্যান্ট। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, হামলাকারী জাফর ইকবালের দিকে শ্যেনদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। ওই যুবকের পাশে সন্দেহভাজন আরেক যুবককেও অবস্থান করতে দেখা গেছে। হামলার সময় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়োজনে ইইই ফেস্টিভ্যালে বৃষ্টির কারণে কয়েক মিনিটের বিরতি দেওয়া হয়। হামলাকারী ওই সময়টিই বেছে নেয়। ছুরি নিয়ে জাফর ইকবালের ওপর হামলার পরপরই হামলাকারীকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেওয়া হয়।


ঘটনার পরপরই সমকালের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে- হামলাকারী যুবকের নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪)। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী টোকেরবাজার কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাসিন্দা ফয়জুর রহমান। তার বাবার নাম মাওলানা আতিকুর রহমান। তিনি শাহপুর মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক। তাদের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় নারগিস হাউস নামে একটি ভাড়া বাসায় তারা বসবাস করে আসছিল। বছর দুয়েক আগে শেখপাড়ায় জমি কিনে আধাপাকা বাড়ি করেন ফয়জুরের বাবা। শনিবার হামলার পরপরই শেখপাড়ার বাসাটি তালাবদ্ধ করে ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা সিএনজি অটোরিকশা করে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় স্থানীয়রা জানতে চাইলে ফয়জুরের পরিবারের সদস্যরা জানান, জগন্নাথপুরে গ্রামের পুরনো বাড়িতে যাচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে ফয়জুরের বাড়ি ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


টোকেরবাজার ইউনিয়ের চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ গত রাতে সমকালকে বলেন, ফয়জুর তার এলাকার বাসিন্দা। তারা তিন ভাই। হামলার বিষয় আগে জানতে পারলে ফয়জুরের পরিবারের কেউ পালাতে পারত না। হামলাকারী জঙ্গি বলে ধারণা করছেন তিনি।


ফয়জুরের বাসার আশপাশের একাধিক বাসিন্দা সমকালকে বলেন, ফয়জুরের পরিবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব একটা মেশে না। ফয়জুর মাদ্রাসার ছাত্র বলে জানত লোকজন। শনিবার সকাল থেকে ফয়জুর ও তার আরেক ভাইকে দীর্ঘ সময় এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখেছেন স্থানীয়রা।


পুলিশের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলছেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাদের ধারণা, হামলাকারী ফয়জুর জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এবিটি) সদস্য হতে পারে। এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সদস্যরা গত রাতেই ঢাকা থেকে সিলেটের পথে রওনা হয়ে যান।


অধ্যাপক জাফর ইকবালের পেছনে হামলাকারী কীভাবে দাঁড়িয়ে থেকে এত লোকের মাঝে তাকে অনুসরণ করল তা নিয়ে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায় আচমকা এ হামলার আগে জাফর ইকবালের নিরাপত্তা বিধানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোনে গেমস খেলা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।


পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, হামলাকারীর প্রাথমিক পরিচয় পাওয়ার পর তার ব্যাপারে আরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কেন কী কারণে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা করা হয়েছে তা বের করা হবে।


সিটিটিসির ডিসি মহিবুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময় জাফর ইকবালের ওপর জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর হুমকি ছিল। এই বিষয় মাথায় রেখে ছায়া তদন্ত করছি। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টিম সিলেট গেছে।
(সাহাদাত হোসেন পরশ)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিবিধ এর অারো খবর