নতুন বছরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো
নতুন বছরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো
২০১৮-০১-০১ ০২:৫১:২৯
প্রিন্টঅ-অ+


নতুন বছর ২০১৮ সালে সাইবার অপরাধ তদন্তে পুলিশের বিশেষ ইউনিট ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ গঠন করা হচ্ছে। ভুয়া ফেসবুক, পর্নোগ্রাফি, ফেসবুক এ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা উত্তোলন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনক বেড়ে যাচ্ছে। ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ। কিন্তু বেশি ক্ষেত্রেই সাইবার অপরাধকারীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে জঙ্গী সংগঠনগুলোর জঙ্গীবাদ অপ-প্রচার, পর্নোগ্রাফি ব্যাবহার করে নারীদের কলঙ্কিত করে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেয়া ও একাউন্ট হ্যাকিং করার ঘটনায় গড়ে উঠেছে সাইবার অপরাধের আন্ডার ওয়ার্ল্ড। সাইবার অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর উদেশ্যে গঠিত হচ্ছে দেশব্যাপী পুলিশের বিশেষ ইউনিট সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, পুলিশ সদর দফতর পুলিশের বিশেষ ইউনিট সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো গঠন করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করেছে। এই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের প্রস্তাব অনুযায়ী সিআইডির অধীন এ ইউনিটটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এর মোট জনবল হবে ৫০৫ জন। নতুন সাইবার ক্রাইম ইউনিটে একজন ডিআইজি ছাড়াও তিনজন অতিরিক্ত ডিআইজি, পাঁচজন এসপি (পুলিশ সুপার), আটজন অতিরিক্ত এসপি, ৩৮ জন এএসপি, ৮৫ জন পরিদর্শক, ১৮০ জন এসআই, ৬০ জন এএসআই এবং ১০০ জন কনস্টেবল থাকবে। এরই মধ্যে সিআইডি কার্যালয়ে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেটিভের অর্থায়নে ২৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এটিকে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর প্রধান কার্যালয় করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর পুলিশের এই বিশেষ ইউনিটটি সারা দেশে কাজ শুরু করবে এবং নতুন বছরের শুরুতেই কাজ করতে পারবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমিত পর্যায়ে রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রীক সাইবার অপরাধ নিয়ে একটি টিম কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিভাগে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট এর জনবল ৬৭ জন। এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক ও এসআই পদমর্যাদার) ১৬ জন। তাদের তদারকির জন্য রয়েছেন ৪ জন সহকারী কমিশনার (এসি), ২ জন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং একজন ডিসি। ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অপরাধ ইউনিটে মাসে প্রায় এক‘শ সাইবার সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আসে, যা প্রচারের অভাবে খুবই সীমিত পর্যায়ে আছে। রাজধানী ঢাকার ৪৯টি থানায় সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মামলা নেয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অপরাধ ইউনিটের পক্ষে এত অভিযোগের তদন্ত দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভবপর হচ্ছে না। ডিএমপির সাইবার ইউনিটের জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়াতে পুলিশের উর্ধতন পর্যায়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন বছরের তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এই নতুন ইউনিটের কাজ শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সাইবার অপরাধ করে কেউই রেহাই পাবে না এবং সাইবার সংক্রান্ত অপরাধও কমে আসবে। দেশে সাইবার অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশকিছু সদস্য বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে বড় ধরনের কোন সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়নি। ফলে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে সাইবার সংক্রান্ত ধরনের অপরাধ দিন দিন বাড়ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে দেশে পৌনে ৭ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা আড়াই কোটি। পৃথিবীর যেসব শহরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি, তার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে ব্যাঙ্কক। এরপরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশে সাইবার অপরাধ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই ধরনের অপরাধের শিকার মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ মামলার আশ্রয় নেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এক জরিপে বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীর মধ্যে ৭৭ শতাংশই ফেসবুককেন্দ্রিক সাইবার অপরাধের শিকার।

স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিলম্বে হলেও সাইবার ক্রাইম দমনে পুলিশের বিশেষ ইউনিট সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য একটি প্রশংসনীয় ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন পাসেরও উদ্যোগ নিয়েছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যাবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এসব সরকারের অপরাধ দমনমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করা গেলে সাইবার অপরাধ কমে আসবে, যা নতুন বছরে তার সুফল ভোগ করা সম্ভব হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তার দাবি।
(শংকর কুমার দে)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর