ডিসেম্বরেই আ.লীগের সহ-সম্পাদক ও সদস্যদের তালিকা প্রকাশ
ডিসেম্বরেই আ.লীগের সহ-সম্পাদক ও সদস্যদের তালিকা প্রকাশ
২০১৭-১২-২৮ ০১:৩২:৫৩
প্রিন্টঅ-অ+


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এবং সদস্যদের তালিকা ঘোষণা হতে যাচ্ছে।

কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই করে উভয় তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। আজকালের মধ্যেই আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমতি সাপেক্ষে তালিকা প্রকাশ করা হবে। দলীয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এবং সদস্য পদপ্রত্যাশীদের তালিকা যাচাই শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তালিকা প্রকাশের ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদনের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে আজকালের মধ্যে পেশ করবেন দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দপ্তর সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, যারা উপ-কমিটির সদস্য এবং সহ-সম্পাদকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে এখনো কয়েকজনের সিভি (জীবনবৃত্তান্ত) জমা পড়েনি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিভিগুলো সংগ্রহ করতে হবে। আমরা এবার প্রত্যেকের সিভি সংগ্রহে রাখব। কারণ, উপ-কমিটিগুলো প্রকাশ করার পর যদি কারো ব্যাপারে অভিযোগ ওঠে সেক্ষেত্রে সিভিতে প্রত্যয়নকারী সংশ্লিষ্ট নেতার কাছে জবাব চাওয়া হবে।

এ ব্যাপারে দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পদে কিছু বিতর্কিত নেতা-কর্মীর নাম রয়েছে। যাদের কেউ শিক্ষাজীবনে বা অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। কেবল কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশে আওয়ামী লীগের মতো দলের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। আবার এমনও দুই-একজন আছেন যারা অতীতে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করেছেন। সহ-সম্পাদকের তালিকায় তাদেরও নাম আছে। আবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অতীতে কোনো পদেই ছিলেন না, এমন দুয়েকজনও সহ-সম্পাদকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্য নেতারাও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হয়। ওই বছরের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে আওয়ামী লীগ। জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণের জন্য দলের পক্ষে দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক নাসিম আল মোমিন রুপক ও সভাপতির কার্যালয়ের স্টাফ সাঈদ আহমেদকে দায়িত্ব দেন। ওই সময় আগ্রহীদের সিভির সঙ্গে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরচিয়পত্র জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রত্যেকটি বিভাগভিত্তিক সম্পাদকীয় পদের সহযোগী হিসেবে পাঁচজন করে সহ-সম্পাদক থাকার নিয়ম আছে। তবে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদগুলো বিভাগভিত্তিক নয়। তাই এ পদগুলোর বিপরীতে কোনো সহ-সম্পাদক থাকবে না। যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাদ দিলে ১৯টি বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদ রয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে। এক্ষেত্রে একটি সম্পাদকীয় পদের সহযোগী পাঁচজন করে হলে মোট ৯৫ জন সহসম্পাদক থাকার কথা। কিন্তু গত কমিটিতে গঠনতন্ত্রের নিয়ম ভঙ্গ করে প্রায় ১০০ সহ-সম্পাদক পদের বিপরীতে দায়িত্ব পেয়েছিলেন কয়েক শত নেতা।

তখনকার সহ-সম্পাদকদের নিয়ে ২০১৭ সালের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, পার্টি অফিসের সামনে যার সঙ্গে ধাক্কা লাগে তিনিই বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক। কিন্তু তারা যে উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এটা বলেন না। এই সহ-সম্পাদকের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে অনেকে নিজ জেলায় অনেক হুমকি-ধামকিও মারে। তাই আগামী সম্মেলনে সহ-সম্পাদকের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।

২০তম জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়ে গত ২৬ অক্টোবর ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দলের গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০ করার যে বিধান রয়েছে, আমরা তার বাইরে যাব না। এই কমিটির সদস্য সংখ্যা একশ’র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।’

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫(ক) উপ-ধারায় বলা আছে ‘সভাপতি বিভাগীয় (সম্পাদকীয় বিভাগ) উপ-কমিটিসমূহ গঠন করিবেন। তিনি প্রত্যেক উপ-কমিটির জন্য অনূর্ধ্ব পাঁচজন সহ-সম্পাদক মনোনীত করবেন।’

আরো বলা হয়েছে ‘সভাপতি উপ-কমিটিসমূহের কার্যাদি তদারক ও সমন্বয়ের ব্যবস্থা করিবেন।’

২৫(চ) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রত্যেক সম্পাদকীয় বিভাগের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি সম্পাদকীয় বিভাগে একটি করিয়া উপ-কমিটি গঠন করিবে। উক্ত উপ-কমিটি একজন চেয়ারম্যান, একজন সম্পাদক, অনূর্ধ্ব পাঁচজন সহ-সম্পাদক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে। উপ-কমিটিসমূহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রম জোরদার করার কাজে সহায়তা করিবে। প্রত্যেক বিভাগ উহার কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সরবরাহ ও সংরক্ষণ করিবে এবং সময়ে সময়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করিবে। প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার উপ-কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইবে। সভায় স্ব স্ব উপ-কমিটি তাহাদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন ও করণীয় নির্ধারণ করিবে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৩০ জুন সভাপতির কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা তো পুরনোদের চিনি। এবার নতুনদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়েছি। এখানে আমাদের একটা ক্যাটাগরি আছে। যারা অন্যান্য শাখা বা কমিটিতে আছেন, তারা কিন্তু উপ-কমিটিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি থাকতে পারবেন না। কিন্তু মেম্বার (কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য) থাকতে পারবেন। যারা অন্য কমিটিতে আছেন, এমন কেউ অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (সহ-সম্পাদক) হতে পারবেন না। এই অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (সহ-সম্পাদক) ১০০ অতিক্রম করবে না, সর্বমোট ৯৫ জনের মতো হবে।

সহ-সম্পাদকদের দায়িত্ববণ্টনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে তিনজন করে সহ-সম্পাদক সংযুক্ত থাকবেন। এ বিষয়ে আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রচার এবং দপ্তর এই দুটি বিভাগে পাঁচজন করে থাকবেন। তথ্য-গবেষণায় চারজন থাকবেন। এইভাবে আমরা চিন্তা-ভাবনা করেছি। ওই আলোকে আমরা পরবর্তী মিটিংয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করব। হয়ত সেক্ষেত্রে আরো একটি মিটিং করে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর আমরা আওয়ামী লীগ সভাপতির সাথে পরামর্শ করে ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশ করব।

কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্যদের পদসংখ্যার সীমা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, উপ-কমিটির সদস্য পদে ২০ থেকে ৩০ জন থাকবেন। এখানে পার্লামেন্টের মেম্বাররা থাকবেন ৫ থেকে ৭ জন। অনেক আছে আওয়ামী লীগ-মনস্ক, আমাদের আদর্শের লোক; তারাও স্থান পাবেন। আর ১৯টি উপ-কমিটির মধ্যে ১৬টি উপ-কমিটির মধ্যে তিনজন করে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তারপর আওয়ামী লীগের ১৯টি উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবের নাম ঘোষণা করে দলটি।

গত অক্টোবরে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ কমিটিতে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেটিকে খসড়া তালিকা হিসেবে স্বীকার করা হয়। চূড়ান্ত করার কথা অস্বীকার করে দলটি।

দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ ১১ অক্টোবর ২০১৭ বুধবার কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ-কমিটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রত্যেকটি বিভাগীয় উপ-কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ-কমিটিও গঠন প্রক্রিয়া চলছে। কার্যত, এখন পর্যন্ত শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিভাগের উপ-কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে মাত্র। সে মোতাবেক শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক এবং সদস্য সচিব শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিভাগের অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে আগ্রহী দলীয় নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে একটি উপ-কমিটি গঠনের নিমিত্তে খসড়া তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করেছেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত নামসমূহকে কোনোভাবেই উপ-কমিটি বলা চলে না কিংবা খসড়া উপ-কমিটি হিসেবেও বিবেচনা করা যায় না। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবার পর একটি প্রস্তাবিত তালিকা সংগঠনের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতির চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করার পরই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে পাঠানো হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর