৩ বছরে ১৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে চীন
৩ বছরে ১৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে চীন
২০১৭-১২-২৫ ০০:৫৭:৩১
প্রিন্টঅ-অ+


আইন বা অন্যান্য বিধিবিধান ভঙ্গের অভিযোগে ২০১৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গত তিন বছরে প্রায় ১৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে চীন।

সাইবার স্পেস পরিষ্কার করার জন্য অধিকাংশ জনগণ সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার এক খবরে রোববার জানানো হয়েছে।

পাঁচ বছর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করে চীন সরকার। সেই নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপগুলো ইতিমধ্যে আরো কঠোর করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, বাকস্বাধীনতা প্রতিহত করতে এবং কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা ঠেকাতে এসব পদক্ষেপ নিয়েছে জিনপিংয়ের সরকার।

চীনা সরকারের দাবি, সব দেশই ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাদের এ ধরনের আইনি পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো- সহিংস আধেয় ও পর্নোগ্রাফির প্রসার প্রতিরোধ করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। সিনহুয়া জানিয়েছে, বিরোধী দলহীন চীনের পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটির চলমান অধিবেশনে পেশ করা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্নোগ্রাফি ও সহিংসতা ছড়ানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ ও ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্টগুলো টার্গেট করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ১৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধের পাশাপাশি ওয়েবসাইটগুলোর প্রায় ১ কোটি অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাকাউন্টগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, দলের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় থাকা, দেশের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনগণের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় ইন্টারনেটের নিরাপত্তা সরকারের জন্য বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এতে আরো বলা হয়েছে, ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনায় সরকারের পদক্ষেপকে চীনের ৯০ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছে এবং ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করে, অনলাইনের ক্ষতিকর আধেয় (লেখা, ছবি ও অডিও-ভিডিও) কমিয়ে ফেলা উচিত।

সিনহুয়ার তথ্যানুযায়ী, চীনা পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াং শেংজুন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে রোববার বলেছেন, ‘এসব পদক্ষেপের শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে।’ চীনের সাইবার স্পেস প্রশাসনসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ গত তিন বছরে প্রায় ২ হাজার ২০০ ওয়েবসাইটের পরিচালনাকারীদের ডেকে তাদের সঙ্গে কথা বলেছে।

অন্য এক খবরে সিনহুয়া জানিয়েছে, ইন্টারনেট ও অন্যান্য টেলিকম সেক্টরে যারা প্রকৃত নাম ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করতে অসম্মতি জানিয়েছে, এমন প্রায় ১ কোটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কয়েক বছর তুমুল বিতর্ক সত্ত্বেও চলতি বছরের জুন মাসে কঠোর সাইবার নিরাপত্তা আইন চালু করে চীন। এতে বিদেশি ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে ছিলেন, দেশটিতে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চীনে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন রয়েছে। অনেক বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গুগল ও ফেসবুকসহ অসংখ্য সার্চ ইঞ্জিন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারে না চীনারা।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর