সরকারি চাকরির আবেদন ফি ১৫০০ টাকা!
সরকারি চাকরির আবেদন ফি ১৫০০ টাকা!
২০১৭-১২-২৩ ০০:৩৬:১০
প্রিন্টঅ-অ+


বর্তমান বাজারে চাকরি যেন এক সোনার হরিণ। চাকরির জন্য প্রার্থীকে পরীক্ষা দিতে হয়। আর সেই পরীক্ষার জন্য গুনতে হয় ফি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির পরীক্ষা ফি ছাড়াই নেওয়া হলেও সরকারি চাকরিতে সে সুযোগ নেই। তার জন্য গুনতে হয় টাকা। বেকার জীবনে এটি অনেকের কাছে বোঝার মতো।

সরকারি চাকরিতে এই ফি’র ক্ষেত্রেও আবার ভিন্নতা রয়েছে। একেক মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার ফি একেক রকম। এ বিষয়ে কোনও নীতিমালাও নেই। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একেক বেতন গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় জন্য একেক হারে ফি নেওয়া হয়। সাধারণত, গ্রেড ১৭ থেকে গ্রেড ২০ পর্যন্ত পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা, দশম গ্রেডে ৫০০ টাকা, নবম গ্রেডে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে দশম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় এক হাজার টাকাও ফি নেওয়া হয়ে থাকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগত ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের বিজ্ঞপ্তিতে অষ্টম এবং দশম গ্রেড বেতন স্কেলে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার ফি ধরা হয়েছে এক হাজার টাকা। একই বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ গ্রেড এবং ১৪ গ্রেডে পরীক্ষার ফি ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের গত ১০ ডিসেম্বরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে (গ্রেড ১০) পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এই একই গ্রেডে আবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার ফি ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার ফি চাওয়া হয়েছে দেড় হাজার টাকা।

বিজ্ঞপ্তিবিসিএস পরীক্ষার জন্য ফি নেওয়া হচ্ছে ৭০০ টাকা। ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকা হলেও ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে ৭০০ টাকা করে নেওয়া শুরু করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)।

পরীক্ষার ফি বৃদ্ধির হার প্রার্থীকে বিপাকে ফেলে বলে মনে করেন সদ্য পাস করা চাকরিপ্রত্যাশী মিরাজুল করিম। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরির পরীক্ষার ফি নির্দিষ্ট টাকায় সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্যাংক থেকে পে-অর্ডার করতে হয়, এ জন্য ব্যাংককে চার্জ দিতে হয়। এর সঙ্গে আবার ডাকটিকিট যুক্ত করতে হয়, রিটার্ন ডাকটিকিটসহ। সব মিলিয়ে ফি’র সঙ্গে আরও ১০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। একহাজার টাকা পরীক্ষার ফি হলে ১১০০ টাকা দিতে হয় শুধুমাত্র একটি আবেদনের জন্য। একটি আবেদন করে বসে থাকলে যে চাকরি পাবো, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। সেজন্য কয়েক জায়গায় আবেদন করতে হয়। প্রতিমাসে এরকম আবেদন করতে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। আমাদের পক্ষে এই খরচ খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু নিরুপায় হয়ে করতে হয়।’

এ বিষয়ে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের তো সরকার কোনও টাকা দেয় না। আমাদের নিজেদেরই আউটসোর্স করে আইবিএ’র মাধ্যমে পরীক্ষা নিতে হয়। আবার তার মধ্যে আছে টেলিটকের চার্জ। এসব কিছু মিলিয়ে আমাদের পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করতে হয়। আইবিএকে যে পরিমাণ টাকা দিতে হয়, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য করে আমরা এই ফি নির্ধারণ করি।’

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বা তার অধীন দফতরের নিয়োগ পরীক্ষা যদি বিভাগীয়ভাবে নেওয়া হয়, তাহলে খরচ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। বাইরে থেকে আউটসোর্সিং করে পরীক্ষা নেওয়া হলে তাদের প্রচুর পরিমাণে টাকা দিতে হয়। যে কারণে পরীক্ষার ফি বেশি হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতে পরীক্ষার জন্য মিনিমাম যেটুকু খরচ হয়, সেটাই নেওয়া উচিত। এর বেশি নয়।’

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিবিধ এর অারো খবর