ইন্টারনেটকে মৌলিক মানবাধিকার ঘোষণার প্রস্তাব তথ্যমন্ত্রীর
ইন্টারনেটকে মৌলিক মানবাধিকার ঘোষণার প্রস্তাব তথ্যমন্ত্রীর
২০১৭-১২-২০ ১৪:০১:১৭
প্রিন্টঅ-অ+


ইন্টারনেটকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে ঘোষণা দিতে বৈশ্বিক চুক্তির প্রস্তাব করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ডিজিটাল বিশ্বকে নিরাপদ ও জনমুখী রাখতে জাতিসংঘের দ্বাদশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামে (আইজিএফ) তথ্যমন্ত্রী চারটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

মঙ্গলবার সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যায় জেনেভার জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রের প্রধান হলে সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ডরিস লুথার্ড পাঁচ দিনের এ ফোরাম উদ্বোধনের পরপরই ‘ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বিশ্বের রূপরেখা’ শিরোনামের মূল আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় এ প্রস্তাব দেন হাসানুল হক ইনু।

তথ্যমন্ত্রী নিরাপদ সাইবার স্পেস, জাতিসংঘের অধীনে ডিজিটাল অর্থনীতির কাঠামো, ইন্টারনেটকে মৌলিক মানবাধিকার ঘোষণা এবং জাতিসংঘের অধীনে ইন্টারনেটের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা- এ চারটি চুক্তির প্রস্তাবের সাথে উন্নয়নকামী দেশগুলোর মানুষের ইন্টারনেট-প্রাপ্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আরো সাতটি কর্মপরিকল্পনাও পেশ করেন। সাত কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- ডিজিটাল সংযোগবঞ্চিতদের সংযোগের মধ্যে আনা, মাতৃভাষায় বিষয়বস্তু তৈরি, শিক্ষাপদ্ধতি সংস্কার, ডিজিটাল কাঠামো তৈরিতে আরো সরকারি উদ্যোগ, ই-ব্যবসায় আন্তঃদেশীয় বাধা দূর করা, টেকসই উন্নয়ন সহায়ক ডিজিটাইজেশন এবং সবার জন্য সুলভ নিরাপদ ইন্টারনেট।

হাসানুল হক ইনু এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে দেশের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ১৬০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে এখন ১৩০ মিলিয়ন মোবাইল ও ৮০ মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। ২২ হাজারের বেশি মাধ্যমিক স্কুলে ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে। মাধ্যমিক স্কুল থেকেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধ্যয়ন বাধ্যতামূলক।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে দ্বাদশ আইজিএফের দ্বিতীয় দিনের প্রধান অধিবেশন ‘রাজনীতি, নাগরিক আস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর ডিজিটাইজেশনের প্রভাব’ বিষয়ে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেন, ডিজিটাইজেশনের ফলে জনগণ ও সরকার আরো কাছাকছি আসছে ও আস্থা বাড়ছে, দুর্নীতি কমছে, অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের দ্রুত বিকাশ ঘটছে ও মানুষের সক্ষমতা বাড়ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে লেখা অধিকার জীবনের পাতায় আনতে সহায়ক এই ডিজিটাইজেশনকে নিরাপদ ও টেকসই করার জন্য বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিশ্বের প্রায় দেড় শতাধিক দেশের ১ হাজার প্রতিনিধি এ ফোরামে অংশ নিচ্ছে।

জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল হক অনু এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মন্ত্রীর সঙ্গে ফোরামে যোগ দেন।

আগামীকাল বুধবার ২০ ডিসেম্বর তথ্যমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর