সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আরও ১২৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আরও ১২৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ
২০১৭-১২-১৬ ০২:০৮:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীতে বিভিন্ন সরকারি অফিসে কাজ করছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। কিন্তু তাদের মাত্র ৮ শতাংশ আবাসন সুবিধাভোগী। সরকারি বাসার জন্য বাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপুল চাহিদাকে মাথায় রেখে সমস্যা নিরসনে এ বছর নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে আজিমপুর এলাকায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নির্মাণ করবে নতুন ১৭টি বহুতল ভবন। এগুলোতে থাকবে ১ হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট। গত জুলাই মাসে একনেকে প্রকল্পটি পাস হয়েছে। সবার চাহিদা পূরণ না হলেও সরকারের নতুন এই উদ্যোগ সরকারি মহলে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আজিমপুরে নতুনভাবে যে ১ হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে। ঢাকার লালবাগ থানার আজিমপুর এলাকায় ‘আজিমপুর সরকারি কলোনির অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (২য় পর্যায়)’ নামের প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে এর কাজ শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা দিয়ে উপযুক্ত, মানসম্পন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাসস্থান নিশ্চিত করে কাজের মান বাড়ানোই এ প্রকল্প গ্রহণ করার মূল উদ্দেশ্য।
সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৯টি ২০ তলা ভবনে ১০০০ বর্গফুট আয়তনের ৬৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনে থাকবে ৭৬টি ফ্ল্যাট। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় আরও ৮টি ২০ তলা ভবন বানানো হবে। যেখানে রাখা হবে ৮০০ বর্গফুট আয়তনের ৬০৮টি ফ্ল্যাট। এর প্রতিটি ভবনে ৭৬টি ফ্ল্যাট থাকবে।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় সাধারণ সুবিধা সম্পন্ন আরেকটি ছয় তলা ভবন থাকবে। সেখানে ১০০০ বর্গফুট বিশিষ্ট দুই তলার দুটি সার্ভিস ব্লক (পাম্প হাউজ, জেনারেটর রুম), ১টি সিভিল ও ই/এম গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ ভবন নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে ৭টি যানবাহন। ভূমি উন্নয়নসহ ১৬ হাজার ১৬৩ দশমিক ১০ ঘনমিটার ফুটপাত, সীমানা প্রাচীর (গেটসহ) ও অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ৮৮টি পাম্প মোটর, ১৮টি সাব-স্টেশন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সোলার সিস্টেম, আরবরিকালচার, ১২ হাজার মিটার ড্রেন, ১৮টি জেনারেটর, ৫৪টি লিফট (একটি বেড লিফটসহ প্রবি ভবনে মোট তিনটি লিফট), ৪টি গভীর নলকূপ, ৪২টি সেপটিক ট্যাংক ও পিট, ২টি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ, বিদ্যুতায়ন, বাইরে থেকে পানি সরবরাহসহ আনুষঙ্গিক কাজও করা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘকাল থেকেই চাহিদার তুলনায় বেশ ঘাটতি ছিল। এই আবাসিক সংকট দূরীকরণে বিদ্যমান ১৩ হাজার ৫২টি ফ্ল্যাট বা ইউনিট বাসা থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ১৬ হাজার ৩২০টি, ২০১৭ সালের মধ্যে ১৬ হাজার ৯৬৮টি ও ২০১৯ সালের মধ্যে ১৮ হাজার ২৭৬টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে আবাসন পরিদফতর।

এরই ধারাবাহিকতায় আবাসন সংকট নিরসনে গণপূর্ত অধিদফতরের আওতাধীন বিভিন্ন শূন্য জমিতে ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকার জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্দেশে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে আজিমপুর সরকারি কলোনির একটি অংশে ১৩ দশমিক ৬২ একর জায়গায় ৪-৫ তলার ২৪টি পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবন (৩৯২টি ফ্ল্যাট) ভেঙে ২৫টি বহুতল ভবন নির্মাণের লে-আউট পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওই লে-আউট বা নকশার ভিত্তিতে ১ম পর্যায়ে ৬টি ২০ তলা ভবনে ৪৫৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর একনেকে ‘আজিমপুর সরকারি কলোনিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির বর্তমান বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রায় ৭৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে ৩০ জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ২য় পর্যায় প্রকল্প প্রণয়নের সময় অতিরিক্ত খালি জায়গা সংস্থানের জন্য লে-আউট পরিকল্পনায় ২৫টি ভবনের পরিবর্তে ২৩টি ভবনের সংস্থান রাখা হয়। ২৩টি ভবনের মধ্যে ১ম পর্যায় প্রকল্পের ছয়টি ভবন বাদ দিয়ে বাকি ১৭টিতে ১ হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এ বছরের ১৮ মে প্রকল্পটির প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে ১৩ দশমিক ৬২ একর জায়গায় পুরনো ২৪টি ভবনে ফ্ল্যাট সংখ্যা ৩৯২টি ও উন্মুক্ত স্থানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৪ শতাংশ। পরিমার্জিত নকশা অনুযায়ী ২৩টি বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে এই উন্মুক্ত স্থানের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৭৫ শতাংশ। প্রকল্পের ১ম পর্যায়ে ৪৫৬টি ও ২য় পর্যায় ১ হাজার ২৯২টিসহ প্রকল্পের আওতায় মোট ফ্ল্যাট সংখ্যা দাঁড়াবে ১ হাজার ৭৪৮টি। যেখানে শিশুদের জন্য একটি খেলার মাঠসহ মোট খেলার মাঠ থাকবে চারটি।

গণপূর্ত ও গৃহায়ণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, বেশিসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আবাসন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে স্বল্প পরিমাণ জমিতে বেশিসংখ্যক আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতেই প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা দূর হবে অনেকাংশে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর