‘বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে’
‘বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে’
২০১৭-১২-১০ ১৪:৫৫:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে ব্যয় হয় তারচেয়ে অনেক কম দামে আমরা বিদ্যুৎ দিচ্ছি। তাই সবাইকে এই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুতের যেন কোনো অপচয় না হয়।

রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ১০ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম ও দুটি সোলারসহ চারটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।

শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আসা ১০ উপজেলা হলো-ফরিদপুর সদর, কামারখন্দ, মাদারীপুরের রাজৈর, মাগুরার শালিখা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আখাউড়া, নরসিংদীর বেলাবো, মেহেরপুর সদর, নেত্রকোনার মদন এবং নওগাঁ সদর।

নতুন চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো-শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট, সাল্লা ৪০০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ এবং সরিষাবাড়ী ৩ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নে বিদ্যুৎ উৎপাদন একান্ত অপরিহার্য। আমাদের প্রচেষ্টা ছিল কত দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি।’ তিনি বলেন, আশার কথা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে সোলার বিদ্যুৎ যুক্ত হলো। নতুন প্রযুক্তি এসে গেছে, আমরা ব্যবহার শুরু করেছি।

তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুৎসেবা পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যাবে। তৃণমূলে প্রত্যেক ঘরে ঘরে আলো জ্বলবে। ‘সারাদেশে ৪৫ লাখ সোলার প্যানেল আজ উৎপাদনে চলে এসেছে। বিজয়ের মাসে আমরা এই সুযোগ করে দিতে পারলাম।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল বলেই জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা চাই, মানুষ যেন উন্নত জীবন পায়। সেজন্যই আমাদের এই প্রচেষ্টা। আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দেশের উন্নয়ন যে সম্ভব; তা আমরা প্রমাণ করেছি।’

এ সময় তিনি রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করা এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির কথাও বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি তার শাসনামলে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়েছে। আমরা দিচ্ছি ১৬০০০ হাজার মেগাওয়াট।’

এ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ২০০৯ সালের শুরুতে দেশে ২৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। এখন ১১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার পর প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বলানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নসরুল হামিদ বিপু গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ এইচ এম মুতাইরি, বাংলাদেশে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আদেল মোহাম্মদ এএইচ হায়াৎ, সৌদি এক্সপোর্ট প্রোগ্রামের ডিরেক্টর জেনারেল আহমেদ আল ঘানী এবং সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট এর অ্যাডভাইজার আব্দুল্লাহ আল সেদকী উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিসহ নানা স্তরের স্থানীয় জনগণ, আওয়ামী নেতা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর