ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়তে মাঠে নামছে আ.লীগের আট দল
ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়তে মাঠে নামছে আ.লীগের আট দল
২০১৭-১১-২২ ২৩:৩৭:২৯
প্রিন্টঅ-অ+


ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়তে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে দলটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) নেতৃত্বে আটটি দল।

আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগের আট জেলার সব ইউনিটের কমিটির নেতাদের তথ্য সংগ্রহের মধ্যে দিয়ে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নির্বাচনী কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন সিআরআইর কর্মকর্তারা। এ সময় সিআরআইর পরিচালক প্রাক্তন ছাত্রনেতা সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, মিলন পাঠান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিআরআইর এই অস্থায়ী কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সিআরআই কর্মকতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় একযোগে কাজ শুরু হবে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা আওয়ামী লীগের সব ইউনিটের সব নেতার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতাদের নিয়ে এসব দল গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি দলে একজন দলনেতাসহ কয়েকজন সদস্য থাকবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার আয়তন বিবেচনা করে দলে আট থেকে দশজন সদস্য দেওয়া হয়েছে। আমরা তাদেরকে ওয়ার্ড, উপজেলা/থানা/পৌরসভা, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতাদের নাম, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল আইডি, এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ফেসবুক আইডিসহ ছবি সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছি। ধারাবাহিকভাবে অন্য বিভাগেও কাজ শুরু হবে। এরপর কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি র্নিদেশনাপত্র দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল প্রকার তথ্য সরবরাহ করে এসব দলকে সহযোগিতা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল ও বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ থেমে যায়। গত ১৯ আগস্ট রাজশাহী বিভাগের প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের মোবাইল ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শুরু করার কথা ছিল সিআরআইর কয়েকটি দলের।

গত ২১ মে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে দপ্তর কমিটির সভায় দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দপ্তর সমন্বয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ লক্ষে জেলা, উপজেলা ও মহানগর কমিটির দপ্তর ও উপ-দপ্তর সম্পাদকদের বিভিন্ন নির্দেশনা ও করণীয় সম্পর্কে অবগত করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দপ্তর সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনায় ওবায়দুল কাদের বলেন, যাদের অফিস (কার্যালয়) নেই তারা এখানে ফরমে লিখে দিয়ে যাবেন। এগুলো জমা না দিয়ে ঢাকা শহর ছাড়বেন না। যেখানে নেই, সেখানে আমরা অফিসের ব্যবস্থা করে দেব। আমাদের পার্টির অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন। যেসব জেলায় একেবারে নিজস্ব অফিস নেই অথবা ভাড়ায় আছে, সেগুলোও উল্লেখ করবেন। নেত্রী চাইছেন জেলা, উপজেলা পর্যায়ে দলের যেন একটা নিজস্ব কার্যালয় থাকে। সেটা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই জরুরি নির্দেশনা। কেউ তাড়াহুড়ো করে চলে যাবেন না। আপনাদের জেলায় যেসব উপজেলা আছে, সেখানে আপনাদের কাদের অফিস আছে, কাদের নেই, কারা ভাড়ায় আছেন- সবকিছুই উল্লেখ করে যাবেন। একটু সময় লাগলেও আপনারা এই কাজটি করে যাবেন। এটাই আজকের মিটিংয়ের মূল উদ্দেশ্য।

সভায় দপ্তর সম্পাদকদের মাঝে ফরম বিতরণ করা হয়।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, কেন্দ্রীয় থেকে জেলা পর্যায়ে সার্কুলার, পোস্টার, নির্দেশনা যায়। যাদের অফিস নাই তারা আপাতত একটা ঠিকানা দিয়ে যাবেন, নতুন কার্যালয় না হওয়া পর্যন্ত সে ঠিকানা ব্যবহার যাতে করা যায়। কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি, চিঠিপত্র, পোস্টারগুলো তৃণমূলের সংশ্লিষ্টদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেবেন। দল করলে দলের প্রতি কমিটমেন্ট নিয়ে এগুলো করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার করার ঘোষণা দেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে চাই। আর এটা সম্পন্ন করা হবে তথ্যপ্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। আওয়ামী লীগের সব সদস্যের জন্য ডাটাবেজ করা হবে। যেখানে সদস্যদের নাম, ঠিকানা ও পদবি থাকবে। সদস্যদের নাম-পরিচয় বিচ্ছিন্নভাবে না রেখে, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে একটি পয়েন্টে রাখা হবে। যাতে প্রয়োজনে সবার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা যায়। ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেমের মাধ্যমে তৃণমূলকে এ ধারায় নিয়ে আসা হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে।

২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর সাংগঠনিক তথ্যভাণ্ডারের কাজ শেষ করতে দলের সব ইউনিটের নেতাদের কাছে পুনরায় তথ্য চায় আওয়ামী লীগ। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংগঠনের সব ইউনিটের নেতার প্রতি এ অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। চিঠিতে দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষর করেন।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের বরাবরে পাঠানো অনুলিপি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান সরকারের প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন করা। এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি, জেলা/মহানগর কমিটি, উপজেলা-থানা কমিটি, পৌর-ইউনিয়ন কমিটিগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে একটি সাংগঠনিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি এর আগে আপনাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তাই আবারও এই কার্যক্রম সফল করতে সব ইউনিটের নেতাদের নাম, ঠিকানা, ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, কমিউনিটি পোর্টাল নিবন্ধন ফরম আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে পুনরায় পাঠানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের কয়েক দফায় এই আহ্বানের পরও দলের তৃণমূলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা সাড়া দেননি। তাই এবার আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে দলটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআইর নেতৃত্বে প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়ে দল গঠন করে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই এ তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করার নির্দেশনা আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআরআইর দুজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের টার্গেট হলো আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, যতগুলো সংগঠন আছে, আমরা সকল সংগঠনের তথ্য সংগ্রহ করব। এটা ধাপে ধাপে হবে। কারণ, এটা একবারে সম্ভব না। আবার অনেক এমপি, নেতা আছেন, যারা ই-মেইলও ব্যাবহার করতে চান না। ওনাদেরকে এতে অভ্যস্ত করানোটাও খুব কঠিন। এ কারণে আমরা যদি শুরুতেই মিডিয়ায় নিউজ করাই আর পরে দেখা গেল আউটপুট আসতেছে না। এজন্য এসব বিষয়ে কথা না বলার জন্য নির্দেশনা আছে। এমনকি যারা দলে কাজ করছেন, তাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টির উল্লেখ না করতে বলা হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর