ইন্টারনেট ব্যবহারে খুলনার শিক্ষার্থীরা এগিয়ে
ইন্টারনেট ব্যবহারে খুলনার শিক্ষার্থীরা এগিয়ে
২০১৫-১২-২০ ১৫:১৩:০৮
প্রিন্টঅ-অ+


সপ্তাহের প্রতিদিন নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুলনা অঞ্চল সবচেয়ে এগিয়ে। এখানকার ৬৭ শতাংশ স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী সপ্তাহজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

চলতি বছরের জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১ হাজার ৫১০ স্কুল শিক্ষার্থীর ওপর জরিপের ভিত্তিতে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্রামীণফোন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে, ইন্টারনেটে কোনো সমস্যায় পড়লে তাদের সাহায্য বা দিকনির্দেশনা দেয়ার কেউ নেই। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার অথবা এরা ইন্টারনেটে উত্ত্যক্তকারীদের অশোভন বার্তা পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারা বলেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা অভিভাবকরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সক্ষম নন।

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানে জানানো হয়, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ৪৯ শতাংশ সপ্তাহের প্রতিদিন কমবেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে। স্কুল ও কলেজের এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলেদের দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৫৩ শতাংশ ও সপ্তাহজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এমন মেয়ে শিক্ষার্থী মাত্র ৩৩ শতাংশ।

মাঝে-মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে এমন পরিসংখ্যানে এগিয়ে ময়মনসিংহ। এ অঞ্চলের ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মাঝে-মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পায় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

গ্রামীণফোন বলছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকে নিরাপদ করতে তথ্য সংগ্রহ এ জরিপ চালানো হয়। জরিপে দেখা যায়, সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করে এমন শিক্ষার্থী ৩১ শতাংশ। সপ্তাহে এক-দুইদিনের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে না এমন দলে আছে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। কালেভদ্রে ইন্টারনেট ব্যবহার করে এমন শিক্ষার্থী ৫ শতাংশ।

জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি গবেষণা প্রতিবেদনটি সম্প্রতি রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়। গ্রামীণফোনের হেড অব কর্পোরেট রেসপনসিবিলিটি দেবাশীষ রায় এটি উপস্থাপন করেন।

এতে আরও দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি সাইবার হয়রানির শিকার অথবা এরা ইন্টারনেটে উত্ত্যক্তকারীদের অশোভন বার্তা পেয়েছে। ইন্টারনেটের এ অপব্যবহার শিক্ষার্থীদের খুবই অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে। শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে তাদের বাবা-মা ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করার চেয়ে বেশিরভাগ সময়ই বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। গবেষণায় অংশ নেয়া ৭০ শতাংশ অংশগ্রহণকারীই এ ধরনের ঘটনায় তাদের ভাই-বোন ও বন্ধুদের সাহায্য করতে চায়। এরা জানায়, তাদের শিক্ষক ও বিদ্যালয় সাইবার অপরাধ প্রতিহত করতে এবং এ সংক্রান্ত বার্তা ছড়িয়ে দিতে সমর্থ নয়।

এদিকে গবেষণা প্রতিবেদনের শুরুতেই গ্রামীণফোন জানিয়েছে, দেশের মোট সাড়ে পাঁচ কোটি ইন্টারনেট সংযোগের মধ্যে ৯৫ শতাংশই মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে ৬৯ শতাংশ প্রতিদিনই ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ৬০ শতাংশ মাঝে-মধ্যেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিক্ষা এর অারো খবর