ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ পাচ্ছে চীন
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ পাচ্ছে চীন
২০১৭-১১-০৮ ০১:৫০:১৭
প্রিন্টঅ-অ+


প্রস্তাবিত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ পেতে যাচ্ছে চীনা কোম্পানি। সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যে ২৪ অক্টোবর প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের শুরু করতে চায় সরকার। এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে সেপ্টেম্বর-২০১৭ থেকে জুন-২০২২ পর্যন্ত। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঠানো দর প্রস্তাবে বলা হয়, ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদিত হয়েছে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পুরো প্রকল্পের পাইলের গভীরতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই উড়াল সড়কটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু হয়ে ইপিজেড-চন্দ্রা ইন্টারসেকশনে গিয়ে শেষ হবে। এক্সপ্রেসওয়েটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ২৪ কিলোমিটার। এর উভয় পাশে চার লেনের ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়কও নির্মিত হবে।

সেতু বিভাগের একটি সূত্র জানায়, আগামী বছরের শুরুতেই এর নির্মাণ কাজ শুরু হতে পারে। এ প্রকল্প নির্মাণে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪ শতাংশ সুদে ১০ হাজার ৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ঋণ দেবে চায়না এক্সিম ব্যাংক। বাকি অর্থের জোগান দেওয়া হবে সরকারিভাবে। প্রকল্প এলাকায় ৩৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য ব্যয় হবে ২ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর এ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন হবে ৩ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। এর একটা মোটা অঙ্ক বাজেটে বরাদ্দও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী আশুলিয়া অংশের যানজট নিরসন হবে অনেকাংশে। এ ছাড়া ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমের অন্তত ৩০টি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যানজটমুক্ত হবে আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা এলাকাও। প্রকল্পটির নির্মাণ পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী টোল আদায়ের মাধ্যমে তারা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে নেবে।

সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের নকশা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। চীন এতে বিনিয়োগ করতে সম্মতি দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতোই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ১০ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ র‌্যাম্প থাকবে, নবীনগর ইন্টারসেকশনে থাকবে ১ দশমিক ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার, বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুসারে ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু ও ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাও থাকবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটিতে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় ঢাকা-আশুলিয়া সড়কের পাশ দিয়ে একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এপ্রিল মাসে এই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটিকে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর