মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ উড়াল সড়ক চালুর পর এলাকায় স্বস্তি
মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ উড়াল সড়ক চালুর পর এলাকায় স্বস্তি
২০১৭-১১-০১ ১৫:৫৬:০৩
প্রিন্টঅ-অ+


মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ উড়াল সড়ক চালুর পর ওই এলাকায় যানজট অনেক কমেছে। উড়াল সড়কটি চালুর পর মৌচাক, মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ মোড়, কাকরাইল, মগবাজার, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, সাতরাস্তা এবং রামপুরাসহ উড়াল সড়ক সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে কর্ম চাঞ্চল্যতা ফিরেছে। এই উড়াল সড়কটি সম্পূর্ণ চালুর পর অত্র এলাকার রাজধানীবাসীর মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ বুধবার (১ নভেম্বর) উড়াল সড়কটির মৌচাক পয়েন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী জনাব শ্যামা প্রসাদ অধিকারী। সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌ: সুশান্ত কুমার পাল, প্রকল্পের পরামর্শক প্রকৌশলী জনাব নাজমুল আলম, এলজিইডি ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মো: শরফুল আনাম খান, প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব একেএম আমিরুজ্জামান এবং এলজিইডি ঢাকা জেলার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন।

গত কয়েকদিন আগেও মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরায় যানজট লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু সোমবার উড়াল সড়কের মালিবাগ, মৌচাক পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে কোনো যানজট নেই। উড়াল সড়কের ওপর এবং নিচ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে কোনো যানজট ছাড়াই।

বাসচালক আবু হানিফ (৩৫) জানান, আগে রাজারবাগ থেকে বাংলামোটর যেতে সময় লাগত দুই ঘণ্টা। এখন উড়াল সড়কটি চালুর পর রাজারবাগ থেকে বাংলামোটর যেতে লাগে পাঁচ মিনিট।

রামপুরা এলাকার মুদি দোকানদার হারেস আলী (৫০) জানান, রামপুরা থেকে কাকরাইল যেতে সময় লাগত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। এখন সময় লাগে মাত্র ১০ মিনিট। কোনো কোনো সময় পাঁচ মিনিটে যাওয়া যায়।

সিএনজিচালক মো. সানোয়ার হোসেন (৩০) জানান, হলিফ্যামিলি থেকে হোটেল সোনারগাঁও হয়ে কাওরান বাজার যেতে কখনো পাঁচ মিনিট আবার কখনো ২০ মিনিট সময় লাগে। তিনি জানান, উড়াল সড়কটি চালু হওয়ায় আমরা উপকৃত। আগে শুধু নিচ দিয়ে যান চলাচল করত। এখন ওপর ও নিচ দিয়ে সমানতালে যানবাহন চলাচল করায় যানজট অনেক কমেছে।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আবদুল আলিম খান জানান, উড়াল সড়কটি চালুর আগে রাজারবাগ থেকে বাংলামোটর যেতে সময় লাগত এক ঘণ্টা। এখন সময় লাগে মাত্র পাঁচ মিনিট।

মৌচাকে কাপড়ের দোকানদার হাসমত আলী জানান, উড়াল সড়ক চালুর আগে এখানে যানজট সব সময় লেগে থাকত। এখন উড়াল সড়ক চালুর পর যানজট অনেক কমেছে, যানজট নেই বললেই চলে।

ইস্কাটন-বাংলামোটর অংশে গতকাল সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, কোথাও যানজট না থাকলেও বাংলামোটর সিগন্যালের কারণে ভিআইপি সড়কে দীর্ঘক্ষণ ট্রাফিক চলাচল চালু রাখায় বাংলামোটর ফ্লাইওভার অংশে কিছুটা যানজট হচ্ছে, যেটা সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরসন সম্ভব। পুরো উড়াল সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, উদ্বোধনের পর থেকেই উড়াল সড়কে উৎসুক জনতা ভিড় করছে।

ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, গত কয়েকদিন থেকে উড়াল সড়কে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত উৎসুক মানুষ উড়াল সড়কের ওপর ভিড় করছে। ফলে যান চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটছে। তবে অনেকেই উড়াল সড়ক ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সংবাদকর্মী সুমন চৌধুরী (৩০) জানান, মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ উড়াল সড়ক চালুর পর রাজধানীতে সংশিস্নষ্ট এলাকাসমূহের যানজট অনেক কমেছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর