ভোলার শাহবাজপুর ক্ষেত্র থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু
ভোলার শাহবাজপুর ক্ষেত্র থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু
২০১৭-১১-০১ ১৫:০৯:১৮
প্রিন্টঅ-অ+


ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামের ‘শাহবাজপুর ইস্ট-১’ ক্ষেত্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) আজ বুধবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে গ্যাস উত্তোলনের কাজ করছে।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওশাদ ইসলাম জানান, ড্রিল স্টেম টেস্টের (ডিএসটি) মাধ্যমে তারা গ্যাস উত্তোলন করছেন। সকাল ১০টা থেকে গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। গ্যাসের চাপ প্রায় পাঁচ হাজার পিএসআই।

তিনি বলেন, ক্ষেত্রটিতে অন্তত ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে।

নওশাদ ইসলাম আরও জানান, আগামী মাসে ভোলা সদরের ভেদুরিয়ায় ‘ভোলা নর্থ’ অনুসন্ধান কূপ খনন কাজ শুরু হবে।

শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিজিএম) হাসানুজ্জামান এ প্রতিনিধিকে জানান, শাহবাজপুর ইস্ট-১ গ্যাসকূপ থেকে বুধবার সকালে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। এ সময় বাপেক্স- এর এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ অক্টোবর নতুন এ গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কারের খবর জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

বাপেক্স সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। ওই গ্যাসের ওপর নির্ভর করে ২০০৯ সালের দিকে গ্যাসভিত্তিক সাড়ে ৩৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (পাওয়ার প্ল্যান্ট) চালু হয়। সেই গ্যাস দিয়ে ২০১৩ সালের দিকে ভোলা সদর উপজেলার পৌরসভার কিছু এলাকায় আবাসিক গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নে গ্যাসভিত্তিক ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সাইকেল রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়।

বাপেক্স জানায়, ভোলার একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের চারটি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে জেলায় চাহিদার বিপরীতে ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।

বাপেক্সের সূত্র আরও জানায়, ১৯৮৬ সালে ভোলায় ২৬৬ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু ভোলায় আরও গ্যাস আছে বলে সংশ্লিষ্ট ভূতত্ত্ববিদরা ধারণা করতেন। সেই ধারণা থেকেই ২০১৬ সালে পুরো দ্বীপের ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালানো হয়। তাতে যে চিত্র পাওয়া যায় তার ভিত্তিতেই মুলাইপতনে অনুসন্ধান কূপ খননের স্থান নির্ধারণ করা হয়।

কূপটি খনন করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৪৭০ মিটারের মধ্যে তিনটি স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর