সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবন ছিল টার্গেট
সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবন ছিল টার্গেট
২০১৭-১১-০১ ০১:০৯:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


উড্ডয়নরত বিমান জিম্মি করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা।

একই সঙ্গে বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে নিয়ে অবতরণ করারও ছক এঁকেছিল তারা।

এ বিষয় নিয়ে রাজধানীর দারুস সালাম থানা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা কমলপ্রভায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সঙ্গে পাইলট সাব্বির এনামের আলোচনা হয়। সাব্বির কমলপ্রভার মালিক হাবিবুল্লা বাহার আজাদের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করতেন। সর্বশেষ তিনি সোমবার রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটের ওই বিমান চালিয়েছেন।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাসভবনে বিমান দিয়ে হামলা ও বিমান যাত্রীদের জিম্মি করার পরিকল্পনা স্বীকার করেছেন। তাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর পরামর্শে সক্ষম জঙ্গিদের বিমান চালানোর প্রশিক্ষণেরও চিন্তা করছিলেন সাব্বির।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, গত ২৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ থেকে নিহত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহচর বিল্লাল হোসেনকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। হামলার বিষয়ে সে প্রথমে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এছাড়া র‌্যাবের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে এসব তথ্যের প্রমাণ মিলেছে।

তিনি জানান, বিল্লালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর অন্যতম সহযোগী জেএমবির সদস্য সাব্বির এনাম সাব্বির (৩১), তার মা মোছা. সুলতানা পারভীন (৫৫), সাব্বিরের মামাতো ভাই আসিফুর রহমান আসিফ (২৫), স্থানীয় চা দোকানদার মোহাম্মদ আলমকে (৩০) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪।

তিনি বলেন, সাব্বির ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমিতে বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রিজেন্ট এয়ারওয়েজে চাকরি করেন। ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশে পাইলট হিসেবে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করছেন এবং সর্বশেষ গতকাল রাত সাড়ে ৭টা থেকে থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা- কলকাতা-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন।

তিনি বলেন, সাব্বির জঙ্গি আব্দুল্লাহর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার পর আরেক নিহত জঙ্গি সারোয়ার জাহানের কাছ থেকে বায়াত গ্রহণ করে। গুলশান হামলার আগে ও পরে সারোয়ার জাহান, আব্দুল্লাহ ও সাব্বিরের মধ্যে বৈঠক হয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল বিমান দিয়ে নাশকতা করা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, হয়তো তাদের পরিকল্পনা ছিল টুইন টাওয়ারে হামলার মতো। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যেহেতু আজ ভোরেই অপারেশন সমাপ্ত হয়েছে সেহেতু বেশি তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত সব প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এবং সাব্বিরের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আমরা তার পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত হতে পেরেছি।

জঙ্গিবাদে সাব্বিরের পরিবারের সংশ্লিষ্ট ও আর্থিক অনুদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানে চাকরির ভাতা হিসেবে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল তার। এরপর ওই টাকা আব্দুল্লাহর মাধ্যমে সংগঠনে দান করার কথা ছিল সাব্বিরের। এছাড়া বেশ কিছুদিন আগে বেলালের মাধ্যমে আব্দুল্লাহ একটি নাইন এমএম পিস্তল কিনতে চেয়েছিল। পরে দামে না হওয়ায় কিনতে পারেনি। পরবর্তীতে সাব্বিরের মা আব্দুল্লাহকে আশ্বস্ত করেছিলেন ওই পিস্তল তিনি তার টাকা দিয়ে কিনে দেবেন।

এছাড়া র‌্যাব যখন গত ৪ সেপ্টেম্বর কমলপ্রভায় অভিযানে যায় তখন সাব্বিরের বাবা অন্য কোনো ভাড়াটিয়াকে নয়, সর্বপ্রথম আব্দুল্লাহকে ফোন করে বলেছিলেন যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে।

ইউরোপের মতো ট্রাক হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের : মুফতি মাহমুদ খান জানান, ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে যেভাবে ট্রাক দিয়ে জনসমাগমে হামলা হয় সেভাবে ঢাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার বিল্লাল মূলত ট্রাক ড্রাইভার। তাকে নিয়ে আব্দুল্লাহ ও সাব্বির এ বিষয়ে পরিকল্পনা করেছিল। বিষয়টি মাথায় রেখে কয়েকজন জঙ্গিকে বিল্লাল ট্রাক চালনাও শিখিয়েছিল। এছাড়া বিল্লাল সম্ভাব্য হামলার স্থান রেকিও করে এসেছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল জানিয়েছে, তারা পুলিশ স্থাপনা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে টর্গেট করে হামলা চালাতে চেয়েছিল।

একই পরিবারের তিন জঙ্গি : সাব্বিরের পুরো পরিবার জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্ট বলে অনুসন্ধানে তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। এছাড়া তারা তাদের স্বজনদেরও জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করছেন। র‌্যাব জানতে পেরেছে, জঙ্গি আব্দুল্লাহ কমলপ্রভায় ১০ থেকে ১২ বছর থাকার সুবাধে সাব্বিরের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। সাব্বিরের মা সুলতানা পারভীন মাঝে-মধ্যে আব্দুল্লাহর বাসায় যেতেন। সেখানে আব্দুল্লাহ তাকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করেন, পরে তিনি তার কাছ থেকে বায়াত গ্রহণ করেন। এরপর একে একে পরিবারের সবাই জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হয়। তারা নিয়মিত জঙ্গি সংগঠনে এনায়ত বা আর্থিক বা চাঁদা দিতেন। জঙ্গি কার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে সুলতানা পারভীন তার ভাইয়ের ছেলেকেও এই পথে নিয়ে আসেন।

মাহমুদ খান বলেন, কমলপ্রভায় চালানো জঙ্গিবিরোধী অভিযানে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আগামীকাল তাদের আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। এ মামলায় আগেও আরো ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানান মুফতি মাহমুদ খান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর