পূর্ব এশিয়ায় শুরু হচ্ছে পরমাণু অস্ত্রের দৌড়: কিসিঞ্জার
পূর্ব এশিয়ায় শুরু হচ্ছে পরমাণু অস্ত্রের দৌড়: কিসিঞ্জার
২০১৭-১০-৩০ ১৮:৫৩:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+


পূর্ব এশিয়া পারমাণিক অস্ত্র সমৃদ্ধ করার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে । নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পূর্ব এশিয়া পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের দিকে ছুটছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জার বিশ্বে বিতর্কিত এক কূটনীতিক। স্নায়ুযুদ্ধের কৌশলবিদ হিসেবেও তিনি পরিচিত। কিসিঞ্জারের সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, নিক্সন প্রশাসনের সময় লাতিন আমেরিকায় সামরিক শাসনে সহযোগিতায় তাঁর হাত ছিল।

কিসিঞ্জার দাবি করেন, পারমাণবিক ক্ষমতাধর উত্তর কোরিয়ার কারণে পরমাণু অস্ত্রের দৌড় শুরু হতে পারে। এতে তীব্র এ প্রতিযোগিতা পুরো এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পারমাণবিক ক্ষমতাধর হওয়ার লক্ষ্য শুধু উত্তর কোরিয়ার একা নয়। দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সমকক্ষ হওয়ার চেষ্টা করছে। জাপানও চুপচাপ বসে থাকবে না। তাই এ অঞ্চলে পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের কথা বলা হচ্ছে। পারমাণবিক ক্ষমতাধর উত্তর কোরিয়া বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ৬০ শতাংশ মানুষ দেশটির পরমাণু অস্ত্র তৈরির পক্ষে। তবে জাতিসংঘ তাদের থামিয়ে রেখেছে। উত্তর কোরিয়ার প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবেকে দেশটির অস্ত্র বিস্তারে পরিবর্তন আনতে সুযোগ তৈরি করছে।

পরমাণু নিরস্ত্রকরণ চুক্তির সদস্য হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও রাখতে পারে না। তবে টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দুটি দেশের পক্ষে দ্রুত হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আছে। ২০১৫ সালে ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের প্রেসিডেন্ট চার্লস ফার্গুসনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া একাই চার হাজার ৩০০ পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা রাখে।

সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিউক্লিয়ার প্রকৌশলের অধ্যাপক শু কুন-ইয়ুল বলেন, আমরা যদি নিজের পায়ে চাই এবং আমাদের উপাদানগুলো এক জায়গায় করি মাত্র ছয় মাসে পারমাণবিক বোমা বানাতে পারি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে প্রেসিডেন্টের সেরকম কোনো রাজনৈতিক ইচ্ছা আছে কানা সেটা।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকেই অবশ্য সামরিক অনুভূতি উসকে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুক্তি দেখান, বিভিন্ন দেশকে সামরিক সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র যে সহযোগিতা করে কোনো দেশ তার যথেষ্ট অর্থ পরিশোধ করে না। সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সামরিক অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন। এশিয়াতে অস্ত্রের দৌড় শুরু হওয়ার দুশ্চিন্তা বেড়েছে এতে।

কয়েক দশক ধরেই বিশেষজ্ঞরা পূর্ব এশিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামান্য সামরিক সংঘর্ষে পরমাণু অস্ত্র সজ্জিত জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়া বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া পূর্ব এশিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদান চলে যেতে পারে যা থেকে মারাত্মক হুমকি তৈরি হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান শুধু নয় টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার, তাইওয়ান ও ভিয়েতনাম নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে হাঁটছে। তথ্যসূত্র: নিউজউইক।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর