‘অর্থমন্ত্রীর বাসার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে’
‘অর্থমন্ত্রীর বাসার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে’
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১২-১৯ ১১:২৬:১১
প্রিন্টঅ-অ+


প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ‘আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে তাদের ছয় দফা দাবি না মেনে নেয়া হলে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হবে এবং তার বাসার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।’ আজ শনিবার সকাল ১১টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তাগণ এসব কথা বলেন।
প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির খুলনা জেলার সভাপতি বাহারুল আলম বলেন, আমাদের এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তে খরকুটোর মত ভেসে যাবেন আমলারা। অনেক বক্তব্য সমাবেশ হয়েছে এখন দরকার কঠোর কর্মসূচি। আমলারা কখনই পেশাজীবীদের বিকল্প হতে পারে না।
কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ১৫ ডিসেম্বর ক্যাডার- নন ক্যাডারের যে নোংরা বৈষম্য সৃষ্টিকারী গেজেট পাশ হলো তার প্রতিবাদে কেন ১৭ তারিখ সারা বাংলাদেশ অচল করে দেওয়া হলো না?
তিনি বলেন, কৃত্য পেশাভিত্তিক প্রশাসন আমাদের দাবি নয়; অধিকার। কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কৃত্য পেশাভিত্তিক প্রশাসন গঠন করতে বাধ্য করা হবে সরকারকে। এবং তারপর সোহোরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল আনন্দ সমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির এই আন্দোলন কর্মসূচি শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিসিএস ফরেস্টের সভাপতি ইউনুস আলী বলেন, চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য আর্থসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও দেশের দ্রুত অগ্রগতিতে ভুমিকা রাখছে যে সব কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, চিকিৎসকরা তাদেরকে আন্দোলনে নামানোর মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান করলো সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সরকার। এটা তারা করেছে ঈর্ষা থেকে। কারণ, দেশের যাবতীয় উন্নয়নে প্রশাসন ক্যাডারদের সামান্যতম অংশগ্রহন নেই। তাই, তারা আমাদের এই সাফল্য, দেশ ও জাতির এই সাফল্য সহ্য করতে পারছেন না। বিজয়ের মাসে তিনি সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সরকারকে উৎখাতের করার জন্য আহবান জানান।
বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের সভাপতি ডাঃ সেলিম রেজা বলেন, আমরা ফাইল গার্ড দেই না; মাঠে কাজ করি। সরকারের দেখা স্বপ্নের বীজ বপন করি, ফসল ফলাই। কিন্তু সরকারের সেই স্বপ্নের সোনালী ফসল বিনষ্ট করার জন্য সেই ফাইল গার্ড দেওয়া ক্যাডাররা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। সরকারের স্বার্থে দেশ ও জাতির স্বার্থে এদেরকে প্রতিহত করার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির দাবি জানান ।
ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর বলেন, তিন মাস যাবত শান্তি পূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি এটাকে প্রশাসন ক্যাডাররা আমাদের দুর্বলতা হিসেবে নিয়েছে। ওরা সরকারের সাথে পেশাজীবীদের বিরোধ সৃষ্টি করে সরকারেকে বিপাকে ফেলতে চাইছে। আর পিছ পা হওয়ার সুযোগ নেই এখনি এদের প্রতিহত করতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশন বাংলাদেশের সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মামুন বলেন, ২০১৫ সালে এসে ঔপনিবেশিক ধ্যান ধারণা নিয়ে বাংলাদেশ চলতে পারে না। এটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন আজ থেকে ৪৪ বছর আগে। তাই তিনি জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে শিক্ষা সচিব করেছিলেন। জাতির পিতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পরে খুন হয়ে গেছে তার সপ্নের সেই কৃত্য পেশাভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থা। আমরা কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার দেখা সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবো। তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ জানুয়ারির ভেতরে যদি তাদের ছয় দফা দাবি না মেনে নেওয়া হয় তাহলে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করবো, তার বাসার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
মৎস্য ক্যাডারের মহাসচিব মজিবর রহমান বলেন, ইতিহাসের আকর্ষণীয় ও গ্রহনযোগ্য পে-স্কেল দেওয়া স্বত্বেও আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা না জানিয়ে আজ এখানে সমাবেশ করছি। এর জন্য দায়ী প্রশাসন ক্যাডাররা। তারা চান না এই সরকার সাফল্যের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করুক। বিভিন্ন কালা-কানুনের মাধ্যমে তারা সরকার আর পেশাজীবীদের মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রশাসন ক্যাডারদের রুখে দিয়ে সরকারের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রক্ষার্থে ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে প্রকৃচি বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে কঠোর কর্মসূচি আহবান করেন।
কৃষি ক্যাডার এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব খায়রুল আলম প্রিন্স বলেন, আমরা কখনই চাইনি আমাদের আন্দোলনের কারণে সরকার কোন বিপাকে পড়ুক। কারণ, আমরা সরকারেরই লোক। সরকারকে সহযোগিতা করাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু এই আস্থা ও আনুগত্যকে সরকার আমাদের দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে।
বিসিএস সমন্বয় কমিটির সাংগঠনিক সচিব মাসুমে রাব্বানি বলেন, টাইম স্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড ছাড়া এই পে স্কেল মানি না, ক্যাডার- নন ক্যাডার বৈষম্য সৃষ্টিকারী এই পে স্কেল মানি না। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন কর্মসূচি নিতে হবে। দু একদিনের ভেতরে কর্মবিরতি কর্মসূচির আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রকৃচি বিসিএস সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও বিএমএর সভাপতি ডঃ মাহমুদ হাসান নিম্নলিখিত কর্মসূচি ঘোষণা দেন-
২০ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়, বিভাগ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কালো ব্যাজ ধারণ
২৩ ডিসেম্বর ২০১৫ , বুধবার সারাদেশে মানববন্ধন
২৪ ডিসেম্বর ২০১৫, বৃহস্পতিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান
২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ প্রতিদিন এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন
প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও বিএমএর সভাপতি মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন আইইবি-র সভাপতি কবির আহমেদ ভুঁইয়া, কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশনের মহাসচিব মোবারক আলী, প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম তুহিন, ডাঃ মোশতাক হোসেন, পরমাণু বিজ্ঞানী মঙ্গল চন্দ্র, ডঃ নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর