ই-সিগারেট ক্ষতিকর?
ই-সিগারেট ক্ষতিকর?
২০১৭-১০-২৩ ০১:৫৬:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+


সিগারেটের নেশা থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করার জন্য ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু ই-সিগারেটও কী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

নতুন একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, ই-সিগারেটগুলো সাধারণ তামাকজাত দ্রব্যের মতোই ফুসফুসের রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তামাক ধূমপায়ী, ই-সিগারেট ধূমপায়ী এবং অধূমপায়ীদের লালার নমুনা তুলনা করে এই গবেষণার ফলাফল তৈরি করেছেন।

গবেষকরা দেখেছেন যে, ফুসফুসের রোগগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত সিওপিডি এবং সিস্টিক ফ্রাইব্রোসিসের মতো বিপজ্জনক প্রোটিনগুলো ই-সিগারেট ধূমপায়ীদের মধ্যে গড়ে উঠতে পারে। তাই এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো সাধারণ সিগারেটের তুলনায় মানুষের জন্য ভালো নয়।

গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করছে যে, ধূমপানে আসক্ত যারা ধূমপানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য আদর্শ বিকল্প হিসেবে ই-সিগারেটে ঝুঁকছেন, সেটিও আসলে ক্ষতিকর।

গত বছর সার্জন জেনারেলের একটি রিপোর্ট বলা হয়েছিল, ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার ৯০০ শতাংশ বেড়েছে। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ ই-সিগারেটকে তামাক দ্রব্য হিসেবে পর্যবেক্ষণে রেখেছিল।

এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, ই-সিগারেট একজন মানুষের হার্টের জীবনব্যাপী ক্ষতি করতে পারে। এছাড়াও ওয়েস্ট ভার্জেনিয়ার একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ানোর মতো সবকিছুই করে ই-সিগারেট।

নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববদ্যালয়ের নতুন এই গবেষণায় ১৫ জন ই-সিগারেট ধূমপায়ী, ১৪ জন সাধারণ সিগারেট ধূমপায়ী এবং ১৫ জন অধূমপায়ীকে পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। অংশগ্রহণকারীদের ধূমপান স্ট্যাটাস মূত্র পরীক্ষা দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছিল।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ই-সিগারেট ধূমপায়ীদের শরীরে নিউট্রোফিল-এক্সট্রাসেলুলার-ট্রাপ (এনইটি) সম্পর্কিত প্রোটিন বৃদ্ধি পেয়েছে। নেট প্রোটিন জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কিন্তু এই প্রোটিন বেশি বৃদ্ধি পাওয়া ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে। এই প্রোটিন সিওপিডি এবং সিস্টিক ফাইব্রোসিসের সঙ্গে যুক্ত থাকে, আর এই দুটোই রোগীদের শ্বাস-প্রশ্বাস কঠিন করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, ই-সিগারেট ধূমপায়ীদের ফুসফুসের বাইরে এনইটি’র মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং রক্তনালী টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

গবেষকরা আরো উল্লেখ করেন, ই-সিগারেট প্রদাহজনিত রোগ যেমন সেরোসিস, লুপাস এবং ভাসকুলিটিস বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তবে এগুলো নিশ্চিত ভাবে বলার আরো গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ই-সিগারেট ধূমপায়ীদের ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা, ব্রংচিকটাসিস এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিতে ফেলে।

গবেষণার লেখক ডা. মেহমেদ কাসিমের বলেন, সিগারেটের তুলনায় ‘ই-সিগারেট’ নিরাপদ কিনা তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে কারণ ই-সিগারেটের নেতিবাচক প্রভাবগুলো নিয়ে কেবলমাত্র গবেষণা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের গবেষণার ফলাফল অনুসারে বলা যায়, ই-সিগারেট সাধারণ সিগারেটের মতোই ক্ষতিকারক হতে পারে।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বাস্থ্য এর অারো খবর