মঙ্গল গ্রহে মানুষের সম্ভাব্য আত্মঘাতী সমস্যা
মঙ্গল গ্রহে মানুষের সম্ভাব্য আত্মঘাতী সমস্যা
২০১৭-০৯-২৬ ০৭:০২:৪০
প্রিন্টঅ-অ+


আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মানুষবাহী মহাকাশযান পাঠাতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে ভুগছে নাসা। চীন বলছে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রহটিতে মানুষ পাঠানোর আশা করছে। এমনকি রাশিয়াও মঙ্গল গ্রহে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এদিকে রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাটা এলন মাস্ক যত দ্রুত সম্ভব মঙ্গল গ্রহে ১ লাখ মানুষের বসতি স্থাপন করার লক্ষে স্পেস ফ্লাইটের ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

কিন্তু সম্প্রতি ইঁদুরের ওপর করা রেডিয়েশনের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা যদি মানুষের ক্ষেত্রে একই হয়, তাহলে মঙ্গল গ্রহে যাওয়াটা যেকোনো ব্যক্তির জন্যই ধারণার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। নেচারে প্রকাশিত গবেষণাটিতে মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, কসমিক রে (মহাজাগতিক রশ্মি)।

কসমিক রে এর ভয়াবহ দিক
মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে খুবই উচ্চ শক্তিসম্পন্ন অ্যাটমিক এবং সাবঅ্যাটমিক কণা, যা নক্ষত্রের বিস্ফোরণ, ব্লাক হোল এবং অন্যান্য শক্তিশালী উৎস থেকে উৎপত্তি হয়। এই রশ্মির প্রভাবে নভোচারীর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ক্যানসার হতে পারে, দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হতে পারে, এছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

পৃথিবীতে থাকা আমাদের তুলনায় মহাকাশচারীরা অনেক বেশি উচ্চ বিকিরণ পায়, কেননা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অনেক ক্ষতিকর বিকিরণ শোষণ করে নেয়। এছাড়াও পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি মহাজাগতিক অনেকগুলো বিকিরণকেও বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং স্থানচ্যুত করে, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা মহাকাশচারীদের রক্ষা করতে সাহায্য করে, যেটি পৃথিবীর মাত্র ২৫০ মাইল ওপরে অবস্থিত।

মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণের বেলায় বলা যায়, সেটি হচ্ছে মহাজাগতিক রশ্মির জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ। উপরন্তু, গ্রহটি তার চৌম্বক ক্ষেত্র কোটি কোটি বছর আগে হারিয়েছে, ফলে মহাকাশচারীদের সেখানে অতিরিক্ত বিকিরণের প্রভাবে ফেলবে।

নেভাদা লাস ভেগাস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক কুইনোটা এবং তার সহকর্মী ইলিডোনা কাকাও তাদের গবেষণায় ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে ইঁদুরের টিউমারের সৃষ্টির চারটি পূর্ববর্তী গবেষণার ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে এই সমস্যাটি খুঁজে পেয়েছেন। শরীরের কোষে সরাসরি অত্যাধিক মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে ক্যানসার হতে পারে। ইঁদুরের ক্ষেত্রে গবেষণায় তারা দেখতে পেয়েছেন যে, আগের অনুমানের তুলনায় ক্যানসার ঝুঁকি দ্বিগুণ ছিল।

ডিপ-স্পেস ভ্রমণ যে কারণে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক
গবেষকরা মনে করেন, ক্যানসারের এই উচ্চ ঝুঁকি পুরো শরীরের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করায় সৃষ্টি হয়। যখন শরীরের কোনো কোষ মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে পড়ে, তখন এটি কেবল নিজেকেই পরিবর্তন করে না। বরঞ্চ অন্য কোষগুলোর রাসায়নিক কাজও বন্ধ করতে পারে, যা ক্যানসারে রূপান্তর হতে পারে।

মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাব কমাতে স্পেস এজেন্সি এবং প্রাইভেট কোম্পানিগুলো কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ, নাসার বিজ্ঞানীদের একটি দল মঙ্গলের চারপাশে ক্ষতিকারক বিকিরণ কমানোর জন্য কৃত্রিম চৌম্বকীয় ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

নেভাদা লাস ভেগাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, ডিপ-স্পেস গবেষণায় মহাকাশ সংস্থাগুলোকে আরো সতর্কটা অবলম্বন করতে হবে।

তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর