শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৮-২০ ১৭:৪৬:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+


গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মমতাজ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, মো. রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান খান, মো. ইউসুফ ওরফে মোসহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও মাওলানা আ. রউফ ওরফে মুফতি আ. রউফ ওরফে আ. রাজ্জাক।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতি মোতাবেক গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এই মামলায় মেহেদী হাসান ওরফে আব্দুর ওয়াদুদ নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আসামি আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস, মো. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও সারোয়ার হোসেন মিয়াকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলায় ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন। এরা হলেন- খন্দকার মো. কামাল উদ্দিন শাকের, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আ. রাজ্জাক, মুন্সী ইব্রাহীম, মো. শাহেনেওয়াজ ওরফে মো. আজিজুল হক, মো. লোকমান, শেখ মো. এনামুল হক, মো. মিজানুর রহমান, মাওলানা সাব্বির ওরফে আব্দুল হান্নান, মো. মাহমুদ আজহার ওরফে মামুনুর রশীদ ও মো. আবুল হোসেন ওরফে খোকন।

এদিকে গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক নগর এলাকায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার আরেক মামলায় ৯ জনকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এরা হলেন- মো. ইউসুফ ওরফে মোসহাব ওরফে আবু মুসা হারুন, মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস, মেহেদী হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদ, ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক হোসেন, মো. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাহমুদ আজাহার ওরফে মামুনুর রশীদ, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম, মো. শাহনেওয়াজ ওরফে মো. আজিজুল হক ও শেখ মো. এনামুল হক। এদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

এই মামলায় হাসমত আলী কাজী, আবুল হোসেন খোকন, মুন্সী ইব্রাহীম ও লোকমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের খালাস দিয়েছেন।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে শেখ হাসিনার সমাবেশ করার কথা ছিল। ওই সমাবেশের প্যান্ডেল তৈরির সময়ে ২০ জুলাই ওই কলেজের পাশ থেকে ৭৬ কেজি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় কোটালীপাড়ার এসআই নুর হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই বছরের ২ জুলাই আদালত মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে ৮৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

গোপালগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০০ সালের ২৪ জুলাই গোপালগঞ্জ থানাধীন ঘোষেরচর মৌজায় বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় সোনার বাংলা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (সাবান কারখানা) নাম দিয়ে এর অন্তরালে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণাদি মজুদ করে বোমা তৈরি করে ও বিস্ফোরক দ্রব্য দখলে রাখার অপরাধ করে।

ওই ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান ২০০১ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই বছরের ৭ জুন আদালত মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে আদালত ৪৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর