'এ অপরাধ ক্ষমা করো হে পিতা'
'এ অপরাধ ক্ষমা করো হে পিতা'
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৮-১৫ ০১:৪৪:০১
প্রিন্টঅ-অ+


১৫ আগস্ট ছিল স্বাধীনতার পর আমাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন হলাম, বিজয় অর্জন করলাম স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে। এর ফলে যারা পরাজিত হয়েছিলো রাজনৈতিক দর্শনের দিক দিয়ে বা যুদ্ধের ময়দানে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিলো- মূলত তারাই তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এতোটাই মরিয়া হয়েছিলো যে বিজয়ের ঠিক পূর্বমুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর আমাদের উল্লেখযোগ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এটা যে প্রতিশোধ ছিল তা আরও বোঝা যায় যখন তারা হত্যা করে মুজিবনগর সরকারের যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেসব নেতাকে জেলখানায় হত্যা করে। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু। আগেও তারা তাঁকে আগরতলা ষড়যন্ত্রে আটক করেছে। বাঙালি গণ অভ্যুথ্যান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্ত করে। তবে এটাই সবচেয়ে দুঃখের বিষয় ছিল যে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানীরা পাকিস্তানে আটক রেখেও যা করার সাহস পায়নি, তা-ই করেছে পাকিস্তানের আদর্শপুষ্ট কিছু বাঙালি সেনাকর্মকর্তারা সদ্য স্বাধীন দেশে তাঁকে স্বপরিবারে হত্যা করে ।

"বিদেশি মাটিতে ঝরেনি রক্ত; নিজ বাসভূমে
নিজ বাসগৃহে নিরস্ত্র তাঁকে সহসা হেনেছে ওরা।
নিহত জনক আগামেমনন, কবরে শায়িত আজ।"

যে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম- সেই দর্শনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে ধর্ম নিরপেক্ষ মূলমন্ত্রে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে সাথে বাংলাদেশকে ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবধারার মধ্য থেকে বের করলো। তার মানে তারা আবার পাকিস্তানী ভাবধারার একটা রাষ্ট্র বানাতে শুরু করলো ১৫ আগস্টের পর।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালির সাথে তাদের প্রথম বিরোধ ভাষা নিয়ে। তারপর এক দীর্ঘ সাংস্কৃতিক আন্দোলনও হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু সেই ভাষা আন্দোলন উপলক্ষে জেল খেঁটেছেন।

সুদীর্ঘ ভাষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বঙ্গবন্ধু তাই বাঙালি জাতীয়তাকে স্থান দিয়েছিলেন সংবিধানে তথা মুজিববাদে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পরপরই বাঙালি জাতীয়তাবাদকে অপব্যখ্যা দিয়ে সংবিধান থেকে সরিয়ে দেয়া হল। তাদের প্রতিশোধ এতোটাই ব্যাপক ছিল যে আজও আমরা ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করতে পারিনি।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে সাথে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হল। পরবর্তীতে অনেক আন্দোলন দ্বারা আবার গণতন্ত্রকে বাংলাদেশে স্থাপন করা গেছে।

আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলি, ১৫ আগস্ট তাদের জন্য লজ্জা ও অপমানের। প্রতিবাদ করতে পারিনি সাথে সাথে- জনক হত্যার। তারপরে একে একে স্বাধীনতার মূলমন্ত্র, সংবিধানের চার মূলনীতি যেটা মুজিববাদ নামে পরিচিত- সেই মুজিববাদকেই আমরা ফিরিয়ে আনতে পারিনি। অথচ আমরা নিজেদের মুজিববাদী পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করি।

তাইতো ১৫ আগস্ট এলে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। এ অপরাধ ক্ষমা করো হে পিতা। তবুও এখনও স্বপ্ন দেখি-

" ...সমবেত সকলের মতো আমারো স্বপ্নের প্রতি পক্ষপাত আছে,
ভালোবাসা আছে শেষ রাতে দেখা একটি সাহসী স্বপ্ন গতকাল
আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।

...আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি,
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।"

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

সম্পাদকীয় এর অারো খবর