ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বৈষম্য রেখেই নতুন বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ
ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বৈষম্য রেখেই নতুন বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১২-১৬ ১৯:০৯:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+


ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের যোগদানের ক্ষেত্রে কিছুটা বৈষম্য রেখেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

জারি করা আদেশ অনুযায়ী ক্যাডার কর্মকর্তারা এখন থেকে অষ্টম গ্রেডে যোগদান করবেন। আর নন-ক্যাডাররা করবেন নবম গ্রেডে। এত দিন উভয় শ্রেণির কর্মকর্তারা নবম গ্রেডে যোগ দিতেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অষ্টম গ্রেডে যোগ দেবেন। সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে সুবিধা পেতেন, তা হিসাব করে নির্দিষ্ট বছর পর পর পদোন্নতির প্রক্রিয়া নির্ধারণ ও প্রয়োজনে পদ সৃষ্টি করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। তবে চিকিৎসকদের একই দাবি থাকলেও সে ব্যাপারে কোনো সুরাহা নেই নতুন বেতন কাঠামোতে।

জারি হওয়া আদেশে বলা হয়েছে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যাঁদের পদোন্নতি হবে না, তাঁরা প্রথম ১০ বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন কাঠামোর ওপরের গ্রেডে পৌঁছাবেন। আর পরেরবার ওপরের গ্রেড পাবেন আরো ছয় বছর পর। নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ কম থাকায় তাঁদের জন্য প্রযোজ্য সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দিয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

বেতন কাঠামোর আদেশে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি সুবিধা (ইনক্রিমেন্ট) সবার ক্ষেত্রেই বাতিল করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে প্রতিবছর একই দিনে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ইনক্রিমেন্ট পাবেন।

মঙ্গলবার সকালে নতুন বেতন কাঠামোর (অষ্টম বেতন স্কেল) প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে সোমবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের তিন মাস পর মঙ্গলবার রাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অষ্টম বেতন কাঠামোর এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করে নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এনিয়ে আপত্তি জানিয়ে আন্দোলনেও নেমেছিলেন।

এরপর এই বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় একটি কমিটি হলেও তার কোনো সুরাহা না হওয়ার মধ্যে গেজেট প্রকাশ হল।

গেজেট প্রকাশ হওয়ায় আগামী জানুয়ারি মাসে যে বেতন তুলবেন ২১ লাখ সরকারি কর্মী, তা নতুন কাঠামোয়।

গত ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর ধরা হবে বলে সেই অর্থ বকেয়া হিসেবে পাবেন তারা।

গেজেটে বলা হয়েছে, “কর্মচারীগণ ১ জুলাই ২০১৫ তারিখ হইতে এই আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হইবেন।

“এই আদেশের অধীন প্রদেয় অন্যান্য সকল ভাতা ৩০ জুন ২০১৫ তারিখে প্রাপ্য অঙ্কে ৩০ জুন ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত প্রদান করা হবে।”
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বিলুপ্ত হলেও যে সব কর্মচারী ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে অবসরোত্তর ছুটি বা পিআরএলে রয়েছেন, তারা ৩০ জুন ২০১৫ সালে যে হারে মহার্ঘ ভাতা পেতেন, সে হারে পেতে থাকবেন বলে গেজেটে বলা হয়েছে।

অষ্টম বেতন কাঠামোতে ২০টি গ্রেডের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে ৮২৫০ টাকা। যাতে বেতন বেড়েছে গ্রেড ভেদে ৯১ থেকে ১০১ শতাংশ।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও এদের সমমর্যাদার পদের বেতন ৮৬ হাজার টাকা এবং জ্যেষ্ঠ সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ৮২ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকছে।

বিদ্যমান সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বিলোপ করে গেজেটে বলা হয়েছে, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর সন্তোষজনকভাবে চাকরি করলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একাদশ বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন।

আর কোনো স্থায়ী কর্মচারী চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার পর পরবর্তী ছয় বছর পদোন্নতি না পেলে তার চাকরি সন্তোষজনক হলে সপ্তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন বলে গেজেটে উল্লেখ রয়েছে।

গেজেট প্রকাশের আগের দিন অর্থাৎ গত ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব সরকারি কর্মচারী সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পেয়েছেন, তা বহাল থাকবে বলেও গেজেটে বলা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতি বছরের ১ জুলাই একসঙ্গে সব সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়বে।

এছাড়া নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।

নতুন স্কেলে শুধু বেতন দিতেই চলতি অর্থ বছরে সরকারের ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। আগামী বছর বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত লাগবে ২৩ হাজার ৮২৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

আগের বেতন কাঠামোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বেতন কমিশন গত বছরের ২১ ডিসেম্বর অষ্টম বেতন স্কেলের সুপারিশ জমা দেন। ১৬টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা মূল বেতন ধরে নতুন কাঠামো প্রস্তাব করে কমিশন।

ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি গত ১৩ মে সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ এবং সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা মূল ধরে কাঠামো সুপারিশ করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল ধরে নতুন কাঠামো অনুমোদন করা হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর