৮৮ বছর বয়সে আবার বিয়ে!
৮৮ বছর বয়সে আবার বিয়ে!
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৮-০১ ১৬:২৮:১১
প্রিন্টঅ-অ+


‘ছেলেমেয়েদের হাত থেকে বাঁচতে বিয়ে করতে চান বৃদ্ধ। কিন্তু বিয়েতেও বাধা সেই ছেলেমেয়েরাই! পুলিশও ছেলেমেয়েদের পক্ষে। তারা পরামর্শ দিচ্ছে- ৮৮ বছর বয়সে আবার বিয়ের ভুল যেন তিনি না করেন। ধর্মাবতার, আমার মক্কেলকে বাঁচান!’

‘পুলিশ মোটেই কোনো ভুল কাজ করেনি। আপনার মক্কেলকে জানিয়ে দিন, আমিও তাকে সেই পরামর্শই দিচ্ছি।’- বৃদ্ধের আইনজীবীকে সাফ বলে দিলেন বিচারপতি।

এটি কোনো চিত্রনাট্যের আদালতের দৃশ্য নয়। সম্প্রতি অশীতিপর বৃদ্ধ পুনরায় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানালে বিচারপতি এ সিদ্ধান্ত দেন।

আইনজীবী শিবিরের একাংশের বক্তব্য- ‘বিয়ে পাগলা’ বুড়োর কীর্তি এটা নয়। সন্তানদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে এই বয়সে বিয়েকে হাতিয়ার করতে চাইছেন জিরাটের ওই বৃদ্ধ।

হুগলির বলাগড় থানার পুলিশ জানায়, জিরাটের অনিল কুমার পালের স্ত্রী বছর দুয়েক আগে মারা গেছে। তার নিজের বাড়ি আছে। রয়েছে কিছু জমিজমা। পুলিশের কাছে বৃদ্ধের অভিযোগ, তার ছয় ছেলেমেয়ে চাইছে তার সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দিতে। বৃদ্ধ তাতে রাজি নন। সে জন্য ছেলেমেয়েরা জোট বেঁধে তার সঙ্গে অসহযোগিতা করছে। তারা মানসিক অত্যাচারও করছে। ছেলেমেয়েদের হাত থেকে বাঁচতেই তিনি আবার বিয়ে করতে চান। কিন্তু তাতে আরো চটেছে ছেলেমেয়েরা। বৃদ্ধের আর্জি, ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। ফের বিয়ে করতে পুলিশ তাকে সাহায্য করুক।

কিন্তু সাহায্য করা দূরে থাক, পুলিশ তাকে বিয়ে করতে নিষেধ করছে বলে অভিযোগ জানিয়ে হাইকোর্টে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার মামলা দায়ের করেছেন অনিলবাবু। সোমবার ছিল সেই মামলার শুনানি। বৃদ্ধের আইনজীবী বিশ্বজিৎ সরকার আদালতে জানান, বিয়ে করতে চেয়ে মাস চারেক আগে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তার মক্কেল। তার পছন্দের পাত্রী ষাটোর্ধ্ব কোনো ডিভোর্সি নারী বা বিধবা। বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, তিনি পেশায় আইনজীবী। মাস গেলে বাড়ি ভাড়া বাবদ ১৮-২০ হাজার টাকা রোজগার রয়েছে তার। বিজ্ঞাপন দেখে দু’-একজন তার মক্কেলের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগও করেছেন।

সব শুনে বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘তাই বলে বিয়ে! এই বয়সে?’

বাদী পক্ষের আইনজীবী বিশ্বজিৎ জানান, সম্পত্তি হাতানোর জন্য তার মক্কেলের ছেলেমেয়েরা যে উঠেপড়ে লেগেছে!
‘মতলবটা কী? বিয়ে করে ফেললে ছেলেমেয়েরা আর সম্পত্তি পাবে না? তারা যে এখনও বাবাকে মানসিক হাসপাতালে পাঠাননি- এই যথেষ্ট,’ মন্তব্য করেন বিচারপতি।

বৃদ্ধের আইনজীবী জানান, বলাগড় থানায় ছেলেমেয়েদের অত্যাচারের কথা জানিয়ে তার মক্কেল অভিযোগ জানান। পুলিশ সেই অভিযোগ পেয়ে কিছুই করছে না। উল্টো বিয়ে করতে নিষেধ করছে। তিনি যাতে আর বিয়ে না করেন, সেই পরামর্শ দিচ্ছে।

তিনিও একই পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েও বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘ওই বৃদ্ধের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের কিছু করার নেই বলেই আদালত কোনো নির্দেশ দিচ্ছে না।’

সূত্র : আনন্দবাজার

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিচিত্রিতা এর অারো খবর