ফোরজি আসতে দেরি কেন?
ফোরজি আসতে দেরি কেন?
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৭-২১ ১৪:৪৫:২৯
প্রিন্টঅ-অ+


জুলাই মাসেই ‘ফোরজি সেবার লাইসেন্স’ দেওয়ার কথা থাকলেও ফোরজির খসড়া গাইডলাইন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাছাড়া স্পেক্ট্রামের (তরঙ্গ) গাইডলাইনের জন্য সবেমাত্র মতামত নেওয়া হয়েছে এবং ফোরজির নিলাম কবে হবে তা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় এই মাসের মধ্যে ফোরজি লাইসেন্সের নিলাম হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আর সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পরও এই সেবা চালু করতে কেন দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি ফোরজি সেবা চালুতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি শিগগিরই এই সেবা চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। ওই সূত্র আরও জানায়, এসময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে অল্প সময়ের মধ্যেই তরুঙ্গ বরাদ্দ দিতে বলেন।

এর আগে, গত ৮ মে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলনকেন্দ্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সভার আলোচনা অনুযায়ী, ফোরজি গাইডলাইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানোর কথা ছিল বিটিআরসির। আর এ বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ফোরজি লাইসেন্স দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।

মে মাসের ওই বৈঠক শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছিলেন, তারা ফোরজির খসড়া নীতিমালা বিটিআরসির কাছ থেকে পেয়েছেন। লাইসেন্সের গাইডলাইন ও তরঙ্গ বিষয়ক নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে, যেন জুলাই নাগাদ ফোরজি’র লাইসেন্স দেওয়া যায়। সেই জুলাই মাসও শেষের পথে।

অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটর্স, বাংলাদেশের (অ্যামটব) দাবি, ফোরজি নিয়ে আলোচনা হোক। এটা হলে অ্যামটব নিজেদের মতামত জানাতে পারবে; ফোরজি গাইডলাইনে কী থাকবে, সে বিষয়টিও দেখতে পারবে।

এদিকে, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ফোরজি সেবা চালুর বিষয়ে ইতিবাচক থাকলেও আগে কিছু অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধান চায় তারা। তাদের দাবি, শর্তগুলো এমন হবে যেন সবাই লাইসেন্স নিতে পারে। এ ব্যাপারে তরঙ্গ মূল্যকে তারা সবার আগে যৌক্তিক পর্যায়ে চান।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফলি সম্প্রতি বলেছেন, ফোরজি লাইসেন্সের সঙ্গে কয়েকটি বিষয় জড়িত। ফলে লাইসেন্স দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই বিষয়গুলোরও সমাধান হওয়া জরুরি। এর মধ্য টেকনোলজি নিউট্রালিটি বা টেকনোলজিও একটা বড় বিষয়। তিনি মনে করেন, সব মিলিয়ে এটা একটা প্যাকেজ।

এদিকে বাংলালিংকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক তাইমুর রহমান বলেন, ‘আগে আমাদের স্পেকট্রাম দেন। স্পেকট্রাম না দিলে আমরা কোয়ালিটি অব সার্ভিস দিতে পারছি না।’ অপারেটরগুলোর কাছে স্পেকট্রাম কম আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে স্পেকট্রাম দেন, সমস্যা দূর করি। পরে ফোরজিও চালু করা কোনও কঠিন বিষয় হবে না।’ তিনি মনে করেন, খসড়া ফোরজি ও স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে একটি বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করার কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা উন্নত ডিজিটাল সার্ভিস ও গ্রাহক সেবা প্রদানে সহায়ক হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফিচার এর অারো খবর