শিশুর গ্যাজেট আসক্তি নিয়ন্ত্রণ জরুরি
শিশুর গ্যাজেট আসক্তি নিয়ন্ত্রণ জরুরি
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৭-২১ ১৪:২৮:২৭
প্রিন্টঅ-অ+


যখনই তার বাচ্চা খেতে চাইত না তখনই মিসেস পারমিতা চ্যাটার্জি তার বাচ্চার সামনে আইপ্যাড বা ফোনটি নিয়ে এসে স্নো হোয়াইট এর কাহিনিচিত্রটি চালিয়ে দিতেন। এতে করে প্লেটের সব খাবার মুহূর্তের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যেত।

অতি ব্যস্ত মিসেস চ্যাটার্জি অবশ্য এতে খুশিই ছিলেন এই ভেবে যে, তার কৌশলটি কাজে লাগছে এবং তার অনেক সময়ও বেঁচে যাচ্ছে। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটল তিন বছর পরে যখন মিসেস চ্যাটার্জি দেখতে পেলেন যে, তার পাঁচ বছর বয়সি সন্তান কাহিনিচিত্র দেখা থেকে শুরু করে গেম ও মিউজিক ডাউনলোডের প্রতি চরম আসক্ত হয়ে গেছে।

চ্যাটার্জি দম্পতির মতো পিতামাতারা- যারা তাদের সন্তানের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেছিলেন এবং গ্যাজেট আসক্তি থেকে তাদের সরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছিলেন তাদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। কারণ ভারতে সম্প্রতি নয় বছর বয়সি এক শিশু বাবা-মা স্মার্টফোন দিতে অস্বীকার করায় ছুরি দিয়ে নিজেই নিজের শরীরে আঘাত করে।

ফোর্টিস ন্যাশনাল মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলের চেয়ারপারসন এবং কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ড. সামির পারিজের মতে, বর্তমানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ তৈরি হচ্ছে। যার ফলে শিশুরা সহজেই বিভিন্ন ডিভাইস পরিচালনায় পারঙ্গম হয়ে উঠছে।

তার মতে, বাচ্চাদের একটি ডিভাইস ব্যবহার করতে দেওয়ার মাধ্যমে ব্যস্ত রাখার একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা আজকালকার বাবা-মায়েদের মধ্যে বেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু এই সাময়িক স্বস্তি তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব বয়ে আনছে।

ম্যাক্স গ্রুপ হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ড. সমির মালহোত্রার মতে, শিশুর ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির সময়টুকুতে এই শহুরে জীবনযাত্রা এবং প্রযুক্তির আগ্রাসন একটি প্রাণঘাতী ভূমিকা পালন করছে।

মিসেস চ্যাটার্জিও স্বীকার করেন যে, সন্তানের এ ধরনের আসক্তির জন্য তাদের বাবা-মায়েরাই দায়ী।

চেন্নাইয়ের চিত্রা স্বামীনাথন বলেন যে, এখন থেকে তিনি তার দশম শ্রেণিতে পড়া ছেলের সঙ্গে কিছু গুণগত সময় কাটাবেন। তিনি বলেন, ‘একাকীত্বই আমাদের সন্তানদের গ্যাজেটের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে।’

কিন্তু বড় বড় শহরগুলোতে খেলার মাঠ না থাকাটাও এর পেছনে অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, শহরে কোনো উদ্যান বা খেলার মাঠের অনুপস্থিতির কারণেই তার ছেলে ফোনে গেম খেলে।

বেশিরভাগ বিদ্যালয়ও ইলেকট্রনিক গ্যাজেটগুলোর অত্যধিক ব্যবহারকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে এবং বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনার ক্ষেত্রে শিশুদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি অবলম্বন করছে।

কলকাতার স্কুল শিক্ষক পলোমি পোদ্দারের মতে, শিশুরা তাদের পিতা-মাতার কাছ থেকেই এই অভ্যাসগুলো পায় যাদের তারা ক্রমাগত ফোনে ব্যস্ত থাকছে।

তিনি বলেন, ‘একটি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক আনন্দ পাওয়ার চেয়ে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। বাবা-মায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের ব্যস্ত রাখার জন্য তাদের হাতে ফোন তুলে দিচ্ছে। বরং এর পরিবর্তে তাদের উচিত তাদের সন্তানদের কিছু জীবন-দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করা।’

আর এক্ষেত্রে নিবিড়ভাবে সন্তানের সমস্যাগুলো জানা, তার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা, মোবাইল ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া এবং গঠনমূলক শখকে উৎসাহিত করা- এসবই তাদের এই আসক্তি থেকে দূরে রাখার ভালো উপায় বলে মনে করেন মি. মালহোত্রা।

তিনি বলেন, ‘সপ্তাহে কমপক্ষে এক দিন মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। পরিবারের সদস্যদের জন্য সময় দিতে হবে। সর্বোপরি, বাবা-মা হিসেবে যে ভূমিকা আপনাদের পালন করার কথা তা সঠিকভাবে পালন করুন।’

তার মতে, এই গ্যাজেট আসক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার এখনই উপযুক্ত সময়।

সূত্র: গেজেটস নাউ

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর