কুমিল্লার মাথায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিলেন মাশরাফি
কুমিল্লার মাথায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিলেন মাশরাফি
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১২-১৫ ২০:১৭:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+


বিপিএলের আগের দুবার শিরোপা ঘরে তুলেছিল ঢাকা গ্লাডিয়েটরস। এবার কুমিল্লার হাতে শিরোপা তুলে দিলেন ক্রিকেট দেবতা। কিন্তু অধিনায়ক আর পাল্টালেন কই! তিনবারই যে বিজয়ী দলের দলনেতা একজন। তিনি মাশরাফি।

২২ গজে মাশরাফির লড়াইটা সবাইকে অনুপ্রাণিত করে পারফরম্যান্স করতে। সবার ভেতর থেকে মাশরাফি তার সেরাটা বের করে আনতে পারেন সুকৌশলে।

আগের দুই আসরের মতো এবারও বিপিএলের শিরোপা জেতালেন দলকে। সে অর্থে এটা মাশরাফির হ্যাটট্রিক শিরোপা। আগের দুই আসরে তার দল ছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। এবার সেটা পরিবর্তন হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

বিপিএল শুরুর আগে নাফিসা কামাল একজন অলরাউন্ডারের অভাব অনুভব করছিলেন। সেটা খুব ভালো মতোই পুষিয়ে দিয়েছেন ‘অদম্য’ মাশরাফি।

প্রথম ম্যাচে তিক্ত হার। দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ বুঝে ওঠার আগে ব্যাট হাতে ঘাতকের ভূমিকায় কুমিল্লা অধিনায়ক। চাপকে তো জয় করেছেনই, খেলেন হার না মানা ৫৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।

সেই থেকে শুরু কুমিল্লার জয়রথ। শেষ পর্যন্তও অদম্য হয়ে ওঠা কুমিল্লার মাথায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জলন্ত এই প্রদীপ। বিপিএলের একমাত্র অধিনায়ক মাশরাফি। তিনি ছাড়া আর কোনও অধিনায়ক শিরোপার স্বাদ নিতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা তাই উঠলো বিপিএল আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার জন্য আপনার কি অবসর নেওয়া জরুরি কিনা। মাশরাফি একগাল হেসে উত্তর দিলেন, ‘অনেক জায়গা থেকে কোচের অফার আসছে!’

মাশরাফি অবশ্য নিজেরে অধিনায়কত্বকে ১০ নাম্বারে কোনও নাম্বার দিতে নারাজ। তার মতে, ‘দলের সবাই যখন পারফরম্যান্স করে তখন দল ভালো খেলে। তখন অধিনায়কের নাম হয়। আমি মনে করি অধিনায়ক হিসেবে এখনও আমার কঠিন কোনও অবস্থা তৈরি হয়নি। তাই সবার কাছে আমি সেরা।’

এমনটা অবশ্য মনে করেন না প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার মতে, ‘মাশরাফি ভাই অসাধারণ একজন ক্যাপ্টেন। দলের ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা দিতে দারুণ ভুমিকা রাখেন। ক্রিকেট নিয়ে তার চিন্তা ভাবনাটা সত্যিই অসাধারণ।’

২০১২ সালের ফাইনাল : প্রথম বিপিএলের ফাইনালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস বরিশাল বার্নাসকে আট উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জয় করে। প্রথমে আগে ব্যাটিং করে বরিশাল সাত উইকেটে ১৪০ রান জমা করে বরিশাল। জবাবে ২৬ বল ও আট উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে মাশরাফির ঢাকা। সেবার মাশরাফির জয়ের নায়ক ছিলেন পাকিস্তানের ইমরান নাজির। ৪৩ বলে ছয় চার ও ছয় ছক্কায় ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন নাজির।

২০১৩ সালের ফাইনাল : ২০১৩ সালের বিপিএলের ফাইনালে মাশরাফির ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের প্রতিপক্ষ চিটাগং কিংস। প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন চিটাগং কিংসে। কিন্তু মাশরাফির কাছে হার মানতে হয় তাকে। আগে ব্যাটিং করে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস নয় উইকেটে ১৭২ রান তুলে নেয়। দলের হয়ে এনামুল হক বিজয় করেন ৫৮ রান। জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে চিটাগংকে ১৬.৫ ওভারেই অলআউট করে দেয় ঢাকা।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর