সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী মেহবুব চৌধুরীকে গ্রেফতার
সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী মেহবুব চৌধুরীকে গ্রেফতার
২০১৭-০৭-০১ ১৯:১১:৩১
প্রিন্টঅ-অ+


সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী মেহবুব চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শনিবার বিকেলে শ্রীলঙ্কা থেকে আসার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক শেখ আবদুস ছালাম।

তিনি জানান, সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংক থেকে ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৮ জুন রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মেহবুব চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হলো।

গ্রেফতারের পর মেহবুব চৌধুরীকে বনানী থানায় রাখা হয়েছে। রোববার তাকে আদালতে নেওয়া হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

গত বুধবার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরীসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক শেখ আবদুস ছালাম রাজধানীর বনানী মডেল থানায় এ মামলা করেন। মামলায় প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড ও এবি ব্যাংকের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পিবিটিএলের চেয়ারম্যান মোরশেদ খান ব্যবসা সম্প্রসারণের নামে অসৎ উদ্দেশ্যে এবি ব্যাংকের মহাখালী শাখাকে গ্যারান্টর করে আটটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। গত ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে এই অর্থ নেওয়া হয়। ঠিক সময়ে পরিশোধ না করায় তা সুদ-আসলে দাঁড়ায় ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার টাকায়, যা এবি ব্যাংক মহাখালী শাখা থেকে পরিশোধ করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পিবিটিএলের তিনজন- ভাইস চেয়ারম্যান আসগর করিম, পরিচালক নাছরিন খান এবং এবি ব্যাংক লিমিটেডের আটজন- সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার আহমেদ চৌধুরী, এম ফজলুর রহমান, শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সালমা আক্তার, মহাদেব সরকার সুমন, এসভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার সৈয়দ ফরহাদ আলম, আরশাদ মাহমুদ খান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহানুর পারভীন চৌধুরী, এভিপি জার ই এলাহী খান ও রিলেশনশিপ অফিসার মো. কামারুজ্জামান।

সূত্র জানায়, ওই অর্থ আত্মসাতের সময় মোরশেদ খান এবি ব্যাংকের পারিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তখন তিনি প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে গ্যারান্টর হওয়ার কাজ করেছিলেন। অর্থ আত্মসাতে সংশ্লিষ্টতার কারণে প্যাসিফিক টেলিকম ও এবি ব্যাংকের ওই কর্মকর্তাদেরও তাই আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ব্যাংক গ্যারান্টির আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই না করেই এবি ব্যাংকের মহাখালী শাখার দেওয়া প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠান। পরে তিনজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সহায়তায় চারটি বোর্ড সভার মাধ্যমে অপরিবর্তনীয় শর্তবিহীন ওই ব্যাংক গ্যারান্টি অনুমোদন করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঋণ নেওয়ার তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে আলাদাভাবে আট ব্যাংকের টাকা পরিশোধের শর্ত ছিল। টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ ব্যাপারে তাগাদা দিয়ে আট ব্যাংক থেকে এবি ব্যাংকের মহাখালী শাখায় চিঠি পাঠানো হয়। ঋণের গ্যারান্টর হিসেবে ব্যাংকিং বিধি-বিধান মেনে এবি ব্যাংকের মহাখালী শাখা বাধ্য হয়ে মোরশেদ খানের দায় হিসেবে আটটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওই পরিমাণ টাকা পরিশোধ করে। প্রতারণা করে এবি ব্যাংককে তা পরিশোধে বাধ্য করে অভিযুক্তরা ওই পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪২০ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দুদক জানায়, আটটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আত্মসাৎ করা ঋণের মধ্যে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ কোটি, কমার্স ব্যাংকের ১০ কোটি, সৌদি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির ২৩ কোটি, পূবালী ব্যাংকের ৩০ কোটি, ফনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ৪৭ কোটি, এনসিসি ব্যাংকের ৫০ কোটি, সিটি ব্যাংকের ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ও ঢাকা ব্যাংকের ১শ\ কোটি টাকা।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর