ত্রিমাত্রিক সেবা দিতে পারছে না বিটিসিএল
ত্রিমাত্রিক সেবা দিতে পারছে না বিটিসিএল
২০১৭-০৬-২৯ ০০:৪১:০৯
প্রিন্টঅ-অ+


বিটিসিএল ট্রিপল প্লে (ত্রিমাত্রিক) সেবা ঢাকার গ্রাহক পর্যায়ে এ বছর দিতে পারছে না। ঢাকায় মাত্র তিনটি এলাকায় অল্প পরিমাণে এই সেবা চালু করেছে সংস্থাটি। তাও সেবার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রায় ৪ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গত বছরের শুরুতেই গোটা ঢাকা শহর ট্রিপল প্লে সেবার আওতায় আনার কথা থাকলেও নানা অনিয়মের কারণে তা পারেনি বিটিসিএল। প্রথম রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এই সেবা চালু করার এক দিন পরেই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ এক বছর পরে রাজধানীর বারিধারা, মিরপুর ডিওএইচএস ও জাজেস কোয়ার্টার এলাকায় সেবাটি চালু করা হয়। এই সেবার আওতায় ভয়েস কল, ইন্টারনেট ও টিভি দেখার সুবিধা রয়েছে। অভিয়োগ উঠেছে, ট্রিপল প্লে সেবা চালু না হওয়ার পেছনে প্রভাবশালীদের হাত আছে। যারা ডিস টিভি ও ইন্টারনেট সেবা দেয়, তারা কৌশলে এই সেবা বন্ধ রেখেছে। তবে বিটিসিএল বলছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে সেবাটি গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এই ত্রুটি দূর করতে বড় অংকের টাকার প্রয়োজন। টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে ট্রিপল প্লে গোটা ঢাকায় চালু করা সম্ভব হয়নি। এ বছরই সেবাটি গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা চলছে।

সূত্র জানিয়েছে, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি স্থাপন করার কারণে সেবাটি কোন কাজে আসছে না। সেবাটি চালু করতে হলে নতুন করে যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে হবে। তাতে আরও এক শ’ কোটি টাকার প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুরো টাকা বুঝিয়ে দিয়েছে বিটিসিএল। প্রকল্পের কোন দায় দায়িত্ব আর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নেই। এখন এই প্রকল্পটি চালু করতে হলে আবার একটি প্রকল্প তৈরি করতে হবে। এভাবেই চলছে বিটিসিএলে সরকারী অর্থের হরিলুট। ট্রিপল প্লের মাধ্যমে সেবা দেয়ার জন্য রাজধানী ঢাকার সর্বত্র ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপনের কাজটিও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে বিটিসিএল। সর্বশেষ, বিটিসিএল টিপল প্লে সেবায় কেবল টিভি নয়, ‘ভিডিও অন ডিমান্ড’ সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে নির্বাচিত কিছু ভিডিও দেখার সেবা দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে বলে জানা গেছে। টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (টিএনডিপি) আওতায় নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ট্রিপল প্লে সেবা দেয়ার জন্য যন্ত্রপাতি বসানো হবে। এখানেও নানা অনিয়মের কারণে টিএনডিপি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের কাজ অফিসিয়ালি শেষ হয়ে গেছে। তবে বাস্তবে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এই কাজগুলো শেষ না হলে সাধারণ গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছানো যাবে না। কতদিনের মধ্যে গ্রাহক এ সুবিধা পেতে পারেন জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। তবে গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ চলছে।

দুই বছর আগে ত্রিমুখী সেবা দেয়ার জন্য বিটিসিএল রাজধানীর উত্তরা, শেরেবাংলা নগর, গুলশান ও মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ৭ ডিজিটের ফোন নম্বরের বদলে ৮ ডিজিট করেছে। উত্তরা এক্সচেঞ্জের ৮৯১ এবং ৮৯২ গ্রুপের ৭ হাজার পুরনো টেলিফোন নম্বর ৮ ডিজিটে উন্নীত করা হয়। শেরেবাংলা নগর ও গুলশান টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় ৮ হাজার নম্বর পাল্টে গেছে। মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় ৭ হাজার টেলিফোন ৮ ডিজিটে করা হয়েছে। বিদ্যমান নম্বরের সঙ্গে সঙ্গতি না রেখে সরকারী ল্যান্ডফোন অপারেটর বিটিসিএল এ কাজ করছে। আধুনিক ট্রিপল প্লে সেবা পেতে সাধারণ গ্রাহকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে বিটিসিএল বলছে। ঢাকার সর্বত্র অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন হওয়ার আগে সব এলাকায় এ সেবা পাওয়া যাবে না। শুধু মিরপুর ডিওএইচএস ও জাজেস কোয়ার্টারে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক থাকায় সেখানে এই উন্নত সেবা চালু করা হয়।

বিটিসিএলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তরা, শেরেবাংলা নগর, গুলশান, রমনা, নীলক্ষেত, মিরপুর, বাবুবাজার, চকবাজার ও মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় ১ লাখ গ্রাহকের টেলিফোন নম্বর ৮ ডিজিটে পরিবর্তন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গ্রাহকরা এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন। আগে বিটিটিবির বর্তমানে বিটিসিএল টেলিফোন নম্বর ছিল ছয় ডিজিটের। তখন ছিল এনালগ সিস্টেম। আর এনালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তরের প্রয়োজনে তা ৭ ডিজিটে পাল্টে দেয়া হয়। সে সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল আগের নম্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শুধু একটি ডিজিট যোগ করে। কিন্তু বর্তমানে টেলিফোন নম্বর পুরোপুরিই পাল্টে গেছে। মোবাইল ফোন অপারেটররাও তাদের এক সময়ের ১০ ডিজিটের নম্বর ১১ ডিজিটে পরিবর্তন করে। কিন্তু তা করা হয় আগের নম্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই।
(ফিরোজ মান্না)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর