রাঙামাটিতে পর্যটক নেই
রাঙামাটিতে পর্যটক নেই
২০১৭-০৬-২২ ২২:৩৯:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিসহ পার্বত্য এলাকায় বিপুল পরিমাণে পর্যটকের সমাগম হয়। এ বছরও সে প্রস্তুতি চলছিল।

সাম্প্রতিককালের মর্মান্তিক পাহাড় ধসের ঘটনায় এবার রাঙামাটিতে পর্যটক নেই। ফলে এখানকার পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলো বর্তমানে শূন্য। ঈদের ছুটিতে যেসব হোটেল ও মোটেলে অগ্রিম রুম বুকিং হয়েছিল তার বেশিরভাগই বাতিল করা হয়েছে।

ভারি বর্ষণে ১৩ জুন রাঙামাটি শহরের ভেদভেদীর যুব উন্নয়ন বোর্ড এলাকা, মুসলিম পাড়া, শিমুলতলী, সাপছড়ি, মগবান, বালুখালী এলাকাসহ জুরাছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী ও বিলাইছড়ি এলাকায় পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জন মারা যান। এ ঘটনায় শুধুমাত্র রাঙামাটি শহরের তিন হাজার ২০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। উপদ্রুত এলাকার এসব মানুষ ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া জেলায় ১৬-১৭শ’ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড় ধসের কারণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক বিধ্বস্ত হয়। এক সপ্তাহের অক্লান্ত পরিশ্রমে সেনাবাহিনী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটিকে বুধবার পর্যন্ত হালকা যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত করে তোলে।

এ পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলো বর্তমানে পর্যটকশূন্য। ঈদুল ফিতরে সরকারি ছুটি শুরু হয়ে গেছে। ঈদের ছুটিতে প্রতিবছর দুর-দুরান্তের ভ্রমণপিপাসু মানুষ রাঙামাটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। হোটেল-মোটেলে আগাম রুম বুকিং হয়ে যায়।

মূলত ঈদের ছুটির আগে থেকেই রাঙামাটিতে পর্যটকদের উপস্থিতি শুরু হয়; কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। হোটেল-মোটেলে বুকিং নেই বললেই চলে। যারা অগ্রিম বুকিং দিয়েছিলেন, তারাও বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে রাঙামাটির পর্যটন ব্যবসায় নেমে এসেছে বিপর্যয়। রাঙামাটি শহরে ৪২টি হোটেল-মোটেল রয়েছে। এর বাইরে রাঙামাটিতে কয়েকশ’ বোট রয়েছে। পর্যটক না যাওয়ায় এসব বোটের চালকরা বর্তমানে বেকার সময় কাটাচ্ছেন।

এদিকে, রাঙামাটির অন্যতম সরকারি পর্যটন কেন্দ্র হলিডে কমপ্লেক্সে নতুন নির্মাণ করা ভবনের পাশে মাটি ধসে গেছে। ঝুলন্ত সেতুর পাশে ও সেতুর ওপারে শিশু পার্কের মাটিও ধসে পড়েছে।

তার পরও পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক চালু হলে এবং পরিস্থিতি একটু ভালো হয়ে উঠলে ঈদের ছুটি থেকে পরবর্তী ১০-১৫ দিন রাঙামাটিতে পর্যটকরা ভ্রমণে যাবেন। বর্ষা মৌসুমে রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। ঈদের ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকরা যাতে রাঙামাটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সে চেষ্টাও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

রাঙামাটিতে পর্যটন সৌন্দর্যের আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে: ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝরনা, চাকমা রাজার রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, কাপ্তাই হ্রদে নৌ ভ্রমণ ইত্যাদি।

হোটেল-মোটেলের এক ব্যবস্থাপক আবুল কালাম জানান, পাহাড় ধসের ঘটনার পর থেকে তার মোটেল পর্যটকশূন্য। ঈদের ছুটিতে রাঙামাটির বাইরে থেকে যারা অগ্রিম রুম বুকিং দিয়েছিলেন, তারাও বুকিং বাতিল করেছেন। এ পরিস্থিতিতে লোকসান গোনা ছাড়া তাদের আর উপায় নেই।

গ্রিন ক্যাসেলের ব্যবস্থাপক গৌতম দাশগুপ্ত জানান, তার হোটেলও পর্যটকশূন্য। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে তার হোটেলে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছিল; কিন্তু পরে তা বাতিল করা হয়। অন্য সময়ে পর্যটকদের চাহিদামতো রুম দিয়ে কুলানো যেত না।

রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হোটেল প্রিন্সের স্বত্বাধিকারী নেসার আহমেদ জানান, তার হোটেলেও বতর্মানে পর্যটক নেই। তবে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে তার হোটেলে ৪০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আশা করা যায়, পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে ঈদের ছুটি ও ঈদের পরে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটবে।

রাঙামাটি সরকারি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, মোটেলে আপাতত আশানুরূপ পর্যটকদের সাড়া পাওয়া না গেলেও ঈদের ছুটিতে অনেক পর্যটক বেড়াতে আসবেন। তারা পর্যটকদের বিনোদনের জন্য সব প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ভ্রমণ এর অারো খবর