দাম বাড়বে এলপি গ্যাসের
দাম বাড়বে এলপি গ্যাসের
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৬-১২ ০১:১৭:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+


তৈরি পোশাকের ডিজাইনার সাইদুল আমীন থাকেন মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায়। নতুন একটি ফ্ল্যাটে উঠেছেন তার চার সদস্যের পরিবার নিয়ে। তার বাসায় গ্যাসের সংযোগ না থাকায় এলপিজি গ্যাস ব্যবহার শুরু করেছেন কয়েক মাস ধরে। এখন শুনছেন এলপিজি গ্যাসের ওপরও সার্বজনীন পদ্ধতিতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। ফলে অন্যান্য খাতের মতো প্রয়োজনীয় এই খাতটিতেও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনি। একই রকম আশঙ্কা করছেন রাজধানীসহ সারা দেশে এলপিজি গ্যাস ব্যবহারকারীরা।

সূত্রগুলো জানায়, নতুন অর্থবছরের বাজেটে ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ ইউনিফায়েড রেট প্রতিস্থাপিত হবে এলপিজি গ্যাসে। বর্তমানে এলপিজির ওপর ভ্যাট, ট্যারিফ মান ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত সিলিন্ডার ভেদে ৫৪ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন অপারেটররা।

জানা গেছে, ১২ কেজি সিলিন্ডারটি পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটির খুচরা দাম এখন এক হাজার ৫০ টাকা, যা নতুন ভ্যাট রেট কার্যকর হওয়ার পর এক হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে।

এলপি গ্যাস অপারেটররা বলছেন, সরকার এলপিজি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর থেকে চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ভ্যাট বাড়ানো হলে এ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটররা সরকারকে জ্বালানি তেলের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট সালমান এফ রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হওয়ার কারণে ৫-১০ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য বর্তমান ৪২৪ টাকার পরিবর্তে ৪৫৪ টাকা হবে।

এলওবি বলছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুতগতিতে হ্রাসের কারণে বাড়ি ও ক্ষুদ্র শিল্পে এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। পাইপ লাইনে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে জায়গা নিয়েছে জনপ্রিয় বোতলজাত গ্যাস। সরকার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর হিসেবে বিবেচনা করে এবং আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ও মূসক মওকুফ অব্যাহত রাখে। বিদ্যমান ভ্যাট আইন এলপিজি গ্যাসকে ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রেখে এটিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। তবে নতুন আইনে জুলাই মাস থেকে ১৫ শতাংশ হারে ইউনিফাইড রেটে ভ্যাট প্রযোজ্য হলে এলপিজির দাম ভোক্তা পর্যায়ে বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছে এলওএবি।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভ্যাট নির্ধারণে বিদ্যমান পদ্ধতিতে ৫ থেকে ১০ কেজি আকারের সিলিন্ডারের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ আদায় করা হয় ৫ টাকা ২৫ পয়সা। ভ্যাট ছাড়া এই আকারের প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের বিক্রয়মূল্য ৩৯৭ টাকা ৭৫ পয়সা। ভ্যাটসহ নেওয়া হয় ৪০০ টাকা। একইভাবে বর্তমানে ১১ থেকে ৩০ কেজি আকারের সিলিন্ডারের ৯ টাকা ভ্যাটসহ সরবরাহ মূল্য ৮৯৭ টাকা, ৩১ থেকে ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা ভ্যাটসহ সরবরাহ মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১৩০ টাকা। নতুন পদ্ধতিতে বিক্রয়মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের ফলে ৫ থেকে ১০ কেজি আকারের সিলিন্ডারের দাম পড়বে ৪৫৪ টাকা, যা বর্তমানের তুলনায় ৫৪ টাকা বেশি। একইভাবে ১১ থেকে ৩০ কেজি আকারের সিলিন্ডারের সরবরাহ মূল্য এক হাজার ২১ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়াবে, যা বর্তমানের তুলনায় ১২৪ টাকা বেশি। ৩১ থেকে ৪৫ কেজি আকারের সিলিন্ডারের দাম পড়বে দুই হাজার ৪২৭ টাকা ৯৪ পয়সা, যা আগের তুলনায় ৩০০ টাকা বেশি। জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতিবছর ৩ থেকে ৫ লাখ টন এলপিজি বিক্রি হচ্ছে এবং চাহিদা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর বাংলাদেশে মোট এলপিজি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৫ লাখ টন। দেশে ২ শতাংশ জনগোষ্ঠী এলপিজি ব্যবহার করে শহরাঞ্চলে। শিল্প ও অটোমোবাইলগুলো জ্বালানি হিসেবে এখনো প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হলেও বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি’র ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সরকার ইতিমধ্যে দেশে ৫০টি এলপিজি বোতলজাত প্লান্ট স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটির কার্যক্রম শুরু করেছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর