"দি ইঞ্জিনিয়ার্স টিভি"-র লাইভে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি দাবির হিড়িক
"দি ইঞ্জিনিয়ার্স টিভি"-র লাইভে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি দাবির হিড়িক
২০১৭-০৫-১৭ ০৩:৫৬:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বিদ্যুত ও জ্বালানি ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আরও প্রাধান্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে ভারতকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা আশাবাদী ভারতকে মাথায় রেখে যেসব চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনা করছি, তারাও সেভাবে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপি গ্যাস রফতানি করা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, ত্রিপুরায় এলপিজি গ্যাসের খুব অভাব। ত্রিপুরা সরকার চাইলে কম খরচে বাংলাদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস নিতে পারে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পুরাতন ভবনের সেমিনার কক্ষে ‘পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট : বিবিআইএন সিনারিও’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ঢাকা কেন্দ্র এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের পুরো আয়োজনটি প্রকৌশলীদের জন্য বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র অনলাইন টিভি theengineers.tv এবার লাইভ প্রচার করেছে। পৌনে তিন ঘণ্টার লাইভ ভিডিওটি দি ইঞ্জিনিয়ার্স টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইউ টিউব চ্যানেলেও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। সরাসরি সম্প্রচার করার সময় বহু দর্শক তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর প্রতি নানান অভাব-অভিযোগ এবং দাবির কথা লিখেছেন।

সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে আমরা ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুত নিচ্ছি আরও নেব। নেপাল ও ভুটান থেকেও বিদ্যুত আনা হবে। এ ধরনের বণ্টন ও সহায়তা সারা বিশ্বে ঈর্ষণীয় হবে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে ভারসাম্য থাকা উচিত, তাহলেই বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। এক্ষেত্রে ভারতকেই এগিয়ে আসতে হবে।
প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, আমরা পিছিয়ে পড়ছি। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী নিয়ে যদি এগিয়ে যেতে না পারেন, তা হলে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। স্মার্ট গ্রিডের কোন বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার বলেন, ২০০৬-০৭ সময়ে আমরা অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিলাম। বর্তমানে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

প্রবন্ধ উপস্থাপকালে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, জিডিপির সঙ্গে বিদ্যুত ও জ্বালানি গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ২০০৮ সালে ৪ হাজার ৯৩১ মেগাওয়াট থেকে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল ১৫ হাজার ৩৭৯ মে.ও উন্নীত হয়েছে। গুণগত মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনলাইন বিল কালেকশন, অনলাইন এপ্লিকেশন, ই-টেন্ডারিং সিস্টেমকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

ভারতের প্রকৌলশী চিন্ময় দেবনাথ বলেন, দুই দেশের মধ্যে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আরেক প্রকৌশলী সুদীন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ফার্নেস অয়েল থেকে বিদ্যুত উৎপাদন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের এটি ভেবে দেখতে হবে।

সেমিনারে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুরসহ চার দেশের বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনার অনুষ্ঠানটি theengineers.tv এবং দি ইঞ্জিনিয়ার্স টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করার সময় বহু দর্শক তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর প্রতি নানান অভাব-অভিযোগ এবং দাবির কথা লিখেছেন।

হ্যাং আউট খুশবু লিখেছেন, ‘জাতীয় গ্রিডে এতো সমস্যা কেন? গ্রিডে সমস্যা হলে কুষ্টিয়াসহ আর কয়েকটি অঞ্চলে বিন্দ্যুৎ ৩ মাস সময় লাগবে কেন ঠিক হতে? একটু তদন্ত করুন।’

মোঃ সামিরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অসহায় মিটার রিডার ম্যাসেন্জার কি অপরাধ? মাননীয় মহাশয়ের কাছে জাতি জানতে চায়। ১২ হাজার কর্মচারী একসাথে চাকুরি হারাচ্ছে কেন?

এনামুল হক লিখেছেন, ‘চাদপুর জেলার শাহরাস্তি পৌরসভায় প্রতি ২৪ ঘন্টায় কতক্ষন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকে দয়া করে একটু তদন্ত করার অনুরোধ করছি।’

জিবরীল আহমাদ লিখেছেন, ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিতকরণ বা শতভাগ বিদ্যুতায়ন এর উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এজন্য সরকারের কাছে আমরা সকলেই কৃতজ্ঞ।’

আবুল কালাম লাকসাম লিখেছেন, ‘এতো বিদুৎ উৎপাদন হয় বাট কল কারখানায় যায় না কেনো ? আর ঝড় তুফান মেঘ এসব কিচু একটা হলেই আর বিদুৎ পাওয়া যায়না বাট হোয়াই।’

রাজেন্দ্র দেবনাথ লিখেছেন, ‘পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার ও ম্যাসেন্জার কি দোষ করল? 55 বছর পর্যন্ত চাকুরী করার নিশ্চয়তা দিয়ে (চুক্তিভিওিক) কেন এ মধ্যবয়সে তাদের চুক্তি নবায়ন করা হচ্ছে না, জাতির কাছে এ প্রশ্ন, বউ বাচ্চা নিয়ে এরা কোথায় যাবে?’

সবুজ খান লিখেছেন, ‘পাবনা সুজানগরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ২ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাই।’

লস্কর গালিব লিখেছেন, ‘হবিগঞ্জ জেলার "বাহুবল" এর করিমপুর গ্রামে এখন পর্যন্ত বিদুৎ পৌঁছেনি । ঐ এলাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন স্থানে দৌড় ঝাঁপ দিয়ে টাকা খরচ করেও কোন লাভ হচ্ছে না । শুধু আশ্বাস ছাড়া এখন পর্যন্ত বিদুৎ মিলছে না । এখন পর্যন্ত টাকাই লেনদেন চলছে । এর নিশ্চয়তা কি ? এই এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি "রমজানের মধ্যে" প্রত্যাশার এই বিদুৎ ?’

রেজাউর রহমান লিখেছেন, ‘খুলনাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে তো দুই ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আমরা প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করি। তো আমার কেন এই ভোগান্তি পোহাবো? আমরা তো মূল্য আগে পরিশোধ করি তাহলে আমার নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবো না কেন? এদিকে তো দেশে বিদ্যুৎ এ স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে সেলিব্রেশন করেন।

পারভেজ রফিক লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ এর সক্ষমতা বিচার করে, আমাদের ভাবা উচিৎ। এ অবস্থায় ব্যায়বহুল বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী খাত যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, প্রশংসনীয়। বিদ্যুৎ মন্ত্রী তার দূরদর্শী, চিন্তাশীল, ভবিষৎ পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন, আল্লাহ যেন তার সহায় হয়। সাহসী একজন মানুষ, প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন, রাষ্ট্রের স্বার্থে।’

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর