মেয়েদের জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় সেরা ‘চুয়েট’
মেয়েদের জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় সেরা ‘চুয়েট’
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৫-১০ ০২:৩৬:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+


২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য দরকার নারী-পুরুষের যৌথ অবদান। আইসিটি শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বিভিন্ন আয়োজন করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ ৯ মে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ২০১৭। সারাদেশের ৭৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১৭টি দল প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে, যার মধ্যে ১০২টি দল আজকের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এখান থেকে ১৫টি দলের মোট ৪৫ জন অংশগ্রহণকারীদের পুরষ্কৃত করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য আগামী ১৭ থেকে ২০ মে ঢাকায় আবাসিক ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে।

বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতায় ৭টি সমস্যার মধ্যে ৬টি সমস্যার সমাধান করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ‘চুয়েট ডায়মন্ড অ্যান্ড রাস্ট’ দল। ৬টি সমস্যার সমাধান করে প্রথম রানার আপ হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ‘এনএসইউ লা লা ল্যান্ড’। ৫টি সমস্যার সমাধান করে দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছে ‘চুয়েট গার্লস আর পার্লস’। বিজয়ী দলকে ৫০ হাজার টাকা, প্রথম রানার আপ ৩০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানার আপ ২০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়াও সেরা ১০টি দলকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ব্র্যাক_টিএসপি’, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি স্কুলের ‘আরইউ স্কুল পোলারাইস’ এবং ঢাকা সিটি কলেজের ‌‘ডিসিসি ফ্লেমিং গার্লস’।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও সমান অবদান রয়েছে এবং আমরা চাই ২০৩০ সালের মধ্যে অন্যান্য খাতের মতো তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও নারী এবং পুরুষের সমতা হবে। এছাড়া নানা ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা বেগবান করতে বাংলাদেশে সুপার কম্পিউটার স্থাপনের ব্যাপারেও আমরা কাজ করছি। এর ফলে গবেষণালব্ধ ফলাফল দেশেই তৈরির মাধ্যমে নিরিক্ষা করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে আজকে যারা প্রোগ্রামিংয়ে ভালো করছে তাদের জন্য কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রোগ্রামিংয়ের আন্তর্জাতিক নানা আয়োজনে আমাদের সফলতা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য বিশেষ করে মেয়েদের আরো এগিয়ে আসতে হবে যাতে করে বাংলাদেশের মেধাবী মেয়েরাও আন্তর্জাতিক ভাবে সফলতা দেখাতে পারে।’

প্রতিযোগিতার সহযোগী আয়োজক ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আখতার হোসেন জানান, ‌২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন এরই মধ্যে আইসিটি পড়ুয়া মেয়েদের মধ্যে যথেষ্ঠ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে যা আশাব্যঞ্জক।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী, আইসিটি বিভাগের উপসচিব মাহবুবা পান্না, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সহ-সভাপতি লাফিফা জামাল, সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানসহ অনেকে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এই আয়োজনে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে বিডিওএসএন ও জাজিং প্লাটফর্ম হিসেবে রয়েছে কোড মার্শাল এবং সহযোগী আয়োজক হিসেবে ছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিক্ষা এর অারো খবর