ডিজিটাল ফাঁদ ‘ভ্যাট চেকার’ অ্যাপ
ডিজিটাল ফাঁদ ‘ভ্যাট চেকার’ অ্যাপ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৫-০৯ ০১:৪৩:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+


পণ্য কিনে ক্রেতা বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ করছেন, সঙ্গে সরকারকে দেবার জন্য দিচ্ছেন হিসেব অনুযায়ী ভ্যাট। কিন্তু বিক্রেতা সেই ভ্যাট সরকারকে না দিয়ে করছেন চুরি, ভরছেন নিজ পকেটে।

যখন ভ্যাট চুরির এমনই হিড়িক চলছিল সারাদেশে, তখন একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে চুরির কোটি কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে দিতে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে বাধ্য করেছেন একজন। বলছি জুবায়ের হোসেনের কথা, যিনি তৈরি করেছেন ভ্যাটচোর ধরার ডিজিটাল ফাঁদ ‘ভ্যাট চেকার’ মোবাইল অ্যাপ।

এই অ্যাপ বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা উদ্যোগ হবার সম্মান। গত ২৩ জুলাই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের তরুণ আইটি উদ্যোক্তাদের ‘ভ্যাট চেকার’ অ্যাপটি এমবিলিয়ন্থ অ্যাওয়ার্ড সাউথ এশিয়া ২০১৬ অর্জন করে। এছাড়া ব্র্যাক মন্থন ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডে ভ্যাট চেকার চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে।

সর্বশেষ এ বছরের ৪ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন অ্যাওয়ার্ডে পুনরায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভ্যাট চেকার। শুধু তাই নয়, ভ্যাট চেকার ইউরোপে দেশ অস্ট্রিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ তে বিশ্বের ১৭৮ দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।

যেকোনো কেনাকাটা করলে কিছু টাকা সরকারের কোষাগারে ভ্যাট হিসেবে জমা দিতে হয়। কিন্তু আমাদের দেওয়া ভ্যাট সরকারের রাজস্ব বোর্ডে সঠিকভাবে জমা হচ্ছে কি না, নাকি জনগণকে বোকা বানিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো তা হাতিয়ে নিচ্ছে। তা আমাদের কাছে অস্পষ্ট। আর এই অস্পষ্টতা থেকে জনগণকে বেরিয়ে আনতে এবং সরকারের সঠিক রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশি তরুণ আইটি উদ্যোক্তা জুবায়ের হোসেন (২২) ও আসিফ কামাল তুর্য (২২) এই মোবাইল অ্যাপটি তৈরি করেন।

ভ্যাট চেকার অ্যাপটি তৈরির প্রসঙ্গে জুবায়ের হোসেন রাইজিংবিডিকে জানান, খাবারের দোকানে বিল দিতে গিয়ে ভ্যাট নিয়ে অনেক বিড়ম্বনায় শিকার হয়েছি। বিক্রেতারা ক্রেতাদের উল্টা-পাল্টা ভ্যাট দেখায়, প্রশ্ন তুললে, খারাপ আচরণ করে। তখন মনে ভাবনা আসে, এমন কিছু করা যায় কিনা, যার মাধ্যমে ভ্যাট সঠিক ভাবে নিচ্ছে কিনা তা যাচাই করা যাবে।

যেভাবে কাজ করবে ভ্যাট চেকার
এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কাজ করার জন্য প্রথমে আপনাকে ‘ভ্যাট চেকার’ (Vat Checker) অ্যাপটি ইনস্টল করতে হবে। তারপর পণ্য বা সেবার গায়ে লেখা থাকা বিআইএন বা মূসক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নম্বরটি বিআইএন নম্বর দেওয়ার বক্সে টাইপ করতে হবে। এরপর চেক বাটনে ক্লিক করতে হবে। যদি প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সঠিক থাকে তাহলে তা প্রদর্শিত হবে। আর যদি সঠিক নিবন্ধন না থাকে তাহলে কোনো তথ্য দেখাবে না। সেক্ষেত্রে ভুয়া চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাপটির মাধ্যমেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা যাবে।

৮০ হাজার ক্রেতার হাতে ভ্যাট চেকার
অ্যাপটি তৈরির পর থেকে সচেতন গ্রাহকদের কাছে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার সচেতন গ্রাহক ব্যবহার করছেন ভ্যাট চেকার।

ভ্যাট চেকার অ্যাপ্লিকেশনের সফলতার বিষয়ে জুবায়ের বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং মূসক গোয়েন্দাদের সঙ্গে বেশ কিছু অভিযানে সরাসরি অংশ নিয়েছে ‘ভ্যাট চেকার’ টিম। চার থেকে পাঁচটি অভিযানে দেশের রাজস্ব এসেছে ত্রিশ কোটি টাকার উপরে এবং গত এক বছরে কয়েকশ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছে আমাদের দেশ। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভ্যাট ফাঁকির আলামত ধরিয়ে দিচ্ছে এই অ্যাপের মাধ্যমে। অভিযান পরিচালনা করছে এনবিআর। ‘ভ্যাট চেকার’ টিমকে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা এবং স্বীকৃতি দিয়েছে স্বয়ং রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।

নিজেদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এদেশের মানুষকে ডিজিটাল সেবা উপহার দেওয়ার জন্য আমরা আজীবন কাজ করে যাব।’

গুগল প্লে স্টোর থেকে ভ্যাট চেকার অ্যাপটি বিনা মূল্যে ডাউনলোড করা যাবে goo.gl/ojBZvB লিংক থেকে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর