সাকিবদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে মাশরাফির কুমিল্লা
সাকিবদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে মাশরাফির কুমিল্লা
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১২-১২ ১৯:৪৪:০৪
প্রিন্টঅ-অ+


মাশরাফি বিন মর্তুজার নিপুণ অধিনায়কত্বে রংপুর রাইডার্সকে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিপিএলের ফাইনালে উঠেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মাশরাফিদের দেয়া ১৬৪ রানের লক্ষ্য টপকাতে গিয়ে ৯১ রানে গুটিয়ে গেছে সাকিবদের ইনিংস।

স্কোর: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৬৩/৭ (২০ ওভার)
রংপুর রাইডার্স: ৯১/১০ (১৭ ওভার)
ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৭২ রানে জয়ী

এই জয়টি কুমিল্লা দলের জন্য অনেক বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলে জানালেন দলটির অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা খোদ নিজেই, ‘অনেক বড় রিলিফ। আমরা ফাইনালে খেলতে পারছি।’ শনিবার (১২ ডিসেম্বর) মিরপুরে বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে জয়ের পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই নিজেদের স্বস্তির কথা জানান মাশরাফি।

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর দু্ইটায় দিনের প্রথম ম্যাচে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন রংপুরের দলপতি সাকিব আল হাসান। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে কুমিল্লা ১৬৩ রান সংগ্রহ করে। রংপুরের হয়ে একাই ৫ উইকেট তুলে নেন থিসারা পেরেরা। আর কুমিল্লার হয়ে দারুণ অর্ধশতক তুলে নেন ইমরুল কায়েস। ১৬৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুর ১৭ ওভার ব্যাট করে মাত্র ৯১ রানেই গুটিয়ে যায়। রংপুরকে উড়িয়ে দিতে কুমিল্লার হয়ে ৪টি করে উইকেট নেন আসহার জাইদি এবং আবু হায়দার রনি।

এর আগে কুমিল্লার হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন ওপেনার ইমরুল কায়েস এবং লিটন দাস। ওপেনিং জুটিতে দারুণ শুরু করে ভিক্টোরিয়ান্স। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে এ দুই ওপেনার তুলে নেন ৪৬ রান। দলীয় পঞ্চম ওভারে আর সাকিবের করা প্রথম ওভারে ইমরুল শেষ দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকান। পরের ওভারে আফগানিস্তানের বোলার মোহাম্মদ নবীকেও পরপর দু’বার সীমানা ছাড়া করেন ইমরুল।

ইনিংসের ১১তম ওভারের শেষ বলে কুমিল্লার ৭৯ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন সাকলাইন সজীব। ওপেনার লিটন দাস ব্যক্তিগত ২৮ রান করে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন। আউট হওয়ার আগে ৩৭ বলে একটি বাউন্ডারিতে ইনিংস সাজান লিটন। এরপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ব্যাট হাতে নেমে পড়েন এবারের আসরে একটি দুর্দান্ত অর্ধশতক হাঁকানো কুমিল্লার দলপতি মাশরাফি। ইনিংসের ১৪তম ওভারের প্রথম বলে এক রান করে বিদায় নেন তিনি। থিসারা পেরেরার বলে রংপুরের দলপতি সাকিবের তালুবন্দি হন কুমিল্লার দলপতি।

তবে, ব্যাটিং ক্রিজের একপ্রান্ত ধরে রেখে কুমিল্লার রানের চাকা ঘোরাতে থাকেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। বাঁহাতি এ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইনিংসের ১৬তম ওভারে বিদায় নেন। পেরেরা নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ইমরুলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। তবে, বিদায়ের আগে ৪৮ বলে ৭টি চার আর দুটি ছক্কায় ইমরুল করেন ৬৭ রান। ৩৩ বল মোকাবেলা করে অর্ধশতক তুলে নেন তিনি।

একই ওভারে (১৬তম ওভারে) ইমরুলের পর ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলকে সাজঘরে ফেরান পেরেরা। এলবির ফাঁদে পড়েন শূন্যহাতে ফেরা রাসেল। ওভারের দ্বিতীয় বলে ইমরুল, পঞ্চম বলে রাসেলকে ফেরানো পেরেরা শেষ বলে বিদায় করেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদকেও। নিজের প্রথম বলেই এলবির ফাঁদে পড়েন শেহজাদ।

নিজের শেষ ওভারে (ইনিংসের ১৮তম ওভার) প্রথম বলে উইকেট পেলেই হ্যাটট্রিকের স্বাদ নিতে পারতেন লঙ্কান বোলার পেরেরা। প্রথম বলে উইকেট শিকার করতে না পারলেও সে ওভারেই অলোক কাপালিকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেটটি তুলে নেন পেরেরা। আল আমিনের ক্যাচে ফেরার আগে কাপালি ২ রান করেন।

শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে শুভাগত হোম স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন। ৫ বলে ১২ রান করে মোহাম্মদ নবীর বলে বিদায় নেন শুভাগত।

তবে, সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝেই ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন আসহার জাইদি। মাত্র ১৫ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন জাইদি। তার ব্যাট থেকে ৪টি চার আর দুটি ছক্কা আসে। এক রান করে অপরাজিত থাকেন আবু হায়দার।

রংপুরের হয়ে পেরেরা ৪ ওভারে ২৬ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট তুলে নেন। একটি করে উইকেট পান সজীব ও নবী। উইকেট শূন্য থাকেন স্যামি, সানি, সাকিব, আল আমিন। সাকিবের ৪ ওভার থেকে সর্বোচ্চ ৪২ রান তুলে নেন কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা।

১৬৪ রানের টার্গেটে রংপুরের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে আসেন লিন্ডল সিমন্স এবং সৌম্য সরকার। শুরুটা তারাও বেশ ভলোই করে। ওপেনিং জুটি থেকে এ দুই ব্যাটসম্যান তুলে নেন ৩৬ রান। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বিদায় নেন দুই ওপেনার। জোড়া আঘাত হানা আবু হায়দার রনির ওভারের তৃতীয় বলে সৌম্য আর চতুর্থ বলে সিমন্স ফেরেন। শুভাগতের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে সৌম্য ৮ বলে ৯ রান করেন। সিমন্স রনির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২০ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ২৫ রান করেন।

দলীয় ৩৬ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারানোর পর স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ৯ রান যোগ হতেই ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন এবং রংপুরের দলপতি সাকিব। দলীয় অষ্টম ওভারে এবারে জোড়া আঘাত হানেন আসহার জাইদি। সে ওভারের চতুর্থ বলে মিঠুন (৫) স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন। পরের বলেই সাকিবকে মাহমুদুল হাসানের হাতে ধরা দিতে বাধ্য করেন জাইদি। রংপুর দলপতি নিজের প্রথম বলেই বিদায় নেন (০)। তার বিদায়ে দলীয় ৪৫ রানেই রংপুর হারায় টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে।

পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে রংপুর ৩৯ রান তুললেও ১০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৯ রান।

রংপুরের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন মোহাম্মদ নবী। দলীয় ৬২ রানের মাথায় আফগানদের সেরা তারকা নবীকে ফিরিয়ে দেন মাশরাফি। শুভাগতের হাতে ধরা পড়ার আগে তার ব্যাট থেকে একটি করে চার ও ছক্কায় ১১ বলে ১২ রান আসে। দশম ওভারে নবী ফিরলে পরের ওভারের প্রথম বলেই রংপুরের ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরের পথ ধরেন জহুরুল ইসলাম (৯)। জাইদির তৃতীয় শিকারে আবু হায়দার ক্যাচ নিয়ে সহায়তা করেন।

শেষ ৮ ওভারে রংপুরের জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ১০০ রান, হাতে ছিল ৪টি উইকেট। ৭ ওভার বাকি থাকতে তা কমে আসে মাত্র দুই রান। ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে আন্দ্রে রাসেল বোল্ড করেন আল আমিনকে (৩)। ১৫তম ওভারে থিসারা পেরেরা (১১) বোল্ড হন আবু হায়দার রনির বলে। শেষ ৫ ওভারে রংপুরের দরকার হয় ৮১ রান। ১৬তম ওভারে জাইদির বলে বোল্ড হন ৬ রান করা ড্যারেন স্যামি।

কুমিল্লার হয়ে জাইদি ৪ ওভার বল করে মাত্র ১১ রান খরচায় তুলে নেন ৪টি উইকেট। ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে আরও ৪টি উইকেট দখল করেন আবু হায়দার। এছাড়া, মাশরাফি ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। ২ ওভারে ১৫ রান দিয়ে একটি উইকেট পান আন্দ্রে রাসেল। শুভাগত আর কুলাসেকারা উইকেট শূন্য থাকেন।

রংপুর একাদশ: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), সৌম্য সারকার, আরাফাত সানি, মোহাম্মদ মিঠুন (উইকেটরক্ষক), সাকলাইন সজীব, জহুরুল ইসলাম, আল-আমিন, মোহাম্মদ নবী, ড্যারেন স্যামি, থিসারা পেরেরা ও লিন্ডল সিমন্স।

কুমিল্লা একাদশ: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, শুভাগত হোম, মাহমুদুল হাসান, অলোক কাপালি, নুয়ান কুলাসেকারা, আন্দ্রে রাসেল, আহমেদ শেহজাদ, আসহার জাইদি ও আবু হায়দার রনি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর