ফাইনালে রিয়াদের বরিশাল
ফাইনালে রিয়াদের বরিশাল
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১২-১২ ১৯:৩৭:১৫
প্রিন্টঅ-অ+


মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বরিশাল বুলসের বিপক্ষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মাঠে নামে কুমার সাঙ্গাকারার ঢাকা ডায়নামাইটস। হাইভোল্টেজ এ ম্যাচে ১৮ রানের জয় তুলে রংপুরের বিপক্ষে খেলার টিকিট করে নিয়েছে বরিশাল বুলস।

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) এলিমিনিটর ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ঢাকার অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে গেইল-সাব্বির-মাহামুদুল্লাহর ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বরিশাল ১৩৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ঢাকার ইনিংস শেষ হয় ১১৭ রানে।

বরিশাল ইনিংসের প্রথম ওভারেই ঢাকার আইকন নাসির হোসেনের বলে ম্যালকম ওয়ালারের তালুবন্দি হন ওপেনার রনি তালুকদার (৪)। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭০ রান তুলে রানের চাকা সচল রাখেন ক্রিস গেইল ও সাব্বির রহমান (৪১)। বরিশালের হয়ে নিজের সর্বশেষ ম্যাচের ঝড়ো ইনিংস (৯ ডিসেম্বর, চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৪৭ বলে অপরাজিত ৯২) পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিতই দিচ্ছিলেন গেইল।

তবে অতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই গেইলকে ক্লিন বোল্ড করে স্বস্তি এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। দশম ওভারের তৃতীয় বলে আউট হওয়ার আগে ১৯ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন ক্যারিবীয় ‘ব্যাটিং দানব’।

দলের হয়ে সবোর্চ্চ ৪১ রান আসে সাব্বিরের ব্যাট থেকে। ১৩তম ওভারের মাথায় নাবিল সামাদের বলে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচে পরিণত হন জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য এ ব্যাটসম্যান। ১০ রান করে সাজঘরে ফেরেন পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা মেহেদি মারুফ।

শেষ ওভারের পঞ্চম বলে মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (৩৭)। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রায়াদ এমরিত ব্যক্তিগত ৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

ঢাকার হয়ে মুস্তাফিজুর দু’টি উইকেট লাভ করেন। একটি করে উইকেট নেন নাসির, নাবিল ও মোশাররফ হোসেন।

১৩৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিনও ঢাকার ওপেনিং জুটি দীর্ঘ হয়নি। দলীয় ১৩ রানের মাথায় কেভিন কুপারের বলে গেইলের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন আবুল হাসান। বিদায়ের আগে ১৪ বলে দুটি বাউন্ডারিতে ১১ রান করেন ঢাকার এ ওপেনার।

চতুর্থ ওভারে আবুল হাসানকে ফেরানো কুপার এক ওভার পর আবারো আক্রমণে এসে তুলে নেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজের উইকেটটি। মেহেদি মারুফের হাতে ধরা পড়ার আগে হাফিজের ব্যাট থেকে আসে এক রান। দলীয় ২৭ রানের মাথায় দুই উইকেট হারায় ঢাকা।

সাঙ্গার সাথে ১৭ রানের ছোট জুটি গড়ে বিদায় নেন ঢাকার আরেক ওপেনার ফরহাদ রেজা। অষ্টম ওভারে আল আমিনের বলে রনি তালুকদারের হাতে ধরা পড়েন ২০ রান করা ফরহাদ। তার ২০ বলের ইনিংসে ছিল একটি করে চার ও ছক্কা। ফরহাদের বিদায়ে ব্যাট হাতে নামনে ঢাকার আইকন ক্রিকেটার নাসির হোসেন।

এক ওভার পর ইনিংসের দশম ওভারে আবারো বোলিং আক্রমণে আসেন আল আমিন। ওভারের পঞ্চম বলে নিজের বলেই নিজেই ক্যাচ নিয়ে আল আমিন ফিরিয়ে দেন ঢাকার দলপতি সাঙ্গাকারাকে। ফেরার আগে লঙ্কান ব্যাটসম্যান করেন ১৪ বলে ১০ রান। দলীয় ৫২ রানে ঢাকা তাদের টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারায়।

আল আমিনের তৃতীয় শিকারে বিদায় নেন নাসির হোসেন। মোসাদ্দেকের সঙ্গে জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডে আরও ১৭ রান যোগ করেন নাসির। ১৪তম ওভারে আল আমিনকে তুলে মারতে গিয়ে মাহামুদুল্লাহ রিয়াদের তালুবন্দি হন ১৮ বলে ১৬ রান করা নাসির। তার বিদায়ে ঢাকা দলীয় ৬৯ রানের মাথায় পঞ্চম ব্যাটসম্যানকে হারায়।

এরপরই ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়ান ম্যালকম ওয়ালার। ইনিংসের ১৭তম ওভারে পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ সামির করা তৃতীয় বলে ওয়ালার ছক্কা হাঁকান। পরের বলে চার হাঁকিয়ে পঞ্চম বলে আবারো ছক্কা হাঁকান ওয়ালার। তবে, ব্যক্তিগত ইনিংস দীর্ঘ করতে পারেননি ওয়ালার। ইনিংসের ১৮তম ওভারে তাইজুল ইসলামকে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি সীমানায় মেহেদি মারুফের হাতে ধরা পড়েন ১০ বলে ১৮ রান করা ওয়ালার। সে ওভারের পঞ্চম বলে ওয়ালারকে ফিরিয়ে দিয়ে পরের বলেই তাইজুল বিদায় করেন ২৭ বলে ২৬ রান করা মোসাদ্দেক হোসেনকে।

১৯তম ওভারে কুপার ফিরিয়ে দেন ইয়াসির শাহকে (০)। শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন হয় ২২ রান। ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানে থেমে যায় ঢাকার ইনিংস।

বরিশালের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন আল আমিন ও কেভিন কুপার। দুটি উইকেট দখল করেন তাইজুল।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর