চুয়েটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শিক্ষা সমাপনী উৎসব
চুয়েটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শিক্ষা সমাপনী উৎসব
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৪-৩০ ১২:২৭:২৯
প্রিন্টঅ-অ+


চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

হঠাৎ করেই যেন চুয়েটের চিরচেনা শান্ত পরিবেশে ধারণ করে এক অচেনা রূপ। চারপাশে বিরাজ করছে উৎসব আর কোলহলমুখর পরিবেশ। প্রস্তুতি চলছে নানা আয়োজনের। চার বছর পূর্তিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উৎসবের চিত্র এটি।

ব্যাচের নাম ক্রমান্বয়। ‘গল্পের শেষ নয় , ইতিহাস ক্রমান্বয় ’ এ স্লোগাণকে সামনে রেখে বর্নাঢ্য আয়োজনে ‘র‌্যাগ ২০১৭’ উদযাপন করে ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা । প্রকৌশল শিক্ষাজীবনের সমাপনী কেক কাটার মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের পর্দা উঠে গত ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার যা শেষ হয় ৩০ এপ্রিল রবিবার ভোর রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা। এই তিনদিনেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও চট্টগ্রাম নগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে উৎসবটি।

উৎসবের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ র‌্যালীর মাধ্যমে প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। র‌্যালীটি কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে থেকে শুরু হয়ে গোলচত্তরে এসে শেষ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যলয়ের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে কেক কেটে উৎসবটির উদ্বোধন করেন চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম। প্রথম দিনের নানা আয়োজনের মধ্যে ছিলো বৃক্ষরোপন, রং-উৎসব আর সন্ধ্যায় ডিজে পার্টি। র‌্যাগের প্রথম দিনের মূল আকর্ষন ছিল ফ্ল্যাশ মব এবং আর ডিজে পার্টির সাথে সাথে রং উৎসব। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দৃষ্টিনন্দন এ ফ্লাশ মবটি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে। মবের তালে তালে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নেচে গেয়ে অঙ্গন মাতিয়ে রাখে সারাক্ষন। এর পরপরই শুরু হয় অনন্দ আর উচ্ছাসে ভরপুর রং উৎসবের। সাথে ছিল ডিজে মিউজিক। মুহূর্তের মধ্যেই রঙিন হয়ে যায় উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীর অবয়ব। এক রঙের বৃষ্টি যেন মুহূর্তেই রাঙিয়ে দিয়ে গেছে পুরো প্রাঙ্গন। রঙের খেলায় মত্ত সকল শিক্ষার্থী দেখে যেন মনে হয় সকল গ্লানি মুছে দিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া কিছু অতীতকে ছুড়ে ফেলে আগাম ভবিষ্যৎকে রঙিন করতে ব্যস্ত সবাই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ইতি টানা আনন্দ আর বন্ধুবান্ধবদের থেকে দূরে চলে যাওয়ার বেদনায় ছাপ লক্ষ করা যায় সবার চোখে-মুখে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুক্রবারের বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল ক্যাম্পাসে স্মৃতিচারণ ও সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত অবধি সাংস্কৃতিক আয়োজন। চুয়েটের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সৃষ্টি হয় এক মন মাতানো পরিবেশ।

শেষ দিন অর্থাৎ শনিবার রাতে চুয়েটের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আসর জমে এক মন মাতানো কনসার্টের । চুয়েট ও চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় দশ হাজার দর্শক শ্রোতা সমবেত হয় তাদের প্রিয় ব্যান্ড দলের গান শোনার উদ্দেশ্যে। বিকাল পাঁচটায় শুরু হয় কনসার্ট। শিরোনামহীন, মেঘদল, আর্বোভাইরাস ও পাওয়ারসার্জ সহ দেশের বিখ্যাত কয়েকটি ব্যান্ডদলের গানে মুখরিত হয়ে উঠে চুয়েট ক্যাম্পাস। ১২ ব্যাচের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ হোসাইন সাকিব বলেন, ‘আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ চারটি বছর আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটিয়েছি। চোখের পলকেই চারটি বছর চলে গেল। বিদায়ের কথা ভেবে যেমন খারাপ লাগছে আবার সবাইকে কাছে পেয়ে এক অদ্ভুত রকমের ভালো লাগা কাজ করছে। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের কাছে এ নিছক কোন উৎসব নয়। এ উৎসব ছিল শেষপ্রায় শিক্ষাজীবনের পর শুরু হতে যাওয়া কর্মজীবনের অনুপ্রেরণা।’

এবারের র‌্যাগ ডে এর টাইটেল স্পনসর আরামিট গ্রুপ। এছাড়া সহযোগী স্পনসর হিসেবে রয়েছে কেডিএস স্টিল ও ক্যাসকেড ইন্টারন্যাশনাল।


ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিক্ষা এর অারো খবর