এবার কৃত্রিম গর্ভের গবেষণা!
এবার কৃত্রিম গর্ভের গবেষণা!
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৪-২৮ ০২:১৫:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+


বিজ্ঞানীরা মায়ের গর্ভের মতোই কৃত্রিম গর্ভ নিয়ে গবেষণা করছেন। বিশ্বজুড়ে প্রিম্যাচিউর বা সময়ের অনেক আগে জন্ম নেয়া শিশুদের সঠিক চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে এ গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

কেননা প্রিম্যাচিউর শিশুদের ইনকিবিউটর বা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসা প্রদান করেও অনেক সময় বাঁচানো বা সুস্থ করা সম্ভব হয় না। তাই একেবারে মায়ের গর্ভের পরিবেশকে কৃত্রিমভাবে তৈরির জন্য কিছু বিজ্ঞানী গবেষণা চালিয়ে আসছিলেন।

তারা চাইছিলেন, একটি শিশু তার মায়ের গর্ভে যে তাপমাত্রায় বেড়ে ওঠে বা সেখানে যেভাবে শ্বাসকার্য চালিয়ে যায়, সেই একই প্রক্রিয়া যাতে মায়ের গর্ভের বাইরেও পাওয়া যায়। কেননা সময়ের আগে জন্ম নেয়া শিশুদের অনেক সময় অনেক ধরনের শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে দেখা যায়। তাই নেচার কমিউনিকেশনস এ প্রকাশিত একটি জার্নালে গবেষকরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, যার নাম দেয়া হয়েছে ওম্ব লাইক ডিভাইস বা গর্ভের মতো যন্ত্র।

গবেষকরা এই যন্ত্র ভেড়ার বাচ্চার ভ্রূণের ওপর প্রয়োগ করে দেখেছেন। সেখানে তারা দেখতে পেয়েছেন, মায়ের গর্ভে একটি ভ্রূণের ফুসফুস যেভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, তাদের আবিষ্কৃত যন্ত্রেও সেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞানীরা এটাকে একধরনের সফলতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এখনই এটি পুরোপুরি মানব গর্ভের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার যোগ্য না। তাছাড়া বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আমাদের উদ্দেশ্যও না মায়ের গর্ভের বিকল্প কিছু আবিষ্কার। এই আবিস্কারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, অপরিণত শিশুদের সুচিকিৎসা।

ড. এলান ফ্ল্যাক বলেন, কৃত্রিম গর্ভের ভিডিও দেখে আমরা আশাবাদী হতে পারি, তবে আমার বিশ্বাস এই যন্ত্র একদিন মায়ের গর্ভ এবং কৃত্রিম গর্ভের মাঝে সেতুবন্ধন গড়বে। এলান এই গবেষণা প্রতিবেদনের একজন সহলেখক।

ফ্ল্যাক আরো বলেন, আমরা যদি এই যন্ত্রের সাহায্যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মানব দেহের অঙ্গের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করতে পারি তবে তা একটি যুগান্তকারী ব্যাপার হবে এবং তা অনেক শিশুর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে।

ফ্ল্যাকের মতে, আগামী দশ বছরের ভেতর পৃথিবীর ক্লিনিকগুলো এই কৃত্রিম গর্ভ ব্যবহার করবে। তিনি বারবার একে মানব গর্ভের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের বিপক্ষে বলেছেন।

এটা ঠিক, প্রতিটি আবিস্কারের কিছু অপব্যবহার থেকেই থাকে। তাই এ ধরনের প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার হবে সেটাই কাম্য। পৃথিবীতে কৃত্রিমভাবে মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ধরনের গবেষণার অপব্যবহার হবে না, এটাই আবিষ্কারক এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাম্য।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বাস্থ্য এর অারো খবর