‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ রাতে স্থগিত
‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ রাতে স্থগিত
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৪-২৭ ০০:৩৪:৩২
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় বুধবার সন্ধ্যায় শুরু করা সোয়াত সদস্যদের চূড়ান্ত অভিযান- ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ দুই ঘণ্টা পর স্থগিত করা হয়েছে।

রাত ৯টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে সোয়াতের কর্মকর্তা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটের প্রধান উপপুলিশ কমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার জানান, রাতের মতো অপারেশন সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। সকালে আবার শুরু হবে।

তিনি জানান, ওই বাড়ির ভেতর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং চার থেকে পাঁচটি বোমার বিকট বিস্ফোরণও ঘটানো হয়েছে। বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়ায় বাড়িটির ভেতরের অবস্থা কী তা জানা যাচ্ছে না। জেনারেটর দিয়ে বাইরে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখনো অবস্থান নিয়ে আছেন।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি মোহাম্মদ আলী জানান, রাত সোয়া ৮টার দিকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ ওই বাড়ির ভেতর থেকে চারটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বিকেলে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসার পর উপজেলার শিবনগর-ত্রিমোহনী গ্রামে আমবাগান ঘেরা ওই বাড়ির কাছে পৌঁছান পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াতের সদস্যরা। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ওই বাড়ির দিক থেকে টানা গুলির শব্দ শুনতে পান ৫০০ গজ দূরে অবস্থানরত সাংবাদিকরা।

অপারেশন শুরুর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি আবদুল মান্নান বলেন, ‘সোয়াত সদস্যরা অপারেশন শুরু করেছেন। একতলা ওই বাড়ির ভেতরে নারী ও শিশুসহ চারজন আছে বলে আমরা ধারণা করছি। দিনে মাইকের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি।’

জেলার পুলিশ সুপার মুজাহিদুল ইসলাম জানান, সোয়াতের এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’।

অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুপুরে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি এনে রাখা হয় ঘটনাস্থলের কাছে। সকালেই ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। রাতে অভিযান চালানোর জন্য এনে রাখা হয় জেনারেটর।

এর আগে জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পেয়ে ভোরে উপজেলার শিবনগর-ত্রিমোহনী গ্রামে সাইদুর রহমান ওরফে জেন্টু বিশ্বাসের মালিকানাধীন ওই বাড়ি ঘিরে ফেলেন স্থানীয় পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম বলেন, ওই বাসা ঘিরে ফেলা হলে ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হয়। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। তবে সেখানে কী পরিমাণ বিস্ফোরক বা গোলাবারুদ আছে সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গোমস্তাপুর সার্কেলের এএসপি মাইনুল ইসলাম জানান, একতলা ওই বাড়িতে রফিকুল আলম আবু (৩০) নামের এক ব্যক্তি এবং তার স্ত্রী-সন্তানসহ চারজন থাকে বলে তাদের কাছে প্রাথমিক তথ্য রয়েছে। সকাল থেকে কয়েক দফা মাইকে তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। আশপাশের চারটি বাড়ির লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ সদস্যরা।

জননিরাপত্তার স্বার্থে শিবগনগর ও আশপাশের এলাকায় সকালে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় জানিয়ে শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সব ধরনের জমায়েত ও চলাচলে কড়াকড়ি থাকবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর