পুনরায় চালু সিটিং সার্ভিস
পুনরায় চালু সিটিং সার্ভিস
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৪-২০ ১৩:২৫:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীতে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলতা ঠেকাতে বন্ধ করে দেওয়া সিটিং সার্ভিস বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় চালু হয়েছে, চলবে আগামী ১৫ দিন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর বেশ কয়েকটি রুট ঘুরে পুনরায় সিটিং সার্ভিস বা গেটলক সার্ভিস চলতে দেখা গেছে।

সিটিং সার্ভিস বন্ধ করার ফলে যাত্রীসেবা না বেড়ে, উল্টো দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে ফের সিটিং সার্ভিস চালুর অনুমতি দেয় বিআরটিএ। শর্ত অনুসারে সিটিং সার্ভিস চালু থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে বিআরটিএ নির্ধারণ করা ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করা যাবে না। এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

তবে এ নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে পরিবহন মালিকদের নির্ধারণ করা তালিকা অনুযায়ী সিটিং সার্ভিসের ভাড়া আদায় করার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী প্রথম ৩ কিলোমিটারের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ টাকা। তবে এসব বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা।

বসুমতি পরিবহনের বাসে শেওড়া থেকে কালসী মোড় পর্যন্ত ২০ টাকা ভাড়া রাখা হচ্ছিল। এই পথের দূরত্ব ৬ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৭০ পয়সা হিসেবে ভাড়া ১০ টাকা ২০ পয়সা হয়। ৫ কিলোমিটার পথে ভাড়া হওয়ার কথা ৮ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু আলিফ পরিবহনের বাসে আগারগাঁও থেকে মহাখালী পর্যন্ত ভাড়া রাখা হচ্ছে ২০ টাকা।

বাংলামোটর থেকে মালিবাগ স্বাধীন পরিবহনে ভাড়া রাখা হচ্ছে ১০ টাকা। যেখানে দূরত্ব মাত্র দূরত্ব ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার। মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে জিগাতলা মোড় পর্যন্ত রাজাসিটি বাসে ভাড়া রাখা হচ্ছে ১৫ টাকা। একই জায়গায় মালঞ্চ বাসে রাখছে ২০ টাকা।

এদিকে সিটিং সার্ভিস পুনরায় চালুর বিষয়ে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা নুরুজ্জমান জানান, মালিকদের সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত মূলত বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়ার কৌশল। কিছুদিন পর এমনিতেই ভাড়া বাড়িয়ে পরিবহন কোম্পানিগুলো পুনরায় সিটিং সার্ভিস চালু করতো।

কেউ কেউ আবার সিটিং সার্ভিস চালু হওয়াতে খুশি। এমনই একজন বারডেম হাসপাতালের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘ভাই ৫-৬ টাকা বেশি দিয়ে গন্তব্যে যেতে রাজি, তবুও হয়রানি চাই না। লোকাল করে কি লাভ হয়েছিল? ভাড়াতো আগের মতোই নিত। রাস্তায় বাস বন্ধ করে রেখেছিল। অনেকক্ষণ পর একটা আসলে তার মধ্যে ঠেসে ঠেসে যাত্রী তুলত। আমরা যারা সিটিং সার্ভিস বাসে উঠতাম, তারা জেনে-বুঝেই উঠতাম। সামনে দিয়ে লোকাল বাস অনেক সময় খালি চলে যেত, তবুও অপেক্ষা করতাম সিটিং সার্ভিসের জন্য। ’

এদিকে সিটিং সার্ভিস ১৫ দিন পর বন্ধ হবে কি না? এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে যদি সিটিং সার্ভিস চালু রাখতে হয় এবং যাত্রীরা যদি চান আমরা তাহলে সিটিং সার্ভিস চালাব। আর যদি এটি চালানো হয় তাহলে বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

একই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক জানান, সিটিং সার্ভিস বন্ধ হবে না। হয়তবা নাম পরিবর্তন হতে পারে। আসলে ১৫ দিন সময় নেওয়ার কারণ হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে বিআরটিএর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হবে কীভাবে এই সিটিং সার্ভিস পরিচালনা করা যায়। তবে আগের মত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর