আলোচিত বাসযোগ্য গ্রহ নিয়ে দুঃসংবাদ
আলোচিত বাসযোগ্য গ্রহ নিয়ে দুঃসংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৪-১০ ০১:০২:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+


সৌরজগতের বাইরে সম্প্রতি আবিষ্কৃত ৭টি গ্রহ খুব আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। কারণ এই গ্রহগুলোর আকার এবং ভর মোটামুটি আমাদের পৃথিবীর মতোই।

খুবই শীতল ও ক্ষুদ্রাকৃতির একটি নক্ষত্র ‘টিআরএপিপিআইএসটি-১’ কে আবর্তিত হওয়ায় গ্রহগুলোতে তরল পানি ও প্রাণের উপস্থিতির জোড়ালো সম্ভাবনা রয়েছে। পৃথিবী থেকে মাত্র ৩৯ আলোবর্ষ দূরের এই গ্রহগুলোর আবহাওয়ার তাপমাত্রা পৃথিবীর মতোই।

কিন্তু একদল গবেষকের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর জানা গেল ভিন্ন কথা। এটাকে যতটা বসবাস উপযোগী মনে হচ্ছিল এটা ততটাও বসবাস উপযোগী নয়।

বিশেষ করে ‘টিআরএপিপিআইএসটি-১’ নক্ষত্রটির ৭টি গ্রহের মধ্যে যে ৩টি গ্রহকে সবচেয়ে বাসযোগ্য ও প্রাণের বিকাশে সহায়ক হিসেবে মনে করা হয়েছিল, সেই ৩টি গ্রহেই ভয়ংকর ম্যাগনেটোস্ফিয়ার রয়েছে বলে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় বলা হয়েছে। অর্থাৎ আমরা এখনো বসবাসের অনুপযোগী একসেট গ্রহের দিকেই চেয়ে আছি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান ভিদার নেতৃত্বে একটি দল হাঙ্গেরিতে কনকলি অবজারভেটরির মাধ্যমে নতুন আবিষ্কৃত ‘টিআরএপিপিআইএসটি-১’ এর গ্রহগুলোর লুমিনারি প্যাটার্ন নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। তারা এজন্য নাসার কে২ মিশনের ফটো ম্যাট্রিক তথ্যগুলো ব্যবহার করেছেন। যা কিনা কেপলার টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া।

তারা ৮০ দিনের পর্যবেক্ষণ কালে প্রায় ৪২টি উচ্চ শক্তিসম্পন্ন তরঙ্গের বিস্তরণ লক্ষ্য করেছেন তাদের মধ্যে বেশ কিছুর আলাদা আলাদা চুড়া রয়েছে অর্থাৎ একই তরঙ্গের ভিন্ন ভিন্ন বিস্তার লক্ষ্য করেছেন।

এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী যে বিকিরণটি তারা লক্ষ্য করেছেন, সেটি আমাদের সূর্যের সব থেকে বড় বিকিরণের ঘটনা যা কিনা ঘটেছিল ১৮৫৯ সালে। আর সূর্যের এই ঘটনা অর্থাৎ কারিংটন ইভেন্ট যদি এখন ঘটতো তবে গ্লোবাল কমিউনিকেশন সিস্টেম একেবারেই ভেঙে পড়তো।

কিন্তু প্রশ্ন হল, পৃথিবী যদি এই কারিংটন ইভেন্ট সহ্য করতে পারে তবে কেন ‘টিআরএপিপিআইএসটি-১’ এর কথিত বাসযোগ্য ৩টি গ্রহের অ্যালিয়েনরা পারবে না। কারণ প্রতি ২৮ ঘণ্টা পর পর সেখানে সৌর ঝড়ের ন্যায় বিকিরণ হয়। আর সেগুলো পৃথিবীতে আঘাত করা সৌর ঝড়গুলোর তুলনায় শত থেকে হাজার গুণ শক্তিশালী।

পৃথক এক গবেষণায় দেখা যায়, এমন শক্তিশালী সৌর ঝড়কে সামলে আবার আগের পরিবেশে ফেরত আস্তে প্রায় ৩০ হাজার বছর সময়ের প্রয়োজন আর সেখানে মাত্র ২৮ ঘণ্টা ব্যবধানে যদি আবার সৌর ঝড় হয় তবে তা সামলে ওঠা সেখানকার পরিবেশের পক্ষে কিংবা যদি কোনো প্রাণি যদি থেকেও থাকে তাদের পক্ষে অনেকটাই অসম্ভব।

শুধু তাই নয় ‘টিআরএপিপিআইএসটি-১’ এর গ্রহগুলো এর নক্ষত্র থেকে খুবই কাছের। যার কারণে এই বিকিরণ উপেক্ষা করে টিকে থাকা বেশ কঠিন। এ ব্যাপারে গবেষক দল জানান ‘এই সৌর ঝড়ের কারণে ‘টিআরএপিপিআইএসটি-১’ এর গ্রহগুলোর জন্য প্রাণ ধারণ করা বেশ কঠিন যেহেতু এখানের পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতে থাকে।’

তবে আশার কথা হল, যদি ‘টিআরএপিপিআইএসটি-১’ এর গ্রহগুলোর ১০ থেকে ১০০ গাউস এর কাছাকাছি ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগনেটোস্ফিয়ার থাকে তবেই এখানে এই বিকিরণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ার এর ক্ষমতা মাত্র ০.৫ গাউস।

যদিও এই গবেষণাটি এখনো স্বীকৃতি পায়নি। গবেষক দল এই গবেষণা পত্রটি অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে রিভিউ এর জন্য জমা দিয়েছে। ফলে বর্তমান গবেষণার ফলাফল পরিবর্তন হতে পারে। দেখা যাক কি হয়। আপনি চাইলে অনলাইনে এই গবেষণাপত্রটি পড়ে নিতে পারেন। লিংক: https://arxiv.org/abs/1703.10130।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর